জাস্ট থিংক ট্যুয়াইস বিফোর অ্যাক্ট

রহমান মৃধা
রহমান মৃধা রহমান মৃধা
প্রকাশিত: ০৪:৩২ এএম, ১০ মে ২০২১

যেতে যেতে পথে কথা হয়েছিল হোকানের সঙ্গে। এ কথা সে কথা বলতে বলতে জানা গেল হোকান এখনও হেড হান্টার রেক্রুটেরিংয়ের ম্যানেজিং ডিরেক্টর। বিভিন্ন কোম্পানির গুরুত্বপূর্ণ পোস্টে দক্ষ এমপ্লই খুঁজে বের করা এবং কোম্পানির চাহিদামতো দক্ষ ব্যক্তিকে নিয়োগ দেয়া হেড হান্টার রেক্রুটেরিংয়ের কাজ।

জিজ্ঞেস করলাম বর্তমানে দক্ষ ব্যক্তি নির্ধারণ করা হয় কীভাবে? উত্তরে বললো, এটা নির্ভর করে কোম্পানির ডিমান্ডের উপর। তবে এবার একটু ভিন্ন ধরনের ডিমান্ড করেছে একটি কোম্পানি। ভাবছি কীভাবে এমন একটি লিডারের খোঁজ পাব?

কৌতুহল একটু বেড়ে গেল তাই প্রশ্ন করলাম ডিমান্ডটা কী? উত্তরে বললো দক্ষ হতে হবে পাঁচশো মিটার উপর থেকে, হেলিকপ্টার পার্সপেকটিভ হলিস্টিক ভিউ এবং ৩৬০ ডিগ্রি ম্যানেজমেন্ট স্টাইল। ব্যক্তিত্ব হতে হবে ম্যানেজমেন্ট বাই অবজেক্টিভস। ইউনিক ক্যারেক্টর হতে হবে রাইট ফার্স্ট টাইম এবং রাইট ফ্রম দি বিগিনিং।

সব কথা শুনার পরে হোকানকে বললাম সময় করে টিভিতে ফুটবল খেলা দেখতে পারো। অতীতের বিশ্বকাপ যেমন ম্যারাডোনার সময় এবং বর্তমানের ফুটবল খেলা মেসির সময়। হোকান বিষয়টি শুনে বেশ তাড়াহুড়ো করে বিদায় নিলো। যাবার বেলা বলে গেলে সন্ধ্যায় কি ফোন করতে পারি? বললাম অবশ্যই।

ঘটনাটি ছিল কিছুদিন আগের। আমার সঙ্গে হোকানের পরিচয় বহু বছর ধরে। ফার্মাসিয়া এবং ফাইজারে যখন কাজ করেছি, বিভিন্ন সিলেক্টিভ পোস্টে লোক নিয়োগে তাকে ব্যবহার করেছি। হোকানের বেশ ভালো ধারণা রয়েছে আমার ম্যানেজমেন্ট স্টাইলের উপর।

আজ সকালে ফোন করে বলে সে যাকে খুঁজছে সেই ব্যক্তি নাকি আমি। আমি বললাম, দেখ আমি আর্লি রিটায়ারমেন্টে গিয়েছি, কারণ কারো আন্ডারে আর কাজ করব না বলে। আমি আমার মতো করে বাকি জীবন কাটিয়ে দিতে চাই কোনো রকম এসাইনমেন্ট বা কমিটমেন্ট ছাড়া।

তবে পরিবার, সমাজ এবং বিশ্বের মানবতা এবং নৈতিকতার উপর কাজ করতে চেষ্টা করছি, বিনা বেতনে। কারণ এর উপর তেমন উন্নতি হয়নি পৃথিবীর মানুষের।

যাই হোক সে আমার কথা বুঝতে পেরেছে। পরে শুরু করলো যে সে দুটো খেলা দেখেছে তখনকার সময়ের একটি আর একটি বর্তমানের। বললো, বিশ বছরের ব্যবধানে খেলোয়াড়দের যেমন পরিবর্তন হয়েছে তেমন খেলার ধরণ পাল্টেছে। বললাম কোন দিকগুলো পাল্টেছে? উত্তরে বললো, বল নিয়ে ড্রিলিং, লং শট, একাই গোল দেবে এমনটি এখন আর দেখা যায় না।

বললাম এখন কেমনটি দেখা যায়? হোকান বললো বল পেলেই আরেকজনকে পাস করে দেয়, সারাক্ষণ এর থেকে ওর কাছে, ড্রিলিং এবং লং শট নেই বললেই চলে, সর্বোপরি সারাক্ষণ প্রতিপক্ষের ভুল ধরতে এবং সেটিকে কাজে লাগাতে চেষ্টা করে। সরাসরি গোলে বল না মেরে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে বলে শট করে, অনেকটা প্রতিপক্ষকে নাকে দড়ি দিয়ে ঘোরানোর মতো।

আমি বললাম তোমার অবজারভেশনগুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ যা আমার ভালো লেগেছে। তা তোমার কনকুলেশনে ফুটবল খেলার স্টাইলের পরিবর্তনের পেছনে কী কারণ জড়িত?

