জেনেভায় আন্তর্জাতিক শ্রম সম্মেলনে মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী

আহমাদুল কবির
আহমাদুল কবির আহমাদুল কবির , মালয়েশিয়া প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১০:১৮ পিএম, ২১ মার্চ ২০২২

সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় চলমান আন্তর্জাতিক শ্রম সম্মেলনে (আইএলসি) অংশ নিয়েছেন মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী এম সারাভানান। ২০২১ সালের ১৯ নভেম্বরে মন্ত্রিসভার বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুসারে বাধ্যতামূলক শ্রমের বিষয়ে আইএলও প্রোটোকল ২৯-এর অনুসমর্থন অনুমোদনের জন্য আইএলওতে জমা দিয়েছেন।

সোমবার (২১ মার্চ) জেনেভা থেকে মানবসম্পদ মন্ত্রী এম সারাভানান এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, জেনেভাতে শ্রম সমস্যা নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি সরকার বাস্তবায়িত ভালো কিছু ভাগ করে নেওয়ার জন্য আইএলও মহাপরিচালক ও এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালকের সাথেও দেখা করবেন তিনি।

আইএলও ওয়েবসাইট অনুসারে, একবার অনুমোদন করা হলে জোরপূর্বক শ্রম প্রতিরোধ ও নির্মূল, ক্ষতিগ্রস্তদের সুরক্ষা, ক্ষতিপূরণের উপযুক্ত কার্যকর প্রতিকারের অ্যাক্সেস ও অপরাধীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

jagonews24

সারাভানান বলেন, জোরপূর্বক শ্রম সংক্রান্ত জাতীয় কর্মপরিকল্পনা, ওয়ার্কিং ফর ওয়ার্কার্স মোবাইল অ্যাপ, এমপ্লয়মেন্ট অ্যাক্ট ১৯৫৫ ও নিয়োগকারীদের ন্যূনতম স্ট্যান্ডার্ডস অব হাউজিং, অ্যাকোমোডেশন অ্যান্ড অ্যামেনিটিস অ্যাক্ট ১৯৯০ এর বাস্তবায়ন।

মন্ত্রী উল্লেখ করেন, তিনি আধুনিক দাসত্ব আইন ২০১৫ সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার সুযোগগুলো অন্বেষণ করতে লন্ডনে একটি গুরত্বপূর্ণ সফর করবেন যা নিয়োগকারীদের অডিট পরিচালনার বাধ্যবাধকতা নির্ধারণ করে ও তাদের সরবরাহ শৃঙ্খলে জোরপূর্বক শ্রমের ঘটনাগুলো রিপোর্ট করে।

‌সরকারের পর্যালোচনা করার জন্য এটি কার্যকর হবে কারণ মালয়েশিয়ার সরবরাহ শৃঙ্খলে সমস্যা সমাধানের জন্য একটি উপযুক্ত ব্যবস্থার অভাবের কারণে জোরপূর্বক শ্রমের ঘটনাও ঘটেছে বওে সারাভানান বলেছেন।

মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, সম্মেলনে তারা আন্তর্জাতিক শ্রম মানদণ্ডে বিশেষ করে সুষ্ঠু কাজের পরিবেশ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে মালয়েশিয়া যে অগ্রগতি অর্জন করেছে তা তুলে ধরতে পারবেন।

বিদেশি শ্রমিকনির্ভর মালয়েশিয়ার উৎপাদন ব্যবস্থা ও উন্নত বিশ্বে পণ্যের বাজারজাত করণের ক্ষেত্রে দিসেন্ট শ্রম ব্যবস্থাপনা ও কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য মাহাথিরের বর্তমান সরকার কাজ করছে। এ কর্মপরিবেশের সঙ্গে বেতন, থাকা, খাওয়া, চিকিৎসা এবং বীমাও সম্পৃক্ত রয়েছে।

এছাড়া লন্ডনে, সারাভানান তার সমকক্ষ, কর্ম ও পেনশন বিষয়ক সেক্রেটারি অব স্টেট, থেরেসি কফির সাথে শ্রম ও কর্মসংস্থান সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আলোচনা করার পাশাপাশি যুক্তরাজ্যের অভিবাসন ও আধুনিক দাসত্বের দূত, জেনিফার টাউনসনের সাথে শ্রমিকদের সুরক্ষা সম্পর্কিত বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করবেন তিনি।

সারাভানান যুক্তরাজ্যের কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ (টিভিইটি) সংস্থাগুলোর সাথেও দেখা করবেন ও পারস্পরিক স্বার্থের বিষয়গুলি নিয়ে আলোচনা করবেন। তিনি বলেছেন এটি দেশের কর্মীবাহিনীর ৩৫ শতাংশ দক্ষ শ্রমিকের জন্য ভাগ করা সমৃদ্ধি ভিশন ২০৩০ এর সাথেও সঙ্গতিপূর্ণ।

১৪ মার্চ শুরু হওয়া আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার গভর্নিং বডির ৩৪৪তম সভা চলবে ২৬ মার্চ পর্যন্ত। শ্রমিকদের উন্নতি, তাদের সুযোগ-সুবিধা ও অধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ভার্সাই চুক্তি অনুযায়ী ১৯১৯ সালের ১১ এপ্রিল আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৪৬ সালে এই সংস্থা জাতিসংঘের সহায়ক সংস্থা হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে।

jagonews24

এটি জাতিসংঘের সবচেয়ে পুরনো ও প্রথম বিশেষায়িত সংস্থা। এটি জাতিসংঘের একমাত্র ত্রিপক্ষীয় সংস্থা, যা সরকার, নিয়োগকর্তা বা মালিক ও শ্রমিকদের নিয়ে একসঙ্গে কাজ করে। ১৯৬৯ সালে সংস্থাটি উন্নয়নশীল দেশে শ্রমিক শ্রেণির মধ্যে শান্তি ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার কারণে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার লাভ করে।

আইএলওর সদর দফতর সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় অবস্থিত। বিশ্বে ৪০টিরও বেশি দেশে সংস্থাটির আঞ্চলিক দফতর (ফিল্ড অফিস) রয়েছে। আইএলওর পরিচালনা পরিষদ (গভর্নিং বডি) হচ্ছে সংস্থাটির নির্বাহী পরিষদ। বছরে তিনবার (মার্চ, জুন ও নভেম্বর) জেনেভায় নির্বাহী পরিষদের বৈঠক হয়। ১০টি দেশ স্থায়ী সদস্য। এগুলো হলো হচ্ছে- ব্রাজিল, চীন, ফ্রান্স, জার্মানি, ভারত, ইতালি, জাপান, রাশিয়া, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র। বাকি ১৮ অস্থায়ী সদস্য প্রতি তিন বছর অন্তর সম্মেলনে নির্বাচিত হয়।

সংস্থাটি বছরে একবার আন্তর্জাতিক শ্রম সম্মেলন আয়োজন করে। এই সম্মেলনে আন্তর্জাতিক শ্রমের মানদন্ নির্ধারণ করা হয় ও আইএলওর বাজেট ও পরিকল্পনা অনুমোদন দেওয়া হয়।

একেআর/এমআরআর

প্রবাস জীবনের অভিজ্ঞতা, ভ্রমণ, গল্প-আড্ডা, আনন্দ-বেদনা, অনুভূতি, স্বদেশের স্মৃতিচারণ, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক লেখা পাঠাতে পারেন। ছবিসহ লেখা পাঠানোর ঠিকানা - [email protected]