নৌপরিবহন খাতে সহযোগিতায় গ্রিস-বাংলাদেশ বৈঠক

মতিউর রহমান মুন্না
মতিউর রহমান মুন্না মতিউর রহমান মুন্না , গ্রিস প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ০৮:৩৪ এএম, ২৬ নভেম্বর ২০২২

নৌপরিবহন খাতে সহযোগিতার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ও গ্রিসের মধ্যে দ্বিতীয় দফায় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। এবার গ্রিক সমুদ্র বিষয়ক মন্ত্রী ইওয়ান্নিস প্লাকিওতাকিসের সঙ্গে বৈঠকে অংশ নেন দেশটিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত আসুদ আহমেদ।

গত মঙ্গলবার গ্রিক সমুদ্র বিষয়ক মন্ত্রীর কার্যালয়ে এ বৈঠক আয়োজিত হয়। এর আগেও নৌপরিবহন খাতে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার বিষয়ে একটি গোলটেবিল বৈঠক হয়েছিল।



বৈঠকে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত আসুদ আহমেদ বলেন, বাংলাদেশ গত এক দশকে একটি জাহাজ নির্মাণকারী দেশ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে এবং শিপ ব্রেকিং বা জাহাজ ভাঙার শিল্প টানা বছর ধরে শীর্ষস্থান অর্জন করেছে। তাই বাংলাদেশ ও গ্রিসের নৌ-পরিবহন খাত অর্থপূর্ণ সহযোগিতার মাধ্যমে পারস্পরিক সুবিধার জন্য একে অপরের পরিপূরক হতে পারে।

স্বতঃস্ফূর্ত আলোচনার মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীরা জাহাজ নির্মাণ, জাহাজ মেরামত, জাহাজ ভাঙা ও পুনর্ব্যবহার, ক্রু সোর্সিং, মেরিটাইম প্রশিক্ষণ এবং শিক্ষাকে বাংলাদেশ ও গ্রিসের মধ্যে শিপিং সেক্টরে সহযোগিতার প্রধান ক্ষেত্র হিসেবে চিহ্নিত করেন। তারা অভিমত ব্যক্ত করেন যে, জাহাজ নির্মাণ এবং জাহাজ মেরামতের যৌথ উদ্যোগ গড়ে তোলা গ্রিক জাহাজ মালিকদের বাংলাদেশের দিকে আকৃষ্ট করতে সহায়ক হতে পারে। এ বিষয়ে তারা বিশ্বাস গড়ে তোলার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে বাংলাদেশি জাহাজ নির্মাণ এবং ইয়ার্ড মেরামতের প্রচারের গুরুত্বের ওপরও জোর দেন।

অংশগ্রহণকারীরা বাংলাদেশি ক্রুদের উচ্চমানের প্রতি সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং শিপিং সেক্টরে উপযুক্ত ক্রুদের ক্রমবর্ধমান চাহিদার ইঙ্গিত দিয়ে উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশ সামুদ্রিক ক্রুদের সবচেয়ে বড় উৎস হতে পারে। প্রতিযোগিতামূলক সুবিধাকে পুঁজি করে বাংলাদেশ তার শিপব্রেকিং শিল্পকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে বলে মনে করেন।

বৈঠকে বাংলাদেশ দূতাবাসের মিনিস্টার মোহাম্মদ খালেদ ও গ্রিক সমুদ্র বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক শেষে গ্রিক সমুদ্র বিষয়ক মন্ত্রী ইওয়ান্নিস প্লাকিওতাকিসের হাতে গ্রিক ভাষায় প্রকাশিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ বই তুলে দেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত আসুদ আহমেদ।

এমআরএম/এএসএম

প্রবাস জীবনের অভিজ্ঞতা, ভ্রমণ, গল্প-আড্ডা, আনন্দ-বেদনা, অনুভূতি, স্বদেশের স্মৃতিচারণ, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক লেখা পাঠাতে পারেন। ছবিসহ লেখা পাঠানোর ঠিকানা - [email protected]