কানাডায় থ্যাংকস গিভিং ডে উপলক্ষে ‘বন্ধু’র মতবিনিময়

আহসান রাজীব বুলবুল
আহসান রাজীব বুলবুল আহসান রাজীব বুলবুল , কানাডা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ০৮:২১ এএম, ১২ অক্টোবর ২০২১

শিউলি ও কাশফুল ফোটানো ঋতুর রানি শরতের আগমনী বার্তা প্রবাসী বাঙালির জীবনজুড়ে শিহরণ জাগায়। আশ্বিন মাস শেষ হতে না হতেই যেন হেমন্তের মরা কার্তিকের আমেজ। ঋতুর রানী শরতের বিদায়ের সুর। আর হেমন্তের নবান্নের উৎসবের আবাহন।

দূর প্রবাসে বসে প্রবাসী বাঙালিরাও ভুলতে পারে না জীবনের সেই জয়গান আর শরৎ ঋতুর বন্দনা। স্মৃতিতে অম্লান হয়ে ভেসে আসে সেই দিনগুলো। সেই সঙ্গে কানাডীয় সংস্কৃতির থ্যাংকস গিভিং ডে’র ব্যতিক্রমী আমন্ত্রণ আমাদেরকেও উৎফুল্ল করে।

খারাপ সময় মানুষের জীবনে যেমনি আসা দরকার, জীবনের একটা স্তরে অর্থনৈতিক মন্দা যাওয়াটাও যেমন ভীষণ প্রয়োজন, রঙিন জীবন কিছুক্ষণের জন্য হলেও যেমন সাদাকালো হয়ে যাওয়ার দরকার, ঠিক তেমনি জীবন মুদ্রার ঐ পিঠ দেখতে, জীবনের যাত্রাপালায়, মানুষের নিরেট অভিনয় দেখতে একজন ভালো বন্ধুর খুবই প্রয়োজন।

‘দুদিন প্রবাসে আসি বৃথাই বাঁধিনু ঘর, প্রবাসের সাথী যারা তারাতো সকলেই পর’ কালজয়ী এই সত্য কথাটি উপলব্ধি করে ক্যালগেরির প্রবাসী বাঙালিদের সমন্বয়ে ব্যতিক্রমী ‘বন্ধু’ সংগঠন আয়োজন করেছিল ভিন্নধর্মী এক মতবিনিময়ের।

jagonews24

কর্ম ব্যস্ততাময় জীবন থেকে সরে এসে ভিন্নধর্মী ব্যতিক্রমী ‘বন্ধু’র আড্ডা আর আলোচনায় উঠে আসে মুজিববর্ষে বঙ্গবন্ধুর জীবনী থেকে সাম্প্রতিক সময় সব বিষয়। শিক্ষণীয় আর সময়োপযোগী আড্ডায় উঠে আসে সৈয়দ শামসুল হকের খেলারাম খেলে যা, রবীন্দ্রনাথের শেষ চিঠি, রক্তকরবী, কাজী নজরুলের নার্গিস, জীবনানন্দের বনলতা সেন আরও কত কি!

পৃথিবীতে প্রেমে পড়ার মতো এমন সুখ আর কি হতে পারে? ভালোবাসতে হলে যেমন কষ্ট পেতে হয়, তেমনি কষ্টের মধ্যে থাকে হৃদয় নিংড়ানো ভালোবাসা এ এক অন্যরকম অনুভূতি। সবাই কি ভালোবাসা পায়? আবার কেউ কেউ না পেয়েও সুখী হতে চায়। মানুষ ভালোবাসে তার ভালোবাসা থেকে কিন্তু কতক্ষণ, কতদিন?

ফুলের সৌরভ আর জীবনের গৌরব কি সবসময় থেকে যায়? মানুষ সমুদ্রকে ভালোবাসতে ভয় পেলেও নদীর অপরূপ সৌন্দর্যে সেসব ভুলে যায়? বন্ধুত্বের ভালোবাসায় কি সব ভোলা যায়? বিশ্লেষণভিত্তিক প্রগতিশীলতা সবকিছুই প্রাধান্য পায় এই ‘বন্ধু’র আড্ডায়।

বন্ধুদের বাড্ডায় উঠে আসে কর্মময় ব্যস্ততা জীবনে আমরাও মানুষ, আমাদেরও মন আছে। হৃদয় গভীরে শুধু দেখি, শোনা যায়, কিন্তু কিছুই থাকে না বলার। এই বন্ধুর আড্ডায় চাকরি থেকে শুরু করে সবকিছুই করা হয় মানব কল্যাণে। নিজের মনের খোরাক মেটানোও বা কম কিসে!

সামাজিক বিধিনিষেধ ও আলবার্টা সরকারের বেধে দেওয়া স্বাস্থ্য বিধি মেনেই বন্ধুর আডডায় ছিলেন মোহাম্মদ কাদির, আবদুল্লা রফিক, মো. মাহমুদ হাসান, মো. রশিদ রিপন, এ্যনথনি জ্যাকব এবং ভার্চুয়ালি যোগ দিয়েছিলেন অন্য বন্ধুরাও।

বন্ধু হৃদয়ের আয়না এই ধারণাকে বিশ্বাস করেই ক্যালগেরির ‘বন্ধু’ সংগঠন বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে দূঢ়তার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে। শুধু প্রবাস নয় দেশেও এই বন্ধুত্বের হাত ছড়িয়ে পড়বে এমনটাই প্রত্যাশা ‘বন্ধু’র।

এমআরএম/জিকেএস

প্রবাস জীবনের অভিজ্ঞতা, ভ্রমণ, গল্প-আড্ডা, আনন্দ-বেদনা, অনুভূতি, স্বদেশের স্মৃতিচারণ, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক লেখা পাঠাতে পারেন। ছবিসহ লেখা পাঠানোর ঠিকানা - [email protected]