আজকের তারাবিতে মুমিন পাবে পরকালের সফলতার মূলমন্ত্র

ধর্ম ডেস্ক
ধর্ম ডেস্ক ধর্ম ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৯:১২ পিএম, ১৮ মে ২০১৮

আজ দ্বিতীয় তারাবিহ। মসজিদে মসজিদে কুরআনের বাগানে আল্লাহর বাণীর ফুল ফুটবে। কুরআনের আয়াতের সৌরভে ঘ্রানে মুসলিম উম্মাহ হবে আত্মহারা। কেননা আজকের তারাবিহতে আল্লাহ তাআলা মানুষের পারিবারিক জীবনের সুখ-শান্তি, হালাল-হারামের অসংখ্য নিয়ামতের বর্ণনা করেছেন।

যার মাধ্যমে মানুষ পরকালের চিরস্থায়ী জীবনের সফলতার মূলমন্ত্র খুঁজে পাবে। মানুষ যখনই এ সব মূলমন্ত্র অনুযায়ী জীবন সাজাবে, তখনই তারা হবে সফল।

পরকালের নাজাতের যাবতীয় পাথেয় বর্ণনা করবে হাফেজে কুরআনগণ। পারিবারিক জীবন গঠন, মদ-জুয়া-সুদের ভয়াবহ করাল গ্রাসের অশুভ পরিণতির ঘোষণা। যা মানুষকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে অনুপ্রেরণা যোগাবে।

আজকের তারাবিহেত সুরা বাকারা শেষ হবে এবং সুরা আল-ইমরানের প্রথমাংশ পড়া হবে। আয়াতে হিসাবে সুরাবাকার ২০৪নং আয়াত থেকে শেষ পর্যন্ত আর সুরা আল-ইমরানের ০১ থেকে ৯১ আয়াত পর্যন্ত তেলাওয়াত হবে।

আজকের দ্বিতীয় তারাবিহতে পঠিত আয়াতের আলোচ্য বিষয়গুলো রোজাদার মুমিন মুসলমানের জন্য তুলে ধরা হলো-

সুরা বাকারা
সুরা বাকারার এ অংশে ইসলামের অনেক গুরুত্বপূর্ণ মূলনীতি পাঠ করা হবে। সুদ ভিত্তিক অর্থ ব্যবস্থাসহ মুসলিম উম্মাহর ঐক্যের মূলনীতি থেকে শুরু করে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দান-সদকার হকদার, ইয়াতিমদের সম্পদ রক্ষণাবেক্ষণ, স্বামী-স্ত্রীর দাম্পত্য জীবন ও বাবা মায়ের অধিকারসহ অনেক বিষয় সম্পর্কিত বিধানসমূহ পাঠ করা হবে।

আয়াত ২০৪-২১৪
ইসলামের সামাজিক অবস্থার চিত্রায়ন করা হয়েছে। মুমিনের প্রকৃত পরিচয়, ইয়াহুদি জাতির ধ্বংসের কারণ এবং মুশরিকদের বিপরীতমুখী দৃষ্টিভঙ্গি প্রসঙ্গে বর্ণনা রয়েছে। মুসলিম উম্মাহর ঐক্যবদ্ধের মূলনীতি ঘোষণাপূর্বক জান্নাত লাভের মিথ্যার আশ্বাসে লোভ-লালসা ও বিভ্রান্তিমূলক বর্ণনার বিষয়ে সতর্কতা রয়েছে।

আয়াত ২১৫-২২০
দান-সাদকার অগ্রাধিকারভুক্ত খাতের উল্লেখ, ইসলামে জিহাদের গুরুত্ব, আল্লাহর মাসসমূহের মধ্যে সম্মানিত মাসের বিধান ও তাৎপর্যের বর্ণনা রয়েছে। মদ-জুয়া নিষিদ্ধে প্রথম কর্মসূচি ঘোষণা এবং দান-সাদকার পরিমাণ ও মাত্রা এবং ইয়াতিমের সম্পদ ব্যয় নির্বাহ ও অধিকার সংরক্ষণের বিবরণ রয়েছে।

আয়াত ২২১-২৪২
মানুষের পারিবারিক জীবনের নীতিমালায় ইসলামে বিবাহের বিধান, যৌন জীবন, বিধর্মী ও মুশরিক নারী পুরুষকে বিবাহের বিধান, মহিলাদের ঋতুস্রাবের বিধান, শপথ সংক্রান্ত সতর্কতার বিধান ওঠে এসেছে।

স্বামী-স্ত্রীর ইলা’র বিধান, তালাকের বিধান ও মোহর, তালাক পরবর্তী হিল্লা বিয়ে সংক্রান্ত বিষয় ওঠে এসেছে।

সন্তানদের স্তন্যদানের বিষয়, বিধবা বা তালাকপ্রাপ্তা নারীর ইদ্দতকাল এবং বিধবার প্রতি ইসলামের উদারতা ও তাদের অধিকার সংরক্ষণে ইসলামি নীতি আলোচিত হয়েছে।

