কায়রোতে বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী দিবস উদযাপন

প্রবাস ডেস্ক
প্রবাস ডেস্ক প্রবাস ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৫:৩৪ পিএম, ০৭ ডিসেম্বর ২০২১

নীলনদ আর পিরামিডের দেশ মিশরের রাজধানী কায়রোতে উদযাপন করা হয়েছে বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী দিবস।

বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী, স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী এবং বাংলাদেশ-ভারতের কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছরকে স্মরণীয় রাখতে হেলিওপলিসের ব্যারন প্রাসাদে মিশরস্থ বাংলাদেশ ও ভারত দূতাবাস যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

সোমবার (৬ ডিসেম্বর) স্থানীয় সময় বিকেল ৩টায় অনুষ্ঠানের শুরুতে মিশর, বাংলাদেশ ও ভারতের জাতীয় সংগীত পরিবেশনের পর, ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে নিহত শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

jagonews24

এ সময় আলোকচিত্র প্রদর্শনীতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে বাঙালির মুক্তির সংগ্রাম,
মহান মুক্তিযুদ্ধ ও এতে ভারতীয় সহায়তা, ১৯৭১ সালে সংঘটিত গণহত্যা, বঙ্গবন্ধু কর্তৃক স্বাধীনতার ঘোষণা, বিশ্ব গণমাধ্যমে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে প্রচারণা, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জনে তৎকালীন ভারত সরকারের ভূমিকা এবং স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে দু’দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ও উন্নয়ন সহযোগিতা তুলে ধরা হয়।

অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধু কর্তৃক বাংলাদেশের উন্নয়নের সূচনা, বঙ্গবন্ধু-কন্যা শেখ হাসিনার উন্নয়নের অগ্রযাত্রা এবং বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিষয়ে একটি ভিডিও প্রদর্শন করা হয়। বাংলাদেশি ও ভারতীয় শিল্পীরা পৃথকভাবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সঙ্গীত ও নৃত্য পরিবেশন করেন।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মনিরুল ইসলাম, ভারতের রাষ্ট্রদূত অজিত গুপ্তে ও মিসরের পর্যটন উপমন্ত্রী জাদা-শালবী বক্তব্য দেন।

রাষ্ট্রদূত মনিরুল ইসলাম তার বক্তব্যে ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে ভারতের ভূমিকা, স্বাধীন বাংলাদেশের যুদ্ধবিধ্বস্ত প্রেক্ষাপটে ভারতীয় সহায়তা এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিব ও ইন্দিরা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সুদৃঢ় ভিত্তি স্থাপনের বিষয়কে স্মরণ করেন।

রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, ভারত ও বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে নিবিড় যোগাযোগ এবং দু’দেশের সব ক্ষেত্রে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের ওপর আলোকপাত করে বলেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, উভয়ের বলিষ্ঠ ও গতিশীল নেতৃত্বে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও সুদূরপ্রসারী ও নতুন মাত্রা নেবে।

jagonews24

ভারতের রাষ্ট্রদূত অজিত গুপ্তে তার বক্তব্যে বলেন, দুই দেশের মৈত্রীর সূচনা হয়েছিলো মহান মুক্তিযুদ্ধে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াইয়ের মাধ্যমে সর্বোচ্চ আত্মত্যাগ স্বীকার করে।

ভারতের রাষ্ট্রদূত মুক্তিযুদ্ধের সময়কালের কথা স্মরণ করতে গিয়ে বলেন, তার বাবাও সক্রিয়ভাবে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন। ১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক কূটনীতিক সম্পর্ক স্থাপনের মাধ্যমে যে ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রী রচিত হয়েছিলো তা ভবিষ্যতে আরও বেগবান হবে এ মর্মে আশাবাদ ব্যক্ত করেন রাষ্ট্রদূত অজিত গুপ্তে।

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিকরা, সামরিক সচিব, আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধি, মিশরের সামরিক ও বেসামরিক উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তারা, দু’দেশের গণমাধ্যম বেক্তিত্ব, শিক্ষাবিদ, মিশরে অধ্যয়নরত বাংলাদেশি ছাত্র/ছাত্রী, বাংলাদেশি ও ভারতীয় প্রবাসীসহ তিন শতাধিক ব্যক্তি এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

এমআরএম/জিকেএস

প্রবাস জীবনের অভিজ্ঞতা, ভ্রমণ, গল্প-আড্ডা, আনন্দ-বেদনা, অনুভূতি, স্বদেশের স্মৃতিচারণ, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক লেখা পাঠাতে পারেন। ছবিসহ লেখা পাঠানোর ঠিকানা - [email protected]