অস্ট্রেলিয়ায় ঢাবির শতবর্ষ পূর্তি উৎসব ১৯ ডিসেম্বর

প্রবাস ডেস্ক
প্রবাস ডেস্ক প্রবাস ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৫:৩১ পিএম, ০৫ ডিসেম্বর ২০২১

শতদল তালুকদার, সিডনি থেকে

সিডনি এখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ও জগন্নাথ হলের শতবর্ষ পূর্তি উৎসবের প্রস্তুতিতে মুখর। অবিভক্ত বাংলার পূর্ববঙ্গে অবহেলিত ও পশ্চাৎপদ জনগোষ্ঠীর মাঝে শিক্ষার আলো জ্বালাতে আজ থেকে একশো বছর আগে বহু প্রচেষ্টায় প্রতিষ্ঠিত হয় ‘প্রাচ্যের অক্সফোর্ড’ খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। তারিখটা ছিল পহেলা জুলাই ১৯২১।

ঠিক একই সময়ে প্রতিষ্ঠিত হয় জগন্নাথ হল (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আনুষ্ঠানিক যাত্রার আগেই নির্মাণকাজ শুরু হয়েছিল), ঢাকা হল (বর্তমানে শহীদুল্লাহ হল) এবং মুসলিম হল (বর্তমানে সলিমুল্লাহ মুসলিম হল) এই তিনটি ছাত্রাবাস। এ বছরের পয়লা জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং জগন্নাথ হল তাদের প্রতিষ্ঠার গৌরবময় শতবর্ষ পূর্ণ করলো।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও জগন্নাথ হলের শিক্ষায় ও ঐতিহ্যে সমুজ্জ্বল, জগন্নাথ হল অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন অস্ট্রেলিয়া (JHAAA)-র ছাত্র ও তাদের পরিবার মহাসমারোহে পালন করতে যাচ্ছে এই প্রতিষ্ঠার আবেগময় শতবার্ষিকী। আগামী ১৯ ডিসেম্বর, সিডনির পশ্চিমে বর্ধিষ্ণু উপ-শহর ব্ল্যাকটাউনের অত্যাধুনিক কাউন্সিল হলের বিশাল পরিসরে তারা শতবর্ণে, প্রাণের শতধারায় উদযাপন করবে ‘গৌরবের একশো বছর’। আর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও জগন্নাথ হলের প্রাক্তনীরা কথা বলেছেন সিডনিতে আসন্ন এই উৎসব সম্পর্কে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্রনেতা, জগন্নাথ হলের ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি (ছাত্রদের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত) ও এই উৎসবের আহ্বায়ক অমল দত্ত বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় যে উদ্দেশ্য নিয়ে পথচলা শুরু করেছিল, তার সহযাত্রী হয়ে জগন্নাথ হলও এই লক্ষ্যে ও আদর্শে অবিচল ও সমুজ্জ্বল থেকেছে একশোটি বছর। শিক্ষায়-নেতৃত্বে সমৃদ্ধ করেছে জাতিকে। তাই এই শতবর্ষপূর্তি উৎসব আমাদের জন্য খুবই গুরুত্ববহ। এটা একটা বিরল সুযোগ। অত্যন্ত গৌরবের এবং আবেগেরও।

কবি, সংগঠক ও স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলেনের সৈনিক তুষার রায় বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শুধুমাত্র এর শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয় নয় বরং গোটা জাতির। শিক্ষার্থীর জন্য বিশ্ব বীক্ষণের যোগ্য সামর্থ্য সৃষ্টি করে এই প্রতিষ্ঠান। সবক্ষেত্রে মেধার স্ফূরণ ঘটিয়ে একটি জাতির গঠন ও ক্রমবিকাশ ঘটিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ এবং সকল গণতান্ত্রিক ও মুক্তবুদ্ধির আন্দোলনের সূতিকাগার এই বিদ্যাপীঠ। আত্মত্যাগেও হয়েছে অগ্রণী। জগন্নাথ হল এ ব্যাপারে বিশেষ ভূমিকা রেখেছে। তাই এই শতবর্ষপূর্তি উৎসব আমাদের কাছে এত গুরুত্বপূর্ণ।

