আয়াতুল কুরসির ফজিলতপূর্ণ দ্বিতীয় বাক্য ‘আল-হাইয়্যুল ক্বাইয়্যুম’

ধর্ম ডেস্ক
ধর্ম ডেস্ক ধর্ম ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৯:৪৪ এএম, ১৯ নভেম্বর ২০১৭

‘আল-হাইয়্যুল ক্বাইয়্যুম’ শব্দ দুটি আয়াতুল কুরসিতে ব্যবহৃত আল্লাহ তাআলার আকর্ষণীয় গুণবাচক নাম। যার অর্থ হলো আল্লাহ তাআলা চিরঞ্জীব, চির প্রতিষ্ঠিত। আল্লাহ তাআলার গুণবাচক এ শব্দদ্বয়ও কুরআনুল কারিমের বহুল মর্যাদা সম্পন্ন ও বড় আয়াত ‘আয়াতুল কুরসি’র অংশ। প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু এ আয়াতাংশের শব্দ দুটিরও অনেক ফজিলত বর্ণনা করেছেন।

সম্পূর্ণ আয়াতুল কুরসি তেলাওয়াতে মানুষ শয়তান থেকে হেফাজত থাকে। এ আয়াতটির রয়েছে অনেক ফজিলত। আর এ আয়াতের অংশ ‘আল-হাইয়্যুল ক্বাইয়্যুম’ শব্দ দুটিরও রয়েছে আলাদা আলাদা ফজিলত।

আয়াতুল কুরসির প্রথম বাক্যে আল্লাহ তাআলা তাওহিদের ঘোষণা করেছেন। হাদিসে এ বাক্যেরও অনেক ফজিলত ও মর্যাদা ঘোষিত হয়েছে।

আর আয়াতুল কুরসিতে আল্লাহর আকর্ষণীয় গুণবাচক ১০টি বাক্যের মধ্যে দ্বিতীয় বাক্য হলো- اَلْحَىُّ الْقَيُّوْمُ ‘আল-হাইয়্যুল ক্বাইয়্যুম।’

আরবি (حَىُّ) হাইয়্যুন অর্থ হলো জীবিত। আল্লাহ তাআলা এ নামটি তাঁর গুণবাচক নাম হিসেবে গ্রহণ করে সবাইকে জানিয়ে দেন যে, তিনি সব সময় জীবিত ও বিদ্যমান থাকবেন; মৃত্যু তাকে স্পর্শ করতে পারবে না। এ নামের জিকেরে আল্লাহ তাআলা বান্দার নেক হায়াত ও সুস্থতা দান করেন।

আর (قَيُّوْمُ) ক্বাইয়্যুম শব্দটি কিয়াম শব্দ থেকে উৎপন্ন। ক্বাইয়্যুম হলো সেই সত্তা যিনি নিজে জীবিত থেকে অন্যকে জীবিত রাখেন এবং নিয়ন্ত্রণ করেন। এ গুণবাচক শব্দদ্বয়ের মধ্যে ক্বাইয়্যুম আল্লাহর এমন এক বিশেষ গুণ; যাতে কোনো সৃষ্টিই অংশীদার হতে পারে না। তার সত্তা স্থায়ীত্বের জন্য কারো মুখাপেক্ষী নয়। এ কারণেই কোনো মানুষকে ক্বাইয়্যুম বলা বৈধ নয়।

যারা আব্দুল কাইয়্যুম না বলে শুধু কাইয়্যুম নাম ব্যবহার করে তারা গোনাহগার হবে।

অনেকে (حَىُّ-قَيُّوْمُ) হাইয়্যু ও ক্বাইয়্যুমকে আল্লাহ তাআলার ইসমে আজম হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন। হজরত আলি রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন যে, বদরের যুদ্ধে একবার আমি চেয়েছিলাম যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে দেখবো তিনি কি করছেন। সেখানে (প্রিয়নবির কাছে) গিয়ে দেখলাম তিনি সিজদায় পড়ে (يَا حَىُّ – يَا قَيُّوْمُ) ইয়া-হাইয়্যু, ইয়া-ক্বাইয়্যুমু’ বলছেন।

চিন্তা এবং পেরেশানিতে এ নামদ্বয়ের কার্যকরী ফজিলত ও আমল হাদিসে বর্ণিত হয়েছে।

হাদিসে আল্লাহর গুণবাচক এ নাম দু’টিরও আলাদা আলাদা ফজিলত তুলে ধরা হয়েছে। আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে এ নাম দু’টির ফজিলত ও আমল দৈনন্দিন জীবনে বাস্তবায়ন করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

এমএমএস/আইআই

আপনার মতামত লিখুন :