দূতাবাসের এক নোটিশে আটকেপড়া প্রবাসীদের আহাজারি!

প্রবাস ডেস্ক প্রবাস ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৫:৫৪ পিএম, ১৮ এপ্রিল ২০২১

ওমর ফারুক হিমেল

বাংলাদেশ দূতাবাস সিউলের একটি ফেসবুক নোটিশ নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। কোরিয়াজুড়ে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় বইছে। শুক্রবার (১৬ এপ্রিল) বেলা ১১টায় দূতাবাসের পেজে একটি নোটিশ শেয়ার করা হয়।

নোটিশে বাংলাদেশ থেকে দক্ষিণ কোরিয়ায় যাওয়া যাত্রীদের মধ্যে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় বাংলাদেশি নাগরিকদের ওপর ভিসা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে দেশটির সরকার। শুক্রবার দেশটিতে থাকা বাংলাদেশ দূতাবাস এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

এতে বলা হয়, ‘বাংলাদেশ থেকে দক্ষিণ কোরিয়ায় আগত যাত্রীদের মধ্যে কোভিড-১৯ পজিটিভ হিসেবে শনাক্তের হার বৃদ্ধি পাওয়ার প্রেক্ষিতে দক্ষিণ কোরিয়া সরকার বাংলাদেশি নাগরিকদের উপর ভিসা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। ১৬ এপ্রিল থেকে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে।’

পোস্টটি মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায় এবং অনেকে বিভিন্ন মন্তব্য করতে থাকেন। পোস্টটিতে লাইক দিয়েছেন, ২৯৫ জন। কান্নাজড়িত প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন ২৭৫ জন। লাভ দিয়েছেন দুইজন। অন্য ২২ জন ভিন্ন ভিন্ন প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন। শেয়ার হয়েছে ১২১, কমেন্ট করেছেন ১৩৮ জন। অধিকাংশ কমেন্টে ইপিএস কর্মীদের হতাশাযুক্ত শব্দ ছিল।

এদিকে দূতাবাসের ওই পোস্টের নোটিশটি বিভিন্ন ফেসবুক গ্রুপে দিয়েছেন অনেকেই। কেউ কেউ দূতাবাস, বোয়েসেল নিয়েও তাদের মন্তব্য করছেন।

শাহীন হোসাইন নামে এক রি-এন্ট্রি কমিটেড কর্মী লেখেন, ‘আপনাদের দায়িত্ব কি? দেড় বছর ধরে অপেক্ষা করে রেখে শেষ পর্যন্ত আমাদেরই হতাশায় ডুবালেন!’

‘কর্মীদের দোষ বা দায়ভার কি যত তাড়াতাড়ি সম্ভব যে কমিটেড কর্মীগুলো ভিসা দেয়ার ব্যবস্থা নিন।’

মিয়া মোহাম্মদ বাবুল নামে একজন লেখেন, ‘দয়া করে কোরিয়ার ভিসা নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার ব্যবস্থা করুন।’

মেঘ বালক নামে একজন লেখেন, ‘আমি কমিটেড ওয়ার্কার। দেশে এসেছি প্রায় ১৫ মাস হলো। কোরিয়া যাব ভেবে কিছুই করা হয়নি এই ১৫ মাস। কিছু দিন আগে আমার নাম আসে বোয়েসেলে অনেক খুশি হয়েছিলাম। আজ নিষেধাজ্ঞা দেখে অনেক খারাপ লাগছে।’

সুমন আহমেদ নামে এক কর্মী লেখেন, ‘আমাদের দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থা কতটা নিম্নমানের এর দ্বারা প্রমাণিত হয়!
আবারো কপাল পুড়ল ইপিএস যোদ্ধাদের।’

শাকিল মাহবুব নামে একজন লেখেন, ‘একটু বিষ দেন আমাদের আমরা খেয়ে মরে যাই। না হয় আমাদের সিসিভিআই হয়ে আছে যাদের একটি বছর ধরে আমাদের দোষ কোথায় বলেন।’

রনি জামান নামে একজন লেখেন, ‘অনেক কিছু বলার ছিল। অনেক কিছু বলার আছে কিন্তু বলতে পারি না। তারপরেও কিছু কথা না বললে, বিবেকের কাছে ছোট হয়ে যেতে হয়। আচ্ছা, কোরিয়াতে কি হাজার হাজার লোক যাচ্ছে এখন? যে এত লোকজন যাওয়ায় আপনারা তাদের সবকিছু কন্ট্রোল করতে পারছেন না, যে কারণে হয়তো দু’একজন পজিটিভ রোগী বের হয়ে যাচ্ছে।’

