৯/১১: উগ্রবাদ দমনে বিশ্ব সম্প্রদায় কতটা সফল?

আহসান রাজীব বুলবুল
আহসান রাজীব বুলবুল আহসান রাজীব বুলবুল , কানাডা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ০৩:৪৭ পিএম, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২১

কানাডার ক্যালগেরিতে সাংবাদিক আহসান রাজীব বুলবুলের সঞ্চালনায় ‘নাইন ইলেভেনের শিক্ষা: উগ্রবাদ দমনে বিশ্ব সম্প্রদায় কতটা সফল? বিষয়ক এক ভার্চুয়াল আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন প্রবাসী সাংবাদিক শওগাত আলী সাগর। স্বাগত বক্তব্য দেন কলামিস্ট, উন্নয়ন গবেষক ও সমাজতাত্ত্বিক বিশ্লেষক মো. মাহমুদ হাসান।

আলোচনায় অংশ নেন প্রকৌশলী মোহাম্মদ কাদির, কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব ও রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী প্রকৌশলী আবদুল্লা রফিক এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকে যুক্ত হন কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব,কলামিস্ট, শিল্পী ও যুক্তরাষ্ট্রের উদীচীর সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী জীবন বিশ্বাস।

আলোচনায় বক্তারা বলেন, ৯/১১ এর বিশ বছর অতিক্রান্ত হলেও সন্ত্রাস এখনো বন্ধ হয়নি। বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বে সন্ত্রাসীরা এখনো তৎপর। সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে বক্তারা বিশ্ববাসীকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

প্রবাসী সাংবাদিক শওগাত আলী সাগর বলেন, বিশ্ব ইতিহাসে সেদিনের মতো সমন্বিত ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলা পরবর্তীতে আর দেখা যায়নি। ৯/১১ এর জের ধরে বদলে গেছে বিশ্ব আর বৈশ্বিক রাজনীতি। বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন বিভাজন শুরু হয়ে ৯/১১’র মাধ্যমে।

তিনি আরও বলেন, ৯/১১ এরপর পশ্চিমা দেশগুলোতে উগ্রবাদী চেতনা তৈরি হয়েছে। সন্ত্রাস এখন কেবলমাত্র একটা দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি বাংলাদেশেও সন্ত্রাসের শিকড় গড়ে উঠেছে। বিশ্ববাসীকে তিনি সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান।

কলামিস্ট, উন্নয়ন গবেষক ও সমাজতাত্ত্বিক বিশ্লেষক মো. মাহমুদ হাসান বলেন, নাইন ইলেভেন ছিল প্রগতি আর মানবতার বিরুদ্ধে উগ্রপন্থার চরম আস্ফালন। এর সঙ্গে জড়িত ছিল এক ধরনের চরমপন্থার ভ্রান্ত বিশ্বাস। এই বিশ্বাস আর চরমপন্থাকে মোকাবিলায় গত বিশ বছরে বিশ্ব মোড়লেরা কাড়ি কাড়ি ডলার খরচ করে শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে চরম পন্থাকে মোকাবিলার যে কৌশল প্রয়োগ করেছে, মানবিক সমাজ ব্যবস্থা বাস্তবায়নে এর ফলাফল নিতান্তই সামান্য।

তিনি বলেন, চেতনা আর বিশ্বাসকে শক্তি প্রয়োগ করে কখনো নির্মূল করা যায় না। শুধুমাত্র একটি ধর্ম বিশ্বাসকে দায়ী করে শক্তি প্রয়োগের কৌশল প্রতিহিংসারই বিস্তৃতি ঘটাবে। মানবিক সমাজব্যবস্থার জন্য সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ নির্মূলে বিশ্ব মোড়লদের ঐকান্তিক আন্তরিকতা।

প্রকৌশলী মোহাম্মদ কাদির বলেন, পৃথিবীর ইতিহাসে এটি একটি ন্যাক্কারজনক ঘটনা। মানবিক বিপর্যয়। ঐতিহাসিক স্থাপনা ধ্বংস করার জঘন্যতম ঘটনা যা ক্ষমার অযোগ্য। তিনি ওইদিন যে সমস্ত পরিবার তাদের আপনজনদের হারিয়েছেন তাদের শোক-সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব ও বিশিষ্ট রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী প্রকৌশলী আবদুল্লা রফিক বলেন, ৯/১১-এর পর বিশ্বব্যাপী সন্ত্রাসী হামলা থেমে থেমে হুঙ্কার দিয়ে উঠেছে। জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসীদের দমন করার জন্য বিশ্ব এখন একত্রিত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের মতো বাংলাদেশও এখন সন্ত্রাসীদের বিষয়ে ‘জিরো’ টলারেন্স দেখাচ্ছে। আশা করা যায় ভবিষ্যতে ৯/১১ এর মতো ভয়ঙ্কর ঘটনা আর দেখা যাবে না।

কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব, কলামিস্ট, শিল্পী, ও যুক্তরাষ্ট্রের উদীচীর সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী জীবন বিশ্বাস বলেন, সন্ত্রাসীদের কোনো দল নেই। ওদের নির্মূলে সোচ্চার হতে হবে। আর তার জন্য সবাইকে একত্রিত হয়ে কাজ করতে হবে। সন্ত্রাসীদের নির্মূল করে নতুন প্রজন্মকে একটি নতুন পৃথিবী উপহার দেওয়ার দায়িত্ব আমাদেরকেই নিতে হবে। আমরা আর কোনো ৯/১১ দেখতে চাই না।

এমআরএম/জিকেএস

প্রবাস জীবনের অভিজ্ঞতা, ভ্রমণ, গল্প-আড্ডা, আনন্দ-বেদনা, অনুভূতি, স্বদেশের স্মৃতিচারণ, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক লেখা পাঠাতে পারেন। ছবিসহ লেখা পাঠানোর ঠিকানা - [email protected]