মালয়েশিয়া থেকে শূন্য হাতেই ফিরছেন তেরা মিয়া

আহমাদুল কবির
আহমাদুল কবির আহমাদুল কবির , মালয়েশিয়া প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ০৯:২২ এএম, ১৫ অক্টোবর ২০২১

সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরের মৃত উমর আলীর ছেলে তেরা মিয়া (৪৯)। ২০১৮ সালে ভাগ্য পরিবর্তনের আশায় দালালের প্ররোচনায় সমুদ্র পথে মালয়েশিয়া গিয়েছিলেন। সেখানে গিয়ে বিভিন্নজনের কাছে টাকা দিয়েও বৈধ হতে পারেননি। অবৈধ প্রবাসী কর্মী হিসেবে তেরা মিয়া লুকিয়ে লুকিয়ে কাজ করলেও করোনাকালে জুটেনি তার কাজ। এ অবস্থায় কাজ না থাকায় নানা কারণে আরও ভেঙে পড়েন তেরা মিয়া। ঘরে বসেই দিন কাটছিল তার। শরীর ভেঙে পড়ে, দেখা দেয় বিভিন্ন রোগ।

আগস্টের শেষের দিকে একজনের সহায়তায় সুঙ্গাইভুলু হাসপাতালে ভর্তি হন। চিকিৎসা চলে টানা দেড় মাস। অক্টোবরের প্রথম দিকে চিকিৎসক জানান, তার কিডনিতে পাথর ধরা পড়েছে, অপারেশন করাতে হবে। অপারেশন করতে হলে অনেক টাকার প্রয়োজন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তেরা মিয়ার বিষয় নিয়ে হাসপাতাল থেকে যোগাযোগ করে হাইকমিশনের সঙ্গে। হাইকমিশন থেকে কোনো সহায়তার আশ্বাস না পাওয়ায় একটি ইসলামিক সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। সংস্থা যোগাযোগ করে বাংলাদেশ প্রেস ক্লাব অব মালয়েশিয়ার সভাপতি মনির বিন আমজাদের সঙ্গে। এরপর তিনি তেরা মিয়ার দেখভালের দায়িত্ব নেন।

এরই মাঝে তেরা মিয়া জানান, তিনি মালয়েশিয়া অপারেশন করাবেন না, দেশে চলে যাবেন। সিদ্ধান্ত হলো দেশে পাঠানোর। দেশে পাঠাতে হলে দরকার ট্রাভেল পাস। এরপর বাংলাদেশ হাইকমিশনের লেবার কাউন্সিলর (২য়) হেদায়েতুল ইসলাম মন্ডলের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাকে তেরা মিয়ার বিষয়ে অবহিত করা হয়। হেদায়েতুল ইসলাম মন্ডল তেরা মিয়ার নাগরিকত্ব যাচাবাচাই করে তার নামে ট্রাভেল পাস ইস্যু করেন। ভাগ্যের চাকা পরিবর্তন করতে মালয়েশিয়া এসে শূন্য হাতেই ফিরতে হচ্ছে তেরা মিয়াকে। বাংলাদেশ প্রেস ক্লাব অব মালয়েশিয়ার সভাপতি মনির বিন আমজাদ তাকে দেশে ফেরার ব্যাপারে আর্থিক সহায়তা করছেন।
আগামী রোববার (১৭ অক্টোবর) ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে দেশে ফিরবেন তেরা মিয়া। দালালের খপ্পরে পড়ে অবৈধপথে বিদেশ গিয়ে তেরা মিয়ার মত অনেককেই এভাবে নিঃস্ব হয়ে দেশে ফিরতে হয়।

কেএসআর/জিকেএস

প্রবাস জীবনের অভিজ্ঞতা, ভ্রমণ, গল্প-আড্ডা, আনন্দ-বেদনা, অনুভূতি, স্বদেশের স্মৃতিচারণ, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক লেখা পাঠাতে পারেন। ছবিসহ লেখা পাঠানোর ঠিকানা - [email protected]