‘আচরণের কারণে কানাডিয়ান চিকিৎসায় পিছিয়ে বাংলাদেশি গ্র্যাজুয়েটরা’

আহসান রাজীব বুলবুল
আহসান রাজীব বুলবুল আহসান রাজীব বুলবুল , কানাডা প্রতিনিধি কানাডা
প্রকাশিত: ১১:২০ এএম, ২০ নভেম্বর ২০২১

‘বাংলাদেশের মেডিকেল গ্রাজুয়েটদের চিকিৎসাজ্ঞান কানাডিয়ান গ্র্যাজুয়েটদের চেয়ে কোনো অংশেই কম নয়। কিন্তু রোগীর সঙ্গে আচরণের ক্ষেত্রে পেশাদার এবং সংবেদনশীল যোগাযোগ দক্ষতার ঘাটতির কারণে তারা কানাডিয়ান চিকিৎসা সেবায় জায়গা করে নিতে পারছেন না।’

বিদেশি মেডিকেল গ্র্যাজুয়েটদের রেসিডেন্সির ইন্টারভিউ বোর্ডের অভিজ্ঞতা উল্লেখ করে কানাডার ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটির চিকিৎসা শিক্ষার অধ্যাপক ডা. তানিয়া রুবাইয়াত এমন মন্তব্য করেছেন।

তার এ বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করে দুজন বাংলাদেশি চিকিৎসক বলেন, বাংলাদেশ থেকে প্রচুর মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট অভিবাসী হয়ে বিদেশে যাচ্ছেন। ফলে উন্নত দেশের চিকিৎসা সেবা এবং পাঠ্যক্রমের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে বাংলাদেশের মেডিকেল শিক্ষাকে ঢেলে সাজানো দরকার।

কানাডার বাংলা পত্রিকা ‘নতুনদেশ’-এর প্রধান সম্পাদক শওগাত আলী সাগরের সঞ্চালনায় স্থানীয় সময় বুধবার (১৭ নভেম্বর) রাতে ‘শওগাত আলী সাগর লাইভে’র আলোচনায় তারা এ কথা বলেন।

‘বাংলাদেশি চিকিৎসকরা কানাডায় কেন স্বীকৃতি পান না’ শীর্ষক এ আলোচনায় মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন ওয়েস্টার্ন ইউনির্ভাসিটির সুলিখ মেডিকেল স্কুলের সহকারী অধ্যাপক ডা. তানিয়া রুবাইয়াত। কানাডায় চিকিৎসা পেশায় যোগ দেওয়ার প্রচেষ্টায় থাকা দুই বাংলাদেশি চিকিৎসক ডা. খন্দকার মাহমুদুল হক এবং ডা. বীথিকা সেন আলোচনায় তাদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।

ডা. তানিয়া রুবাইয়াত বিদেশি গ্র্যাজুয়েটদের কানাডার চিকিৎসা সেবায় অন্তর্ভূক্তির বিধি-বিধানগুলো তুলে ধরে বলেন, মেডিকেল গ্র্যাজুয়েটদের রেসিডেন্সি দেওয়ার ইন্টারভিউতে প্রার্থীর চিকিৎসা জ্ঞান বা দক্ষতাকে তেমন গুরুত্ব দেওয়া হয় না। ধরেই নেওয়া হয় একজন চিকিৎসকের চিকিৎসা বিষয়ে জ্ঞান থাকবেই বা তিনি সেটা শিখে নিতে পারবেন। তারা গুরুত্ব দেন একজন চিকিৎসকের আচরণ, কথা বলার ধরন এবং রোগীকে বোঝার সক্ষমতা কতটুকু আছে। রোগীর সঙ্গে কথা বলার ক্ষেত্রে তিনি কতটা সংবেদনশীল এবং পেশাদার সেটিকে সবচেয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়।

তানিয়া রুবাইয়াত বলেন, বাংলাদেশে চিকিৎসকরা শুধুমাত্র চিকিৎসাই দিয়ে থাকেন, কিন্তু কানাডায় চিকিৎসা সেবাটাকে সামগ্রিকভাবে রোগী-চিকিৎসকের সম্পর্ক হিসেবে দেখা হয়। একজন চিকিৎসক রোগীর আর্থ সামাজিক এবং সংস্কৃতি বুঝে তার সঙ্গে কতোটা সংবেদনশীল আচরণ করছেন- সেটিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। এ জায়গাটায় এসে অনেক বাংলাদেশি চিকিৎসক পেছনে পরে যান।

তিনি বাংলাদেশের মেডিকেল কলেজের পাঠ্যক্রম এবং শিক্ষকদের নম্বর দেওয়ার প্রক্রিয়ায় পরিবর্তনের প্রস্তাব করে বলেন, পাকিস্তান বা ভারতের কোনো গ্র্যাজুয়েট যখন সিভি জমা দেন, তাদের নম্বর থাকে শতকরা ৯০। বাংলাদেশের চিকিৎসকদের ৬০ শতাংশের বেশি নম্বর থাকে না। ফলে বাংলাদেশি প্রার্থী পেছনে পড়ে যান। বাংলাদেশের মেডিকেল কলেজ থেকে পাওয়া নম্বর দিয়ে তারা মাস্টার্স প্রোগ্রামে আবেদনই করতে পারেন না।

ডা. তানিয়া বলেন, ভবিষ্যতের ডাক্তারদের শুধু চিকিৎসা শেখালেই চলবে না, তাদের যোগযোগের দক্ষতাও (কমিউনিকেশন স্কিল) শেখাতে হবে। রোগীর সঙ্গে কীভাবে কথা বলতে হয়, সেটিও শেখাতে হবে।

ডা. খন্দকার মাহমুদুল হক বলেন, ‘বাংলাদেশি গ্র্যাজুয়েটদের অধিকাংশের স্কোরই সি বা সি প্লাস থাকে। বাংলাদেশের মেডিকেল শিক্ষকদের নম্বর দেওয়ার ক্ষেত্রে কৃপণতার কারণে বিদেশে এসে চিকিৎসকদের ভোগান্তির শিকার হতে হয়।

বিদেশি মেডিকেল গ্র্যাজুয়েটদের ব্যাপারে আরও উদার হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘অভিবাসী চিকিৎসকদের ৫৫ শতাংশই চিকিৎসা পেশা থেকে ছিটকে গিয়ে সম্পূর্ণ হারিয়ে যাচ্ছেন। কানাডা সরকার এ ব্যাপারে বিশেষ উদ্যোগ নিয়ে আন্তর্জাতিক এসব মেধা কানাডার স্বার্থে লাগাতে পারেন।’

ডা. বীথিকা সেন বলেন, ‘বাংলাদেশ থেকে প্রতি বছর প্রচুরসংখ্যক চিকিৎসক কানাডাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যাচ্ছেন। এ বাস্তবতা বিবেচনায় রেখে মেডিকেল কলেজের কারিকুলাম ঢেলে সাজানোর প্রস্তাব দেন তিনি। উন্নত দেশগুলোয় কী পড়ানো হয়, সেগুলো খোঁজ করে সেইভাবে মেডিকেল গ্র্যাজুয়েটদের তৈরির পদক্ষেপ নেওয়া দরকার।’

এএএইচ/এমএস

প্রবাস জীবনের অভিজ্ঞতা, ভ্রমণ, গল্প-আড্ডা, আনন্দ-বেদনা, অনুভূতি, স্বদেশের স্মৃতিচারণ, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক লেখা পাঠাতে পারেন। ছবিসহ লেখা পাঠানোর ঠিকানা - [email protected]