দক্ষিণ আফ্রিকায় বাংলাদেশির রহস্যজনক মৃত্যু

ফারুক আস্তানা
ফারুক আস্তানা ফারুক আস্তানা , দক্ষিণ আফ্রিকা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ০৬:২২ পিএম, ০৬ মে ২০২১ | আপডেট: ০৮:৫০ পিএম, ০৬ মে ২০২১
মৃত আরমান মিয়া

দক্ষিণ আফ্রিকায় এক বাংলাদেশির মৃত্যু নিয়ে রহস্য সৃষ্টি হয়েছে। যদিও আরমান মিয়ার (২৮) মৃত্যুকে প্রেম সম্পর্ক নিয়ে পরিবারের সঙ্গে মনোমালিন্য বলে প্রচার করা হয়েছে। আরমান মিয়ার (২৮) পরিবার তা প্রত্যাখান করেছেন।

আরমান মিয়া হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর উপজেলার গোয়ালনগর ইউনিয়নের সোহরাব মিয়ার ছেলে। তিনি দেশটির জোহানেন্সবার্গের আলবার্টনে বাংলাদেশি মালিকানাধীন দোকানে চাকরি করে আসছিল।

৬ মার্চ (বৃহস্পতিবার) রাতে কোনো একটা সময় বাথরুমের গিয়ে গলায় ফাঁস দেয়া পা ফ্লোরের সঙ্গে লাগানো অবস্থায় মৃত আরমান মিয়াকে পাওয়া যায়। পরবর্তীতে জানাজানি হলে পুলিশ এসে আরমানের মৃতদের উদ্ধার করে থানায় নিয়ে অপমৃত্যু হিসেবে মামলা দায়ের করে।

ঘটনা সূত্রে প্রবাসীদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, আরমান মিয়ার সঙ্গে তার এলাকার একটি মেয়ের প্রেম সম্পর্ক চলে আসছিল। মেয়ের বয়স বেশি হওয়ায় পরিবার এই সম্পর্ক মেনে নেয়নি। তা নিয়ে পরিবারের সঙ্গে ঝামেলা সৃষ্টি হয়। হতাশা থেকে আরমান মিয়া আত্মহত্যা করতে পারেন বলে ধারণা তাদের।

আরমান মিয়ার পিতা সোহরাব মিয়া (৭০) সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি বাংলাদেশ থেকে জানান, তার দশ ছেলে-মেয়ের মধ্যে আরমান মিয়া সবার ছোট। সে ২০১৯ দক্ষিণ আফ্রিকায় যায়। বড় দুই ছেলে দেশে কৃষিকাজ করছে। বোনরা সবাই বিবাহিত, সংসার করছে। তাদের কোনো ধার-দেনা ছিল না।

তিনি জানান, দক্ষিণ আফ্রিকায় আসার পর বাবু নামের এক দুঃসম্পর্কের আত্মীয়র দোকানে চাকরি করত। দুইমাস আগে বাবু অন্য এক বাংলাদেশির দোকানে চাকরি দেয়। দুইমাস চাকরি করার পর বাবু আবার তাকে দোকানে ফিরে যেতে বললে আরমান যেই দোকানো চাকরি করছে সেখানেই ভালো আছে বলে বাবুর কাছে যেতে অপারগতা প্রকাশ করে।

তিনি আরও জানান, অন্যদিকে বাবুও আরমানকে তার দোকানে ফিরে যেতে চাপ দিয়ে আসছিল এসব নিয়ে তাদের মধ্যে মনোমালিন্য চলছিল। এই নিয়ে আরমান চাপে ছিলেন বলে জানান তার পিতা সোহরাব মিয়া।

তিনি জানান, আরমান গতকাল বুধবার দেশে টাকা পাঠিয়ে বাবাকে বলেছিলেন চোখের অপারেশন করে নেয়ার জন্য।

কোনো মেয়ে সঙ্গে প্রেম সম্পর্ক নিয়ে পরিবার কাছে থেকে খারাপ ব্যবহার পেয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার এক নাতির মাধ্যমে জানতে পারি আরমান একটা মেয়ে সাথে অনেক সময় ধরে ফোনে কথা বলতো জানতাম তবে এসব নিয়ে আমাদের সঙ্গে কোনো রকম কথা হয়নি।

তিনি বলেন, তবে কেন কীভাবে মৃত্যু হলো তা নিয়ে পিতা সোহরাব মিয়ার হতাশা প্রকাশ করে কান্না জড়িত কণ্ঠে বলেন, দক্ষিণ আফ্রিকায় কেন কিভাবে মারা গেল সেটা তো দেশে থেকে কিছুই বুঝতে পারছি না।

কমিউনিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আরমান মিয়ার পরিবারের সাথে যোগাযোগ করে বর্তমানে ঢাকা-জোহানেসবার্গ বিমান চলাচল বন্ধ থাকায়, লাশ দেশে পাঠানো সম্ভব না হওয়ায় তাকে দক্ষিণ আফ্রিকায় দাফন করার প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।

এমআরএম/জিকেএস

প্রবাস জীবনের অভিজ্ঞতা, ভ্রমণ, গল্প-আড্ডা, আনন্দ-বেদনা, অনুভূতি, স্বদেশের স্মৃতিচারণ, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক লেখা পাঠাতে পারেন। ছবিসহ লেখা পাঠানোর ঠিকানা - [email protected]