মালয়েশিয়ায় কর্মী নিয়োগ: গতি বাড়ছে দূতাবাসের সত্যায়নে

আহমাদুল কবির
আহমাদুল কবির আহমাদুল কবির , মালয়েশিয়া প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ০৬:৫৫ পিএম, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২২
গত ৮ আগস্ট প্রথম দফায় ৫৩ জন কর্মী মালয়েশিয়া যান

মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগে দূতাবাসের সত্যায়নে গতি বেড়েছে। কোম্পানি পরিদর্শন ও কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে সত্যায়ন করা হচ্ছে। দূতাবাস সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, দূতাবাসের পাইপলাইনে জমা পড়া ৭০ হাজার আবেদনের বিপরীতে শনিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত প্রায় ৩৮ হাজার আবেদন সত্যায়ন করেছে দূতাবাস।

তবে দূতাবাসের সত্যায়নে গতি বাড়লেও বাংলাদেশে সত্যায়নের গতি একেবারেই কম বলে জানা গেছে।

মালয়েশিয়ায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের সত্যায়নের বিষয়ে শ্রম মিনিস্টার মো. নাজমুস সাদাত সেলিম বলেন, হাইকমিশনার মো. গোলাম সারোয়ারের দক্ষ নেতৃত্বে মালয়েশিয়ার সরকারি ছুটির দিনেও দূতাবাসের কর্মকর্তারা কাজ করে যাচ্ছেন। ৭০ হাজার আবেদনের বিপরীতে ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রায় ৩৮ হাজার আবেদন সত্যায়ন করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ মন্ত্রণালয় কর্তৃক আরোপিত আইন অনুযায়ী বিদেশি কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে আবেদনকৃত কোম্পানির কাগজপত্র ঠিক না থাকলে কোনোমতেই সত্যায়ন করা যাবে না। অনেক কোম্পানি পরিদর্শনে গিয়ে দেখা গেছে, পর্যাপ্ত আবাসন ব্যবস্থা নেই। নেই কাজের সুব্যবস্থাও। এসব কোম্পানির আবেদন সত্যায়নের ক্ষেত্রে পরীক্ষা-নীরিক্ষা করা হচ্ছে।

jagonews24প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী ইমরান আহমদ ও মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী

এদিকে দূতাবাস প্রায় ৩৮ হাজার আবেদন সত্যায়ন করলেও বাংলাদেশ প্রান্তে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে মাত্র ১ হাজার ৮১০ জন স্মার্টকার্ড (ছাড়পত্র) পেয়েছেন, যা সত্যায়নের তুলনায় একেবারেই অপ্রতুল। ফলে মালয়েশিয়ায় কর্মী আগমনে ধীরগতি দেখা দিয়েছে। ধীরগতির ফলে শ্রম সংকটে থাকা মালয়েশিয়ার নিয়োগকর্তাদের মধ্যে চিন্তা কাজ করছে বলে জানা গেছে। কর্মী নিয়োগে গতি বাড়াতে জন্য সেদেশের বিরোধীদল ডি এ পির চেয়ারম্যান মানবসম্পদ মন্ত্রীকে অনুরোধ করেছেন।

অনিয়মের কারণে মাহাথির মোহাম্মদের সরকার কর্তৃক স্থগিত করা কর্মী নিয়োগ গত ৮ আগস্ট থেকে আবারও শুরু হয়েছে। কর্মী পাঠাতে রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোতে চাকরিপ্রত্যাশীদের ব্যাপক চাপ রয়েছে বলে জানিয়েছেন এজেন্সির মালিকরা। অনেকে পাসপোর্ট ও অর্থ দিয়ে দীর্ঘসময় অপেক্ষার পরও মালয়েশিয়ায় না যেতে পেরে এজেন্সিগুলোকে দোষারোপ করছেন বলে জানা গেছে।

মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মো. গোলাম সারোয়ার আশা করে বলেন, আগামী তিন বছরের মধ্যে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের ৫ লাখের বেশি নতুন কর্মীর কর্মসংস্থান হবে। এর মাধ্যমে মালয়েশিয়া থেকে বাংলাদেশে পাঠানো মোট রেমিট্যান্স তিন বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাবে।

এদিকে বাংলাদেশ প্রান্ত থেকে কর্মী পাঠানোর গতি না বাড়ালে আবারও ভেস্তে যেতে পারে মালয়েশিয়ায় কর্মী নিয়োগ। কারণ হিসেবে অনেকেই বলছেন, মালয়েশিয়ার জাতীয় নির্বাচন সন্নিকটে। নির্বাচনের পরে বর্তমান সরকারের ধারাবাহিকতা না থাকলে কর্মী নিয়োগ বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে অনেকে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

কর্মী নিয়োগে গত ডিসেম্বরে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা স্মারক সই হয়। এরপর সীমিত এজেন্সির তালিকা চেয়ে মালয়েশিয়া সরকার চিঠি পাঠায়। এতে রাজি হননি প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী। পরে বাংলাদেশের ২৫টি মূল এজেন্সি ও প্রতিটির সহযোগী (সাব-এজেন্ট) হিসেবে ১০টি করে এজেন্সি রাখার সিদ্ধান্ত জানায় মালয়েশিয়া। বায়রার সাবেক মহাসচিব রুহুল আমিন স্বপনের নেতৃত্বে তিনজন সংসদ সদস্যের এজেন্সিসহ ২৫টির তালিকা চূড়ান্ত করা হয়।

রিক্রুটিং এজেন্সি মালিকদের অভিযোগ, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার নিয়ে নতুন করে তৈরি হতে যাওয়া সিন্ডিকেট ঠেকানোর চেষ্টা করেনি প্রবাসী মন্ত্রণালয়। বরং কৌশলে মালয়েশিয়ার হাতে দায়িত্ব ছেড়ে দিয়ে দায় এড়িয়েছে তারা। তাই মালয়েশিয়ার সম্মতি ছাড়া সবার জন্য বাজার উন্মুক্ত করা যাচ্ছে না।

ইএ/জিকেএস

প্রবাস জীবনের অভিজ্ঞতা, ভ্রমণ, গল্প-আড্ডা, আনন্দ-বেদনা, অনুভূতি, স্বদেশের স্মৃতিচারণ, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক লেখা পাঠাতে পারেন। ছবিসহ লেখা পাঠানোর ঠিকানা - [email protected]