কানাডায় ঈদুল আজহা উদযাপিত

প্রবাস ডেস্ক প্রবাস ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৪:৫৫ পিএম, ২২ জুলাই ২০২১

আহসান রাজিব বুলবুল, কানাডা প্রতিনিধি।

কানাডায় করোনার সংক্রমণ কমায় নানা আয়োজনে দেশটির বিভিন্ন প্রদেশে ঈদুল আজহা উদযাপিত হয়েছে। দীর্ঘ বিরতির পর পবিত্র ঈদের দিনে প্রবাসীরা যান্ত্রিকতাকে দূরে রেখে একে অপরের সঙ্গে মিলিত হয়ে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নেন।

কানাডায় গতবছর সর্বপ্রথম ব্রিটিশ কলম্বিয়ায় করোনা শনাক্ত হয়। তারপর থেকে কানাডা সরকারসহ দেশটির সব স্তরের মানুষের সহযোগিতায় করোনা এখন সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে।

দেশটির স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের সাম্প্রতিক দেয়া তথ্যানুযায়ী, ১২ বছর বা তার বেশি বয়সী ৭৮ শতাংশ কানাডিয়ান অন্তত এক ডোজ ভ্যাকসিন নিয়েছে। আর পুরোপুরি ভ্যাকসিনেটেড হয়েছে ১২ বছর বা তার বেশি বয়সী প্রায় ৪৪ শতাংশ কানাডিয়ান।

অন্যদিকে আলবার্টা প্রদেশে চলতি বছর ১ জুলাই থেকে সব ধরনের স্বাস্থ্যবিধি প্রত্যাহার করা হয়েছে। এখানে ইতোমধ্যেই ৭০ শতাংশ নাগরিককে টিকা দেয়া হয়েছে। কানাডার জনস্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, টিকার দুই ডোজ গ্রহণকারীরা এখন আলিঙ্গন করতে পারবে।

কানাডা সরকারের বেঁধে দেয়া কঠোর নিয়মনীতি এবং কানাডিয়ানদের তা মেনে চলার ফলশ্রুতি ও টিকা কার্যক্রমের ফলে কানাডা করোনা নিয়ন্ত্রণ করতে পেরেছে।

প্রায় দেড় বছর বিরতির পর স্বাস্থ্যবিধি শিথিল হওয়ায় প্রবাসীরা নতুন আমেজে ভিন্ন মাত্রায় ঈদুল আজহা পালন করছেন।

কানাডা প্রবাসী বাংলাদেশিরা ঈদের নামাজ শেষে কোরবানি করতে চলে যান। দেশটিতে নির্দিষ্ট স্থানে কোরবানি দেয়া বাধ্যতামূলক। নির্ধারিত ফার্মগুলোতেই কোরবানি দিয়েছেন প্রবাসীরা। ঈদের দিনও এখানে কারও কারও অফিস থাকায় খুব ভোরে নতুন পোশাক পরে তারা আগেভাগেই নামাজ আদায় করতে বের হয়ে পড়েন।

মসজিদে নামাজ শেষে পরিবার পরিজন নিয়ে বের হন। ঘুরতে যান বন্ধু-বান্ধব ও আত্মীয়-স্বজনের বাসায়। সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে সবাই একত্রিত হয়ে মেতে ওঠেন নানা গল্প ও আড্ডায়।

এর পাশাপাশি প্রবাস থেকে দেশের আত্মীয় স্বজনের সঙ্গেও চলে টেলিফোনে আলাপচারিতা। এই আলাপে কারও কারও চোখের কোনে ভেসে আসে জল। অশ্রুসিক্ত নয়নে দেশে একসঙ্গে ঈদ না করতে পারার আক্ষেপ প্রকাশ করেন তারা। উঠে আসে দেশের বর্তমান পরিস্থিতির কথাও।

প্রবাসে ঈদ উদযাপন নিয়ে এবিএম কলেজের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রেসিডেন্ট ড. মো. বাতেন বললেন, বাংলাদেশের মতো আনন্দ করে এখানে ঈদ হয় না। দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে আমরা খুবই উদ্বিগ্ন। এখানকার মতো সবাই ভ্যাকসিন নেবে এবং সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে চলবে, সবাই দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবে পরম করুণাময়ের কাছে এটাই আমাদের প্রার্থনা।

ক্যালগেরির সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার লুবনা জাহান বলেন, ঈদের দিন সময় বের করে বাংলাদেশের আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধু-বান্ধবদের সঙ্গে ফোনে কথা হয়। দেশের সবাই ভালো থাকবে, করোনামুক্ত হবে দেশ-পরম করুণাময় আল্লাহর কাছে এটাই আমাদের প্রার্থনা।

বিশিষ্ট কলামিস্ট, উন্নয়ন গবেষক ও সমাজতাত্ত্বিক মো. মাহমুদ হাসান বলেন, মহান সৃষ্টিকর্তার কৃপায় বিজ্ঞানের কল্যাণে উত্তর আমেরিকায় এবারের ঈদ ভিন্ন আমেজেই উদযাপিত হচ্ছে। দীর্ঘ সামাজিক বিচ্ছিন্নতার পর বিধিনিষেধ মুক্ত কোলাহলমুখর পরিবেশ উজ্জীবিত হয়ে প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটি ঈদ করছে। তবে জন্মভূমিতে কোভিড-১৯ এর দ্রুত বিস্তৃতিতে দেশে বসবাসকারী স্বজনদের নিয়ে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠাও কাজ করছে সমভাবে। তবে বিশ্বাস করি কোভ্যাক্সের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের ভ্যাকসিন ডিসট্রিবিউশন কমিটিতে চার কৃতি বাঙালির অন্তর্ভুক্তি অচিরেই বাংলাদেশকে আলোর পথ দেখাবে।

ঈদের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে ক্যালগেরির কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব ও বিশিষ্ট সঙ্গীত শিল্পী সোহাগ হাসান বলেন, খুব মিস করি শৈশবের সেই আনন্দের ঈদকে। সেই দিন, সময় আর কখনোই ফিরে পাবার নয়। ব্যস্ততাময় এই প্রবাস জীবনে পরিবার আর বন্ধু-বান্ধবদের নিয়ে যদিও ঈদ করি, কিন্তু সেই সময়ের ঈদ এখন কেবলই স্মৃতি।

প্রবাসীরা ইচ্ছে করলেই তো আর বাস-ট্রেনের টিকিট কেটে দেশের বাড়িতে যেতে পারেন না। পারেন না মমতাময়ী মা-বাবা পরিবার পরিজনদের সঙ্গে দেখা করতে। তাই মুঠোফোনে আপনজনদের খোঁজ-খবর আর তাদের ডিজিটাল হাসি-কান্নার ছবি দেখেই পালন করতে হয় ঈদ উৎসব।

এমআরআর/জিকেএস

প্রবাস জীবনের অভিজ্ঞতা, ভ্রমণ, গল্প-আড্ডা, আনন্দ-বেদনা, অনুভূতি, স্বদেশের স্মৃতিচারণ, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক লেখা পাঠাতে পারেন। ছবিসহ লেখা পাঠানোর ঠিকানা - [email protected]