১৮ বছর ধরে রোজা রাখছেন আবুধাবিপ্রবাসী চন্দ্রশেখরন

মুহাম্মাদ ইছমাইল
মুহাম্মাদ ইছমাইল মুহাম্মাদ ইছমাইল , আরব আমিরাত প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ০৭:৩২ পিএম, ১৭ এপ্রিল ২০২১

সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে বসবাসরত চন্দ্রশেখরন পরমবাথ অমুসলিম হয়েও ১৮ বছর ধরে প্রতি রমজানে রোজা রাখছেন। ভারতীয় এই প্রবাসী রোজা রেখে মুসলিম সম্প্রদায়ের সঙ্গে ঐক্য প্রকাশ করছেন। এই রোজা রাখাকে তিনি বিভক্ত ও অসহিষ্ণু এই বিশ্বে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হিসেবে দেখেন।

চন্দ্রশেখরন বলেন, ভারত ও বিশ্বে ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা ও বিদ্বেষ বাড়ছে। আমি সবসময় বিশ্বাস করি যে আমাদের অবশ্যই কোনও কুসংস্কার এবং বৈষম্য ছাড়াই অন্যের জন্য ভালোবাসা, সম্প্রীতি, শান্তি এবং বিবেচনার প্রচার করা।

তিনি বলেন, ‘রমজানের সময় রোজা আমার ব্যক্তিগত বিশ্বাসকে সমর্থন করার প্রতীকী উপায়। আমি এমন একটি বিশ্বের জন্য আশা করি যেখানে আমরা ঘৃণা নয় ভালোবাসা ছড়িয়ে দেব। সুতরাং, যখন বিশ্বের বিশাল মুসলিম জনগোষ্ঠী ঐক্যবদ্ধভাবে এক মাসের জন্য রোজা পালন করে, আমিও তাদের সাথে যোগ দিয়েছি। আমি মনে করি এটি চিন্তার বিশুদ্ধতা বজায় রাখার সেরা উপায়। আমি আমার সংকল্পে অবিচল। আমি যতক্ষণ পারি প্রতি রমজানে রোজা রাখব।’

ভারতের মালাপ্পুরাম জেলা থেকে আসা ৫৮ বছর বয়সী চন্দ্রশেখরন গত ৩০ বছর ধরে আবুধাবিতে রয়েছেন। রমজানের সময় তিনি কখন থেকে রোজা পালন শুরু করেছিলেন তা তিনি নিশ্চিত নন, তবে স্মরণে রেখেছেন এটি ২০০২ বা ২০০৩ সালের।

চন্দ্রশেখরন আরো বলেন, রমজান ছাড়াও আমি প্রায়শই সপ্তাহে দু’দিন উপবাস করি। গত কয়েক বছর ধরে আমি সকাল ৪.৩০ মধ্যে জেগে উঠে মর্নিং ওয়াক করতে যাই। এটি ব্যায়ামের একটি ভাল ফর্ম। সকাল ৬টা নাগাদ আমি সতেজ এবং সামনে আমার দিনের জন্য প্রস্তুত হই।

রমজানে রোজা রেখে আমি ১০ কেজি পর্যন্ত ওজন কমিয়েছি। আমার রক্তচাপ এবং ডায়াবেটিস স্বাভাবিক। আমি নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করি। আমার কোনও স্বাস্থ্য সমস্যা নেই। বছরের পর বছর ধরে আমি আমার মাংস খাওয়ার সীমাবদ্ধ করেছি এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রে নিরামিষ খাবার এবং ফলমূল রয়েছে।

চন্দ্রশেখরনের স্ত্রী এবং দুই কন্যা রয়েছে কেরালায়। তিনি বলেন, আমার দুই মেয়েই পড়াশোনা করছে। তারা আমার স্বাস্থ্য এবং ইফতার সম্পর্কে খোঁজখবর করে।

চন্দ্রশেখরণ সামাজিকভাবে সক্রিয় ব্যক্তি। কেরালা সোশ্যাল সেন্টার এবং যুওয়াকালা সংহতির সাংস্কৃতিক ফোরামের মতো সমিতিগুলিতে তিনি বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি আবুধাবিতে একজন সরকরি কর্মচারী হিসেবে কর্মরত।

অবসর নেয়ার পর আমি দেশে ফিরব। আমি আমার বিশ্বাস অনুসরণ ও প্রচার চালিয়ে যাবেন বলে জানান চন্দ্রশেখরন।

এমআরএম/এমকেএইচ

প্রবাস জীবনের অভিজ্ঞতা, ভ্রমণ, গল্প-আড্ডা, আনন্দ-বেদনা, অনুভূতি, স্বদেশের স্মৃতিচারণ, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক লেখা পাঠাতে পারেন। ছবিসহ লেখা পাঠানোর ঠিকানা - [email protected]