এই বর্ণিল অনুষ্ঠানকে ঋদ্ধ, স্মরণীয় ও উপভোগ্য করতে ব্যাপক প্রস্তুতি চলছে। অস্ট্রেলিয়ার সব প্রদেশে অবস্থানরত জগন্নাথ হলের প্রাক্তন ছাত্ররা সপরিবারে যুক্ত হবে এই উৎসবে।

অনুষ্ঠানমালায় থাকবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও জগন্নাথ হলের প্রতিষ্ঠার ইতিহাস; দেশ ও সমাজ গঠনে এই দুই আলোকিত প্রতিষ্ঠানের অবদান এবং ইতিহাসে যে বিদ্বান-গুণী-মনীষীরা এই দুই প্রতিষ্ঠানকে উজ্জ্বল করে গেছেন, তাদের পরিচয় ও ইতিহাস উপস্থাপন করে শ্রদ্ধা জানানো। অবশ্যই, মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

এসব ইতিহাস, ঐতিহ্য ও স্মৃতি চয়ন করে এবং বাংলাদেশের সমাজ ও অর্থনীতি নিয়ে এই উৎসবে প্রকাশিতব্য ম্যাগাজিন ‘গৌরবের একশো বছর’ এ লিখেছেন বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসরত স্বনামধন্য কবি, সাহিত্যিক, শিক্ষক, প্রশাসক, গবেষক, সাংবাদিক, অর্থনীতিবিদ এবং জগন্নাথ হলের প্রাক্তন ছাত্র ও তাদের পরিবারের সদস্যরা। দেশের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের শুভেচ্ছা বার্তাও থাকবে এতে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র, শাহ্জালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও লেখক মুহম্মদ জাফর ইকবাল বলেন, স্বাধীনতার অব্যবহিত পরে দেশ যুদ্ধ-বিধ্বস্ত থাকলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের সময়টাই ছিল আমার জীবনের সর্বশ্রেষ্ঠ সময়। অফুরন্ত আনন্দের। পড়ালেখার পাশাপাশি নাটক, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, পিকনিক, সায়েন্স ফেয়ার, আরও কত কি!

তিনি বলেন, ওটাই তো বাংলাদেশের রেনেসাঁর যুগ। জগন্নাথ হলের অনেক ঘনিষ্ঠ বন্ধুর কথা মনে পড়ে। তাদের সঙ্গে অনেক মধুর স্মৃতি জড়িয়ে আছে। খুব ভালো লাগছে যে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও জগন্নাথ হলের শতবর্ষপূর্তি উৎসব হচ্ছে সুদূর সিডনিতে এবং এই অনুষ্ঠানে আমিও যোগ দিতে পারছি।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, শতবর্ষ-উত্তরকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষাদান ও গবেষণায় আরও বেশি মনোবিবেশ করবে। প্রাক্তন ছাত্রনেতা ও বঙ্গবন্ধু কাউন্সিল অস্ট্রেলিয়ার অন্যতম প্রধান সংগঠক সুরজিৎ রায় বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শুধু উচ্চতর ডিগ্রিই দেয় না, মানুষ তৈরি করে।

তিনি বলেন, নেতা-সংগঠক-কবি-দার্শনিক-স্বপ্নদ্রষ্টা তৈরি করে। বঙ্গবন্ধুর মতো নেতা, শেখ হাসিনার মতো দেশরত্ন, বুদ্ধদেব বসুর মতো কবি। বাংলাদেশের ইতিহাসে উজ্জ্বল হয়ে আছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা। জগন্নাথ হলের ছাত্রদের নামও উজ্জ্বল অক্ষরে লেখা এই তালিকায়। তাই এই উৎসব আমাদের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, গর্বের ও আনন্দের।

এমআরএম/জিকেএস

প্রবাস জীবনের অভিজ্ঞতা, ভ্রমণ, গল্প-আড্ডা, আনন্দ-বেদনা, অনুভূতি, স্বদেশের স্মৃতিচারণ, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক লেখা পাঠাতে পারেন। ছবিসহ লেখা পাঠানোর ঠিকানা - [email protected]