তুরস্ক-বাংলাদেশ বিজনেস ফোরামের আলোচনা সভা

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০১:১১ পিএম, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২২

ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) প্রতিনিধিদলের সঙ্গে ইস্তাম্বুল চেম্বার অব কমার্সের ‘তুরস্ক-বাংলাদেশ বিজনেস ফোরাম’ শীর্ষক এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২৮ সেপ্টেম্বর) ইস্তাম্বুল চেম্বার অব কমার্সের কার্যালয়ে এ সভার আয়োজন করা হয়।

বাংলাদেশ-তুরস্কের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্ভাবনা বৃদ্ধিতে ডিসিসিআই সভাপতি রিজওয়ান রহমানের নেতৃত্বে ৮৬ সদস্যবিশিষ্ট একটি প্রতিনিধিদল বর্তমানে তুরস্ক সফর করছে।

অনুষ্ঠানের শুরুতে তুরস্ক চেম্বারের নির্বাহী কমিটির সদস্য বুরহান পোলাত স্বাগত বক্তব্যে বলেন, তুরস্ক ও বাংলাদেশের দ্বি-পাক্ষিক বাণিজ্য সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। তিনি উল্লেখ করেন দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ অত্যন্ত সম্ভাবনাময়, কারণ দেশটি গত কয়েক দশকে ব্যবসা ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সাধন করেছে।

তিনি বাংলাদেশের অর্থনীতির উন্নয়নে বাজার সম্প্রসারণের পাশাপাশি রপ্তানিমুখী পণ্যের বহুমুখীকরণের ওপর জোরদার করেন। বাংলাদেশের উদ্যোক্তাদের জন্য তুরস্ক একটি অপার সম্ভাবনাময় বাজার হতে পারে। সম্প্রতি বাংলাদেশ চামড়া, ওষুধ, তৈরি পোশাক ও হালকা প্রকৌশল শিল্পে আশাব্যঞ্জক উন্নতি স্বাধন করতে পেরেছে।

এছাড়াও তিনি দু’দেশের বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তাদের নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করার আহ্বান জানান। তিনি দু’দেশের বাণিজ্য সম্প্রসারণে বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরের প্রস্তাব করেন। ইস্তাম্বুল চেম্বার অব কমার্স প্রায় ৬ লক্ষাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সংবলিত বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ বাণিজ্য সংগঠন। বাংলাদেশি বিনিয়োগকারীদের এ দেশে ব্যবসা সম্প্রসারণে ইস্তাম্বুল চেম্বার অব কমার্সের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।

ঢাকা চেম্বারের সভাপতি রিজওয়ান রহমান বলেন, ২০২০-২১ অর্থবছরে বাংলাদেশ ও তুরস্কের দ্বি-পাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ৮৭১.৫৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। যদিও দ্বি-পাক্ষিক বাণিজ্য বাংলাদেশের অনুকূলে রয়েছে তবে তা তরান্বিত করার জন্য দু’দেশের উদ্যোক্তাদের আরও বেশি হারে বিনিয়োগে উৎসাহিত হতে হবে কারণ বর্তমান বাণিজ্যের পরিমাণ মোটেও সন্তোষজনক নয়।

তুরস্ক বাংলাদেশের জন্য ২৩তম বৃহৎ রপ্তানি গন্তব্যস্থল। বাংলাদেশে বৈদেশিক বিনিয়োগকারী দেশসমূহের মধ্যে তুরস্ক ২৯তম বৃহত্তম দেশ যে দেশের উদ্যোক্তারা বাংলাদেশে এরই মধ্যে ৩০.৫১ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিনিয়োগ করেছে। তিনি বাংলাদেশের শিল্পখাতের আধুনিকায়নে তুরস্কের প্রযুক্তি সহায়তা, এসএমই খাতের সক্ষমতা বৃদ্ধি, যৌথ গবেষণা কার্যক্রম এবং এগ্রো ভেলু চেইনের উন্নয়নে তুরস্ককে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

বিজনেস ফোরাম শেষে ঢাকা চেম্বারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে ইস্তাম্বুল চেম্বারের প্রায় ৩৫০টির বেশি সদস্য প্রতিষ্ঠানের মধ্যকার বিটুবি ম্যাচ-মেকিং অনুষ্ঠিত হয় যেখানে দু’দেশের উদ্যোক্তারা বিনিয়োগ সম্ভাবনা, বাণিজ্য সম্প্রসারণ নিয়ে আলোচনা করেন। বিটুবি সেশনে অংশগ্রহণকারী তুরস্কের উদ্যোক্তারা বাংলাদেশে বিনিয়োগের ইতিবাচক আগ্রহ প্রকাশ করেন।

এছাড়াও ইস্তাম্বুল চেম্বারের সভাপতি সেকিব এভডাচিভ এবং ঢাকা চেম্বারের সভাপতি রিজওয়ান রহমানের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সভা অনুষ্ঠিত হয়।

ইএআর/এমআরএম/জিকেএস

প্রবাস জীবনের অভিজ্ঞতা, ভ্রমণ, গল্প-আড্ডা, আনন্দ-বেদনা, অনুভূতি, স্বদেশের স্মৃতিচারণ, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক লেখা পাঠাতে পারেন। ছবিসহ লেখা পাঠানোর ঠিকানা - [email protected]