রোনালদোর বাড়িতে একদিন

প্রবাস ডেস্ক প্রবাস ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৮:৪৮ পিএম, ০৬ মে ২০২১ | আপডেট: ০৮:৫৫ পিএম, ০৬ মে ২০২১

মনির হোসেন, লিসবন, পর্তুগাল

পর্তুগালের ফোনচাল মাদেইরা দ্বীপপুঞ্জ, বিশ্বসেরা তারকা ফুটবলার ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর জন্মস্থান এবং তার শৈশবে বেড়ে ওঠার গল্প এ শহরকে ঘিরেই। চারদিকে আটলান্টিক মহাসাগর বেষ্টিত ফোনচাল মূলত একটি পর্যটননির্ভর শহর।

তবে করোনাকালে দ্বীপটিতে ভ্রমণে দর্শনার্থীদের বেশ ঝামেলা পোহাতে হচ্ছে। তাছাড়া গত বছর দ্বীপটির সঙ্গে মূল ভূখণ্ডের বিমান চলাচল বন্ধ ছিল। মূলত মাদেইরাতে গরমকালে দর্শনার্থীরা বেড়াতে আসেন।

২০১৯-এর গ্রীষ্মে দ্বীপটিতে বেড়াতে যাই। এখানেই জন্মগ্রহণ ও বেড়ে উঠেছেন ফুটবলের জীবন্ত কিংবদন্তি ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। বিশ্বনন্দিত এ তারকার বাড়ি, মিউজিয়াম, সাগর, প্রকৃতি সবই আমাকে মুগ্ধ করেছে। উঁচু-নিচু আকাবাঁকা পথ দেখে কখন দ্বীপটির প্রেমে পড়ে গিয়েছি, মনে নেই।

যেভাবে ভ্রমণ করা যেতে পারে: পর্তুগালের লিসবন শহর থেকে ফোনচাল মাদেইরাতে যাওয়ার ভালো সময় হচ্ছে মার্চ, এপ্রিল, মে, জুন এবং জুলাই মাস। তখন মূলত গরমকাল থাকে, সেজন্য এ সময় প্রচুর দর্শনার্থী বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বেড়াতে ছুটে আসে ফোনচালের সৌন্দর্য্য উপভোগের জন্য।

jagonews24

মাদেইরাতে ভ্রমণ করা যেতে পারে আকাশ পথ এবং সাগর পথে। সবচেয়ে সহজ উপায় হলো বিমানভ্রমণ। বিমানে পর্তুগালের রাজধানী লিসবন থেকে ২ ঘণ্টা ৩০ মিনিট লাগে, তাছাড়া জাহাজ পথে ২-৩ দিন লাগে, তবে জেনে রাখা ভালো, ফোনচাল ভ্রমণে বিমানের টিকিট অনেক ব্যয়বহুল, সুতরাং আগে থেকে বিমানের টিকিট এবং হোটেল বুকিং দিয়ে রাখলে অনেক সাশ্রয়ী মূল্যে পাওয়া যাবে।

ফোনচাল মাদাইরা শহর: এয়ারপোর্ট থেকে বেরিয়ে রাইড শেয়ারিং সার্ভিসের গাড়ি ভাড়ার চেষ্টা করলাম। কিন্তু সেখানে কোনো উবার বা বোল্ট এ ধরনের অনলাইনভিত্তিক অ্যাপস কাজ করত না তখন। বিষয়টি আমাকে যথেষ্ট অবাক করেছে। অগত্যা বাধ্য হয়ে ট্যাক্সিতেই সওয়ার হলাম।

যেহেতু ট্যুরিস্ট নির্ভর শহর এবং আমিও আগে থেকে ভালো করে কিছুই জানতাম না তার জন্য আমাকে ৩৫ ইউরো (৩৫০০ টাকা) গুনতে হয়েছে। হোটেলে ওঠার পরে জানতে পারলাম, শহরটিতে সবচেয়ে সাশ্রয়ী পরিবহন হচ্ছে বাস, টুরিস্টদের জন্য একবার বাসে উঠলে ৫ ইউরো দিতে হয়। সে আপনি শহরের যেখান থেকে উঠে যেখানেই নামুন না কেন।

