মালয়েশিয়ায় করোনায় প্রাণ গেল দুই বাংলাদেশি অধ্যাপকের

আহমাদুল কবির
আহমাদুল কবির আহমাদুল কবির , মালয়েশিয়া প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১০:১৬ পিএম, ২৫ জুলাই ২০২১

মালয়েশিয়ায় শুধু বাংলাদেশের সাধারণ কর্মীই নয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত আছেন অনেক মেধাবী প্রফেসর। মালয়েশিয়া আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের দুইজন বাংলাদেশি মেধাবী শিক্ষকের প্রাণ গেল করোনায়। এই দুইজন শিক্ষক হিসেবে খুবই প্রভাবশালী ও স্বনামধন্য ছিলেন।

তাদের মৃত্যুতে ছাত্র-শিক্ষকদের মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। প্রফেসর ড. এ আহাদ ওসমান গণির শোক শেষ হতে না হতেই অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর ড. ইশতিয়াক হোসাইন মৃত্যুবরণ করলেন। উভয়েই করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন। তাই নিয়ম অনুযায়ী লাশ মালয়েশিয়াতেই দাফন করতে হচ্ছে। এ ধরনের মেধাবী সন্তানদের মৃত্যু নিঃসন্দেহে দেশের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি।

কেননা বিদেশে নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে শ্রেষ্ট মেধা, সর্বোচ্চ শ্রম এবং উৎকৃষ্ট দক্ষতার প্রকাশ ঘটাতে হয়। এ রকম অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন বিষয়ে প্রায় অর্ধশত শিক্ষক আছেন।

কুয়ালালামপুরের পেরদানা বিশ্ববিদ্যালয়ে গ্র্যাজুয়েট স্কুল অফ মেডিসিনের ডেপুটি ডিন প্রফেসর ড. মোহাম্মদ নাজমুল হাসান মাজিজ বলেন, ‘বিশ্ব্যবিদ্যালয়ে বাংলাদেশের যে অবস্থান ছিল এই দুই সহকর্মীর অকাল মৃত্যুতে যে ক্ষতি হলো তা অপূরণীয়। এখানে আমাদের চরম প্রতিযোগিতা করেই আন্তর্জাতিক মানদন্ড বজায় রাখতে হয়।

তিনি বলেন, ‘এই দুইজন সহকর্মীর অকাল মৃত্যু প্রমাণ করেছে তারা করোনা কালেও শিক্ষকতায় কতটা নিবেদিত ছিলেন। এই সময়ে আমাদের সতর্ক থাকার কোনো বিকল্প নেই ।

উল্লেখ্য, মেধা-শিক্ষকতা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে মালয়েশিয়ায় বিশেষ অবস্থান তৈরি করলেও সংখ্যাগরিষ্ট সাধারণ বাংলাদেশি প্রবাসীদের মাঝে অজানায় রয়ে গেছেন এসব শ্রেষ্ঠ সন্তানেরা। সেন্টার ফর এন আরবির প্রেসিডেন্ট এস এম শেকিল চৌধূরী বলেন, ‘মালয়েশিয়ায় দুইজন মেধাবী শিক্ষকের অকাল মৃত্যু আমাদের প্রবাসীদের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে।

কেননা এ ধরনের প্রভাবশালী ব্যক্তিরা নীরবে দেশের দূতের কাজ করে থাকেন। তাদের গ্রহনযোগ্যতা দিয়ে সে দেশের প্রশাসন, সমাজ ও প্রভাবশালীদের সাথে উত্তম বোঝাপড়া তৈরি করেন যা দেশের ও প্রবাসীদের স্বার্থ রক্ষায় অভাবনীয় কাজ করে। যারা জীবিত আছেন তাদের অনুরোধ করব নিজদের ভাবমূর্তি সমুজ্জ্বল করতে পথপ্রদর্শক বা উপদেষ্টার ভূমিকা নিয়ে এগিয়ে আসবেন।’

এমএসএম/এমআরএম/এমকেএইচ

প্রবাস জীবনের অভিজ্ঞতা, ভ্রমণ, গল্প-আড্ডা, আনন্দ-বেদনা, অনুভূতি, স্বদেশের স্মৃতিচারণ, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক লেখা পাঠাতে পারেন। ছবিসহ লেখা পাঠানোর ঠিকানা - [email protected]