প্রশান্ত মহাসাগরের বুকে বাংলাদেশিদের ঈদ উদযাপন

প্রবাস ডেস্ক
প্রবাস ডেস্ক প্রবাস ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৮:৩১ পিএম, ০২ মে ২০২২
জাহাজে মেরিনারদের ঈদ উদযাপন

সোমবার বিশ্বের বিভিন্ন দেশে উদযাপিত হয়েছে পবিত্র ঈদুল ফিতর। বিশ্বের নানা প্রান্তে থাকা বাংলাদেশিরাও উদযাপন করেছে ঈদ। তেমনি ১১ বাংলাদেশ মেরিনারের এবারের ঈদ কেটেছে প্রশান্ত মহাসাগরের বুকে। পরিবার ছেড়ে, দেশ ছেড়ে হাজার মাইল দূরে ঈদ উদযাপন করলেও দেশ মাতৃকাতেই মন পড়ে ছিল বলে জানিয়েছেন তারা।

এই ১১ মেরিনারের একজন সিরাজগঞ্জের সাদ্দাম হোসেন (মামুন)। গভীর সমুদ্রের বুকে কেমন কেটেছে তাদের ঈদ তা জানিয়েছেন জাগো নিউজকে।

marinar

সাদ্দাম বলেন, পরিবার ছেড়ে পঞ্চমবার গভীর সমুদ্রের বুকে ঈদ উদযাপন। অস্ট্রেলিয়ার অ্যাডিলেডে ঈদের সকালটা শুরু হয় প্রশান্ত মহাসাগরের নীল জলরাশি দেখে। আমরা ১১ জন বাঙালি মেরিনার চাকরির সুবাধে অবস্থান করছি তাইওয়ানের স্বনামধন্য কোম্পানি `wisdom Marine Line' এর জাহাজ `MV AMIS HERO' তে। জাহাজে চাইনিজ ক্রুদের প্রাধান্য বেশি থাকায় এবং অন্য ধর্মের হওয়াতে রোজা বা ঈদ পালন করা একটু কঠিন হয়ে পড়ে। তবে এবার বাঙালি বেশি থাকায় সবকিছুই হয়েছে আমাদের মনের মতো।

marinar

ঈদের সকালে ঘুম থেকে উঠে গ্যালিতে (জাহাজের রান্না ঘর) যাওয়া। সবাই মিলে বিভিন্ন পদের খাবার রান্না ছিল এক অন্যরকম অনুভূতি। রান্না শেষ করে গোসল করে সবাই মিলে ঈদের নামাজ পড়াটা ছিল আমার শ্রেষ্ঠ ঈদগুলোর মধ্যে অন্যতম। হাজারো মাইল দূরে থেকে পরিবার, প্রিয় ভালোবাসার মানুষকে মিস করার দুঃখটা ক্ষণিকের জন্য ভুলে গিয়েছিলাম। নামাজ শেষ করে ছবি তোলা, একে অপরের সঙ্গে কোলাকুলির মাধ্যমে ভালোবাসার আদান-প্রদান করাটা ছিল বিশাল সমুদ্রের ভালোবাসায় ডুবে যাওয়া।

marinar

এবার জাহাজে থেকেও ঈদের সালামি নিতে ভুলিনি। সিনিয়র স্যারদের রুমে যাওয়া এবং তাদের কাছে থেকে সালামি নেওয়াটা ছিল এক অন্যরকম অনুভূতি। অবশেষে বাঙালি খাবার, চিংড়ি মাছ, গরুর মাংস, মুরগী, পায়েস, ডিম, বিরায়ানি দিয়ে চাইনিজ খাওয়ার মাধ্যমে আমাদের ঈদের দিন শেষ করা।

marinar

দূর পরবাসে থাকলেও মন পড়ে ছিল পরিবারের কাছে, দেশমাতার কাছে। তবে সেই দুঃখ কিছুটা হলেও দূর হয়েছে ইন্টারনেটের বদৌলতে। ভিডিওকলে বাবা-মা, সহধর্মিণী, ভাই-বোনসহ আত্মীয়দের মায়ামাখা মুখ দেখে কিছুটা হলেও মনে প্রশান্তির ছোঁয়া লাগে। এভাবেই কেটে যায় সমুদ্রের বুকে আমাদের আরেকটি ঈদ।

ইএ/এমএস

প্রবাস জীবনের অভিজ্ঞতা, ভ্রমণ, গল্প-আড্ডা, আনন্দ-বেদনা, অনুভূতি, স্বদেশের স্মৃতিচারণ, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক লেখা পাঠাতে পারেন। ছবিসহ লেখা পাঠানোর ঠিকানা - [email protected]