থাকার জন্য মাদেইরার হোটেলগুলো অনেক ব্যয়বহুল, সুতরাং চাইলে আপনি কম খরচে হোস্টেলেও উঠতে পারেন। রাতের খাবারের জন্য গুগল ম্যাপে ‘ইন্ডিয়ান রেস্টুরেন্ট’ লিখে সার্চ দেই। অনেকগুলো রেস্তোরাঁ দেখতে পেলাম। রিভিউ দেখে মনে ধরল ‘তাজমহল রেস্টুরেন্ট’, যার মালিক এক পাকিস্তানি।

সেখানকার বিরিয়ানির কথা না বললেই নয়। আর সার্ভিসও বেশ ভালো। সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখি, ছোট্ট একটি দ্বীপ, যেদিকেই চোখ যায়, সেদিকেই আটলান্টিক। ফোনচাল মাদেইরা যেন আটলান্টিকের মাঝে একটা বিশাল জাহাজের মতো ভেসে আছে।

সকালের নাশতা সেরে বেরিয়ে দেখলাম রাস্তার দু’পাশ দিয়ে হাঁটছেন প্রচুর আমেরিকান দর্শনার্থী।

রোনালদোর মিউজিয়াম: গুগল ম্যাপে সার্চ দিয়ে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর মিউজিয়াম খুঁজে পেলাম আমার হোটেলের পাশেই। হাঁটার দূরত্ব মাত্র ১০ মিনিট। তারপর হাঁটা শুরু করলাম, চারদিকের প্রাকৃতিক পরিবেশ এবং ভারতের শিলং শহরের মতো উঁচু-নিচু আকাবাঁকা রাস্তা আমাকে মুগ্ধ করে রাখল।

এ যেন এক কল্পনার দ্বীপ। কতটা সৌন্দর্য্যমণ্ডিত এ শহর তা নিজ চোখে না দেখলে বোঝা যাবে না। আটলান্টিক মহাসাগরের পাশ দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে কখন যে সিআরসেভেন মিউজিয়ামে চলে এলাম, টেরই পেলাম না।

jagonews24

সোজা কাউন্টারে গিয়ে ৫ ইউরো (৫০০ টাকা) দিয়ে টিকিট কিনে ঢুকে গেলাম মিউজিয়ামে।

সেখানে অবশ্য খুব বেশি দেরি করিনি, হাতে সময় একদম কম ছিল। দুপুরের খাবার খেয়ে আবারও ফিরতে হবে লিসবনের উদ্দেশে। আটলান্টিক সাগরের গা ঘেঁষে ফোনচাল মাদেইরা পোর্ট পাশেই মাটির নিচে CR7 মিউজিয়াম, ভেতরে ঢুকেই অবাক হলাম।

আমি কি কল্পনা দেখছি নাকি বাস্তব? মন ভরে দেখলাম ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর সেই গোল্ডেন বুট, গোল্ডেন বল আর তার যত পুরস্কার। সেখান থেকে বের হয়ে সরাসরি বাসে এয়ারপোর্টে চলে আসি এবং এয়ারপোর্টে হালকা ডিনার করে উঠে পড়ি বিমানে আমার প্রাণের শহর লিসবনের উদ্দেশ্যে, সেটা ছিল আমার জীবনের এক অসাধারণ ভ্রমণ কাহিনী এবং অভিজ্ঞতা।

এমআরএম/জিকেএস

প্রবাস জীবনের অভিজ্ঞতা, ভ্রমণ, গল্প-আড্ডা, আনন্দ-বেদনা, অনুভূতি, স্বদেশের স্মৃতিচারণ, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক লেখা পাঠাতে পারেন। ছবিসহ লেখা পাঠানোর ঠিকানা - [email protected]