সাহাবিদের প্রতি প্রিয়নবির পরামর্শ

ধর্ম ডেস্ক
ধর্ম ডেস্ক ধর্ম ডেস্ক
প্রকাশিত: ১২:০২ পিএম, ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

দুনিয়াতে উত্তম জিনিস প্রাপ্তি, সুখ-শান্তি, সুযোগ-সুবিধা ও ভালো ফলাফল লাভ করতে হলে আত্মত্যাগের বিকল্প নেই। বিনা ত্যাগ বা পরিশ্রমে কখনো উত্তম জিনিস লাভ করা যায় না। দ্বীনে ইলাহির জন্য যুগে যুগে অগণিত অসংখ্য নবি-রাসুল ও তাদের অনুসারীদের চরম কুরবানি দিতে হয়েছে। ইসলাম ও মুসলমানদের ক্ষেত্রেও কষ্ট ভোগের ব্যতয় ঘটেনি।

অথচ ইসলাম মানুষের শান্তি ও মুক্তির বারতা নিয়ে এসেছিল। প্রিয়নবি ও তাঁর সঙ্গীদেরকে অনেক ত্যাগ-তিতিক্ষার মধ্য দিয়ে সময় অতিবাহিত করতে হয়েছে। ইসলামকে এ অবস্থায় আসতে অগণিত অসংখ্যা মুসলমানের জীবন এবং রক্ত দিতে হয়েছে।

চরম দুঃখ-কষ্ট ও নির্যাতনে সাহাবায়ে কেরামের মনোবল ও ঈমানকে চাঙ্গা রাখতে রাসুলুল্লাল্লাহু সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম শুনিয়েছেন পূর্ববর্তী নবি-রাসুলদের সঙ্গে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন ঘটনা। যেন সাহাবায়ে কেরামের ঈমানকে শানিত করে। ইসলামের জন্য আত্মদানের রসদ খুঁজে পায় উম্মতে মুসলিমা।

হজরত খাব্বাব ইবনে আরত রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে এমন মুহূর্তে অভিযোগ করলাম, যখন তিনি কাবা ঘরের ছায়ায় চাদর দিয়ে বালিশ বানিয়ে বিশ্রাম করছিলেন।

আমরা বললাম, আপনি কি আমাদের জন্য (আল্লাহর কাছে) সাহায্য কামনা করবেননা? আমাদের জন্য কি দোয়া করবেন না? তিনি বললেন-
‘দেখ! তোমাদের পূর্বে যারা ঈমানদার ছিল (তাদের প্রতি এমন নির্যাতন হতো যে) তাদের কাউকে ধরে জমিনে গর্ত করে পুঁতে (জীবন্ত কবর) দেয়া হত। অতঃপর তার মাথায় করাত রেখে দ্বিখণ্ডিত করা হত। আর লোহার চিরুনি দ্বারা শরীরের গোশত ও হাড় পৃথক করা হত। কিন্তু এমন নির্মম অত্যাচারও তাদেরকে দ্বীন থেকে বিরত করতে পারেনি।

আল্লাহর শপথ! এই দ্বীন পূর্ণতা লাভ করবে, এমনকি ভ্রমণকারী সানআ থেকে হাজরা মাউত পর্যন্ত নির্বিঘ্নে ভ্রমণ করবে; কিন্তু ‘আল্লাহ ব্যতিত আর কাউকে ভয় পাবে না। আর মেষপালের জন্য একমাত্র বাঘের ভয় বাকি থাকবে; কিন্তু ‘তোমরা আসলে তাড়াহুড়া করছ।”(বুখারি)

অথচ সে সময় ইসলামের নতুন অনুসারীদের ওপর চলছিল চরম জুলুম ও নির্যাতন। আপনজন তাদের জীবনের জন্য হুমকি হয়েগিয়েছিল। সে সময়েও প্রিয়নবি তাঁর প্রিয় সঙ্গীদেরকে ধৈর্য ধারণে পূর্বে নবি-রাসুলদের ঘটনা বর্ণনা করেছেন।

সুতরাং ইসলামের বিজয় ও সফলতায় সবর অবলম্বনের বিকল্প নেই। তাই ঈমানের ওপর অটল ও অবিচল থেকে ধৈর্যের মাধ্যমে ইসলামের প্রচার ও প্রসারে নিজেদের নিয়োজিত রাখা ঈমানের একান্ত দাবি।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে ঈমানের উপর অটল ও অবিচল থাকতে বর্তমানের সামান্য ফেতনা-ফাসাদে ধৈর্যের সহিত সুন্দর ও উত্তম আচরণ দ্বারা মোকাবেলা করার তাওফিক দান করুন। কুরআন ও হাদিস অনুযায়ী জীবনের সকল কার্যক্রম পরিচালনা করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

এমএমএস/এমএস

আপনার মতামত লিখুন :