উত্তরে হোকান বললো কেন যেন মনে হচ্ছে বর্তমানে খেলার পেছনে ধৈর্যের সঙ্গে টিমওয়ার্ক জড়িত। এর সঙ্গে সাইকোলজিকে যুক্ত করে সে আরও বললো, বর্তমানে যেন খেলার একটি অপরিহার্য পার্ট হচ্ছে সাইকোলজি। বিষয়টি আমি না বোঝার ভান করলাম।

সে ব্যাখ্যা করে বোঝাতে গিয়ে বললো, একজন খেলোয়াড় যদি তার প্রতিপক্ষের মনস্তত্ত্বকে বুঝতে না পারে তাহলে তার পক্ষে সাফল্য পাওয়া খুবই কঠিন। আমরা প্রায়ই দেখি খুব নামিদামি খেলোয়াড়ও মাঠে গোল করতে পারে না। এর প্রধান কারণ হলো সে প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়ের মনস্তাত্ত্বিক দুর্বলতা আবিষ্কার করতে সক্ষম হয়নি এবং মনস্তাত্ত্বিকভাবে সে নিজেই দুর্বল।

এর ফলে তার খেলোয়াড়ি জীবনের অভিজ্ঞতা কোনো কাজে আসেনি। অধিক প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচেই সাধারণত এমনটি ঘটে থাকে।

তার বিশ্লেষণে আমি মুগ্ধ হলাম। বললাম, তাহলে ফুটবল থেকে আমরা কী শিক্ষা পেতে পারি? হোকান উত্তরে বললো রহমান বুঝেছি তুমি কী মিন করতে চাও, তবে প্রশ্ন কিভাবে এখন যোগ্য কর্মী যোগাড় করব? বললাম হোকান তোমার এ সমস্যা হতে পারে সারা বিশ্বের সমস্যা এবং এর সমাধান হতে পারে সারা বিশ্বের সমাধান (লোকাল কন্সার্ন গ্লোবাল সলিউশন)।

আমার অভিজ্ঞতা এবং স্পোর্টসের জগত থেকে যে সারমর্ম আমি দিতে চাই সেটা হলো: বর্তমান পৃথিবীতে একনায়কতান্ত্রিক ব্যবস্থা একদমই গ্রহণযোগ্য নয়। বিনা প্রশ্নে বসের কথামতো কাজ করতে কেউ পছন্দ করে না।
বর্তমান নেতৃত্বে ম্যানেজমেন্ট বাই থ্রেটস নয়, দরকার ম্যানেজমেন্ট বাই অবজেকটিভসের।

বর্তমান নোবেল পুরস্কার পেতে দেখা যাচ্ছে বেশির ভাগ বৈজ্ঞানিক টিম ওরিয়েন্টেড এবং দুই থেকে চার জন পর্যন্ত নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হচ্ছে। বর্তমান নেতৃত্বে ডিটেইলস নয় মোটামুটি নজরদারি প্রয়োজন। বর্তমানে প্রেজটিজ নয় বিনয়ী ম্যানেজমেন্টের প্রয়োজন।

বর্তমান দরকার নৈতিকতা, মানবতা এবং উই আর দি ওয়ার্ল্ড কনসেপ্ট এবং যে ম্যানেজার বলতে পারে ‌‘‘ট্যুগেদার উই ক্যান ড্যু ইট’’ স্লোগান তাকে প্রয়োজন। শুধু তাই নয় সেই ম্যানেজারকে হতে হবে মনস্তাত্ত্বিক জ্ঞান ও মানসিক দৃঢ়তার অধিকারী। সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়নের প্রতিটি ক্ষেত্রে মনস্তাত্ত্বিক জ্ঞান ও মানসিক দৃঢ়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
প্রশ্ন হলো, কিভাবে পেতে পারি এ ধরণের ম্যানেজমেন্ট? অসম্ভব?

Everything was impossible until someone made it possible, so believe in yourself and kill your all bad habits by doing right and do it now like Abraham Lincoln, "Do I not destroy my enemies when I make these my friends?"

লেখক: রহমান মৃধা, সাবেক পরিচালক (প্রোডাকশন অ্যান্ড সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্ট), ফাইজার, সুইডেন। [email protected]

এমআরএম

প্রবাস জীবনের অভিজ্ঞতা, ভ্রমণ, গল্প-আড্ডা, আনন্দ-বেদনা, অনুভূতি, স্বদেশের স্মৃতিচারণ, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক লেখা পাঠাতে পারেন। ছবিসহ লেখা পাঠানোর ঠিকানা - [email protected]