তিনি আরও লেখেন, ‘আরে ভাই লোকজন এখন যেতে পারছেই হাতে-গোনা দু-চারজন। এই দু-চারজন লোককে দায়িত্ব নিয়ে পাঠাইতে পারেন নাই। ভিসা ইস্যু হওয়ার পরেও ফ্লাইট জটিলতায় হাজার হাজার কর্মী যখন কোরিয়ায় যেতে পারছে না, সেখানে এই জরুরি মুহূর্তে কারা যাচ্ছে তাইলে কোরিয়ায়?’

jagonews24

‘কারা গিয়ে করোনা পজিটিভ হচ্ছে? কিভাবে যাচ্ছে এরা? এরা ভি আই পি হউক, স্টুডেন্ট হোক, বিজনেস ম্যান বা ওম্যান হোক, সেটা বড় কথা নাতো। কথা হইলো, এরা কি আইনের ঊর্ধ্বে?’

‘পরপর দুইবার ভিসা নিষেধাজ্ঞা পড়ায় আপনাদের কি লজ্জা করে না একটুও? নাকি লজ্জা পাবার মতো লজ্জাও অবশিষ্ট নাই এখন আপনাদের?’

‘হাজার হাজার ছেলে-মেয়েদের স্বপ্নের কফিনে প্যারাক ঠুকে দিচ্ছে যারা বারবার, তাদের প্রত্যেককে জবাবদিহি তার আওতায় আনা উচিত।’

ফয়সাল মনসুর নামে আটকেপড়া একজন লেখেন, ‘বোয়েসেলের সকল সরকারি কর্মচারীরা ভাবছে তারা যা করবে তাই হবে। তারা এটা জানে না যে জনগণ চাইলে সবকিছু করতে পারে। বাংলাদেশের প্রত্যেকটা অঞ্চলে আমরা যারা ইপিএস শিক্ষার্থী রয়েছি। আমরা আজও ভদ্র আছি বলে আপনারা এখনও নাকে তেল দিয়ে ঘুমাচ্ছেন।’

‘তবে এটা মনে রাখবেন ধৈর্যের একটা সীমা থাকে অন্যান্য দেশে যাত্রীরা ঠিকই যাচ্ছে আমরা এখনো ভিসা নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই আছি।’

মোশাররফ হোসেন নামে একজন রি-এন্ট্রি কমিটেড কর্মী লেখেন, ‘আপনারা কোরিয়ান সরকারকে যেসব অঙ্গীকার করছিলেন সেগুলো যদি ঠিকভাবে পালন করতেন তাহলে এই নিষেধাজ্ঞা আসত না। এইবার কি বলে কোরিয়ান সরকারকে বোঝাবেন আপনারা। ৭০০ এর বেশি কমিটেড দেশে আটকে আছে। ৫ বছর শেষ করে ভালোভাবে দেশে ফিরে আসাটাই কি এদের কাল হলো।’

সাকিব খান নামে একজন লেখেন, ‘যারা গেছে করোনা পজিটিভ নিয়ে। কিভাবে গেলো এদেরকে উচিত দেশে পাঠিয়ে দেয়া। এরা ভবিষ্যৎ ছাত্র-ছাত্রীদের সুযোগ নষ্ট করে দিলো।’

মিথুন নামে একজন ফেসবুকে লেখেন, ‘ভিসা নিষেধাজ্ঞার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ বৈষম্যের শিকার কিনা? অন্য দেশ থেকে কোরিয়াতে যাওয়া মানুষের মধ্যে কোভিড পজিটিভ শনাক্ত হচ্ছে। কিছু কিছু দেশ বাংলাদেশের চেয়েও সংখ্যা বেশি। তাহলে বাংলাদেশের ক্ষেত্রে বারবার নিষেধাজ্ঞা কেন?‘

‘আর এর প্রভাব বারবার কেন ইপিএসের উপর পড়ছে? ইপিএস কর্মীদের আজ এক বছরের উপরে কোনো ফ্লাইট নাই। তাহলে এর দায় ইপিএস কর্মীরা কেন নিবে? সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানাই বিশেষ নিয়মে বিশেষ ফ্লাইটে ইপিএস কর্মীদের পাঠানোর ব্যবস্থা করা হোক।’

এমআরএম/জিকেএস

প্রবাস জীবনের অভিজ্ঞতা, ভ্রমণ, গল্প-আড্ডা, আনন্দ-বেদনা, অনুভূতি, স্বদেশের স্মৃতিচারণ, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক লেখা পাঠাতে পারেন। ছবিসহ লেখা পাঠানোর ঠিকানা - [email protected]