ভালোবাসার প্রকৃতি

প্রবাস ডেস্ক
প্রবাস ডেস্ক প্রবাস ডেস্ক
প্রকাশিত: ১২:০০ পিএম, ০২ ডিসেম্বর ২০২২
হাঁটা পথে সূর্যমুখী | ছবি- জাদীদ রওশন

জাদীদ রওশন, টরন্টো কানাডা

সেই ছেলেবেলা থেকে ভাই-বোন বন্ধুদের সঙ্গে কুয়াশা ভেজা সকালে ঝরে পড়া শিউলি কুড়াতাম, গায়ে শীতের কাপড় চেপে হাঁটতাম শিশির ভেজা সবুজ ঘাসে। কি এক অনাবিল আনন্দ অনুভব করতাম। বোধ করি বেড়ে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে প্রকৃতির রূপ সৌন্দযের প্রতি আমার দুর্বলতাও বাড়তে থাকে।

নৌকায় চড়ে বানের জলে ভেসে যাওয়া কচুরিপানা, মাছের খেলা, মাঝি মাল্লার গান, কিশোরীর হাতে বৃষ্টিতে ভেজা কদম ফুল, ভাটিয়ালি গান, চড়ুই, শালিকের কিচির মিচির কত যে উপভোগ করেছি সব স্মৃতি হয়ে বুকে নাড়া দেয় সারাক্ষণ। দেখেছি কলসি কাঁখে হেঁটে যাওয়া গাঁয়ের শ্যামলা মেয়ে। মনে মনে প্রেম করে অজান্তেই হারিয়ে গেছে কখন।

বাসার বাগানে ফোটা গন্ধরাজ, যুই, সুর্যমুখী চেয়ে দেখেছি আদর করেছি আলতোভাবে। ছাত্রজীবনে কত রাত গভীর হয়েছে হলের সবুজ ঘাসের বিছানায় ভরা পূর্ণিমায় চাঁদের সঙ্গে প্রেম করেছি, ঝাউ গাছের সাথে কথা বলেছি। যৌবনে কিংবা বয়সী আমি কত গিয়েছি তিস্তা-পদ্মা-যমুনার বুকে। শরতের কাশফুল, জোনাকির আলো ছেড়ে ঘরে ফিরতে কষ্ট পেয়েছি অনেক।

অতিদূর গাঢ় সবুজ পাহাড় যখন ডাকতো ছুটে গিয়েছি শ্রীমঙ্গল, নীলগিরি। নীল আকাশের উদারতা বুকে টেনে নিয়েছি। ভেসে আসা মেঘের সঙ্গে মিতালী করেছি। অরণ্যের হাতছানিও আমি ফেলতে পারিনি।

ছুটে গিয়েছি সুন্দরবন, দেখেছি বাঘের পায়ের ছোপ ছোপ দাগ। রূপসার স্রোতে কতোবার হাত পা ভিজিয়েছি মনে আচঁড় লেগে আছে আজও। সাগরের উত্তাল ঢেউ, নোনাজল, লাল কাঁকড়ার উদ্দাম ছোটাছুটি সমস্ত শরীরজুড়ে লেপ্টে আছে।

যেখানেই যাই, যেভাবেই থাকি কি করে ভুলি সবুজ ঘাস, গাছের লুটোপুটি, উদার আকাশ, নদীর বয়ে যাওয়া, নরম জল, পাখির ডাক!!!

এমআরএম/জিকেএস

প্রবাস জীবনের অভিজ্ঞতা, ভ্রমণ, গল্প-আড্ডা, আনন্দ-বেদনা, অনুভূতি, স্বদেশের স্মৃতিচারণ, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক লেখা পাঠাতে পারেন। ছবিসহ লেখা পাঠানোর ঠিকানা - [email protected]