দ.আফ্রিকায় বন্দিদশা থেকে পালিয়ে বাঁচলেন যুবলীগ নেতা

ফারুক আস্তানা
ফারুক আস্তানা ফারুক আস্তানা , দক্ষিণ আফ্রিকা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ০২:২৭ এএম, ০৭ এপ্রিল ২০২১

দক্ষিণ আফ্রিকায় বসবাসকারী বাংলাদেশি ব্যবসায়ী ও যুবলীগের প্রচার সম্পাদক সাঈদুল হককে (৩২) তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে অপহরণকারীরা অস্ত্রের মুখে গাড়িতে উঠিয়ে নিয়ে যায়। ঘটনার পর আহত অবস্থায় তিনি পালিয়ে বেঁচে ফিরেছেন।

৫ এপ্রিল (সোমবার) সকাল নয়টায় জোহানেসবার্গের রেন্ডফন্টিনে নিজ দোকানে ঢুকে অপহরণকারী তিন কৃষ্ণাঙ্গ যুবক সাঈদুল হকের হাতে কোপ ও মাথায় আঘাত করে টেনে হিঁচড়ে গাড়িতে তুলে নিয়ে যায়।

এর কয়েক ঘণ্টা পর পুলিশের সহযোগিতায় জোহানেসবার্গের সুয়েটোর একটি বাড়ির দেয়াল টপকে পাশের বাসার মানুষদের সহযোগিতায় তিনি বেঁচে ফিরেছেন। তিনি বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছেন। তার দেশের ফেনী জেলায়।

এর আগে, ২৯ ও ৩০ মার্চ (মঙ্গলবার) সকালে দুইদিনে দুইবার সাঈদুল হককে (৩২) তার বাসা থেকে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে যাওয়ার পথে একই এলাকার রাস্তা থেকে ধরে মাইক্রোবাসে তুলে নেয়ার চেষ্টা করা হয়। সেই সময় দৌড়ে পালিয়ে বাঁচেন সাঈদুল হক।

এ ঘটনায় সাঈদুল হক স্থানীয় ক্রুগারডর্প পুলিশ স্টেশনে মামলা দায়ের করা করেছে। (মামলা নম্বর Krugersdorp ref nr CAS 719/3/2021)। মামলা দায়েরের চারদিনের মাথায় অপহরণের শিকার হন তিনি।

ওই ঘটনায় তিনি দক্ষিণ আফ্রিকা প্রিটোরিয়াস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস হাইকমিশনার বরাবর লিখিত ঘটনার বিষয়ে অবহিত করে ঘটনাটি গুরুত্ব সহকারে দেখার আহ্বান জানিয়ে, নিজের জীবনের নিরাপত্তা চেয়েছিলেন।

বর্তমানে সাঈদুল হককের ফোন নম্বর বন্ধ থাকায় তার সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি। এর আগে, ২৯ ও ৩০ মার্চের তুলে নেয়ার চেষ্টার ঘটনায় সাইদুল হকের সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেছিলেন, দুই দিনে দুইবার আমাকে তুলে নেয়ার চেষ্টা করেছে কৃষ্ণাঙ্গ যুবকদের দল।

তিনি বলেন, আমি দীর্ঘ এগারো বছর প্রবাস জীবনে কারো সঙ্গে রাজনৈতিক বা টাকা পয়সা নিয়ে ঝামেলা তো দূরের কথা কারো সাথে কথা কাটাকাটিও হয়নি।

যুবলীগ নেতা সাইদুল হককে অপহরণ এবং উদ্ধারের ঘটনায় দক্ষিণ আফ্রিকা আ.লীগের সভাপতি ডা. লুৎফর রহমান রূপন বলেন, আল্লাহর কাছে হাজার শুকরিয়া জানাচ্ছি যে, সাঈদ খোকন তার সাহসীকতা ও বুদ্ধিমত্তার জন্য বেঁচে এসেছে।

তিনি প্রবাসীদের উদ্দেশ্যে বলেন, সবাইকে সচেতন থেকে এ ধরনের ঘটনাগুলোর পেছনে যে বা যারা কাজ করছেন তাদের চিহ্নিত করে দূতাবাস বরাবর তথ্য সরবরাহ করে আইনের আওতায় আনতে সবাই সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

এমআরএম

প্রবাস জীবনের অভিজ্ঞতা, ভ্রমণ, গল্প-আড্ডা, আনন্দ-বেদনা, অনুভূতি, স্বদেশের স্মৃতিচারণ, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক লেখা পাঠাতে পারেন। ছবিসহ লেখা পাঠানোর ঠিকানা - [email protected]