আয়াত ২৪৩-২৫৮
ইয়াহুদিদের চরম হঠকারিতা, আল্লাহর পথে জিহাদ ও তার নেতৃত্বের সুফল, জালেমকে দিয়ে জালেমদের দমনের বিষয়টি ওঠে এসেছে। রিসালাত ও নবুয়ত প্রসঙ্গে নবীগণের মধ্যে পারস্পরিক মর্যাদার তারতম্য এবং কুরআনুল কারিমের সবচেয়ে বড় আয়াত ‘আয়াতুল কুরসি’ মধ্যে মহান আল্লাহ তাআলা অনেকগুলো গুণের আলোচনা এসেছে। ইসলামের পূর্ণাঙ্গ অনুসরণে তাগুত বর্জন ঈমানের পূর্বশর্ত ও ব্যক্তি স্বাধীনতার আলোচনা রয়েছে।

আয়াত ২৫৯-২৮৬
সর্বোপরি এ সুরায় সুদের মতো মারাত্মক ব্যাধির গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা রয়েছে। ব্যবসা ও সুদের নীতিগত পার্থক্য, সুদের অর্থনৈতিক ক্ষতি, সুদের শাস্তি ঘোষিত হয়েছে।

সুরার শেষাংশে লেনদেন ও চুক্তি সংক্রান্ত বিধিবিধানের পাশাপাশি ইসলামের সাক্ষ্য আইন, মেয়াদি ঋণ সংক্রান্ত নীতিমালা এবং বন্ধকীঋণ সংক্রান্ত নীতিমালার বিবরণ রয়েছে। আরও রয়েছে ঈমানের সঠিক রূপ-রেখার আলোচনা।

সুরা আল-ইমরান
সুরা আল-ইমরান মাদানি সুরা। এ সুরার সব আয়াতই হিজরতের পর বিভিন্ন সময়ে নাজিল হয়। ২০ রুকুর এ সুরাটির আয়াত সংখ্যা ২০০। এ সুরায় দু’টি দলকে সম্বোধন করা হয়েছে। একটি হলো আহলে কিতাব আর দ্বিতীয় দলটি হলো যারা প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওপর ঈমান গ্রহণ করেছিলেন।

আয়াত ১-৩২
এ সুরায় আল্লাহ তাআলা তাওহিদের বিষয়ে অতিতের আসমানী কিতাবের রেফারেন্সসহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরছেন।

পৌত্তলিকতা, খ্রিস্টবাদ ও আল্লাহর একত্ববাদের আলোচনা, তাওরাত ও ইঞ্জিলের ঐতিহাসিক পটভূমি, সব রিসালাতের উৎসের বিষয়ে বর্ণনা রয়েছে।

কুরআনে মুহকামাত ও মুতাশাবিহাত আয়াতের আলোচনাও রয়েছে। মুমিনের গুণাবলী ও তাঁদের প্রতি আল্লাহর সাহায্যের পাশাপাশি ইসলামের সামগ্রিক আলোচনা ও আমল ধ্বংস হওয়ার কারণ এবং বিধর্মীদের সঙ্গে বন্ধুত্বের ব্যাপারে নসিহত এবং আল্লাহ তাআলার সার্বভৌম ক্ষমতার বিষয় ওঠে এসেছে।

আয়াত ৩২-৬৪
পূর্ববর্তী নবি রাসুলসহ অনেক মহীয়সী ব্যক্তিত্বের জীবনাচরণ ইবাদত-বন্দেগি ও মর্যাদা এবং শ্রেষ্ঠত্বের ঘোষণা রয়েছে এ আয়াতগুলোতে। বিবি মরিয়ম ও হজরত ইসা আলাইহিস সালামের জন্ম, প্রেক্ষাপট, মুযিজা, নবুয়তি মিশন এবং ইসা আলাইহিস সালামকে হত্যায় ইয়াহুদিদের ষড়যন্ত ও মুবাহালার বিষয়ে বর্ণনা রয়েছে।

আয়াত ৬৫-৯১
মুসলিম জাতির ঐক্য এবং মুসলমানদের ছদ্মাবরণে ইয়াহুদি ও ইসলাম বিদ্বেষীদের ষড়যন্ত্রসহ নৈতিকতার প্রশ্নে ইয়াহুদি ও খ্রিস্টানদের অবস্থান বিষয়ক আলোচনা রয়েছে।

শেষের আয়াতগুলোর দিকে আল্লাহর সঙ্গে নবিদের ওয়াদা এবং আল্লাহ তাআলা অবাধ্যতাকারী মুরতাদের তাওবা প্রসঙ্গে বিস্তারিত বিবরণ রয়েছে।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে পুরো কুরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে তারাবিহ নামাজ আদায় করার এবং কুরআনের আজকের অংশ বুঝে পড়ার তাওফিক দান করুন। কুরআন অনুযায়ী আমলি পারিবারিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জিন্দেগি যাপন করার তাওফিক দান করুন। কুরআনের আলোয় হৃদয়কে আলোকিত করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

এমএমএস/পিআর

আপনার মতামত লিখুন :