ঐতিহাসিক ঘটনার সাক্ষী মসজিদে কিবলাতাইন

বিশেষ সংবাদদাতা
বিশেষ সংবাদদাতা বিশেষ সংবাদদাতা মদিনা থেকে
প্রকাশিত: ০২:৪৭ পিএম, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮

গেট দিয়ে প্রবেশ করতেই চোখে পড়ে কাঠের তৈরি একটি উঁচু মিম্বর। সেদিকে দাঁড়িয়ে সবাই দু্ই রাকাত নামাজ পড়তে ব্যস্ত। অনেকের চোখ তখন খুঁজে বেড়াচ্ছে আরেকটি মিম্বর। চারদিকে একবার চোখ বুলাতেই দেখা যায় যেদিক দিয়ে প্রথমে প্রবেশ সেখানেই একটি কিবলা।

ইসলামের ইতিহাসের এক ঐতিহাসিক ঘটনার সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে মদিনার পশ্চিম প্রান্তে খালিদ বিন ওয়ালিদ সড়কে দুই কিবলার 'মসজিদে কিবলাতাইন'। বৃহস্পতিবার সরেজমিন পরিদর্শনকালে এ দৃশ্য চোখে পড়ে।

জানা গেছে, ইসলামী যুগের শুরুতে তৃতীয় মসজিদ 'মসজিদে কিবলাতাইন। বনু সালামা অঞ্চলে হওয়ার সুবাদে এই মসজিদের প্রথম নাম ছিল- মসজিদে বনু সালামা।

southeast

‘কিবলা’ আরবি শব্দ। এর অর্থ নামাজ আদায়ের দিক নির্দেশক। আর ‘কিবলাতাইন’ শব্দ দ্বারা বুঝানো হয় দু’টি কিবলা। মসজিদে বনু সালামায় রাসুলুল্লাহ (সা.) নামাজরত অবস্থায় কিবলা পরিবর্তন করায় পরে এর নাম হয়েছে মসজিদ আল কিবলাতাইন বা দুই কিবলার মসজিদ।

গবেষকদের মতে, কিবলা পরিবর্তনের দিন হজরত মুহাম্মদ (সা.) এই মসজিদে জেরুজালেমের বায়তুল মুকাদ্দাস মসজিদমুখি হয়ে জোহর (কারো কারো মতে আসর) নামাজ আদায় করছিলেন। দুই রাকাত নামাজ শেষ করেছেন ঠিক এমন সময় আল্লাহর পক্ষ থেকে হজরত জিবরাইল (আ.)-এর মাধ্যমে রাসুল (সা.) এর প্রতি নির্দেশ আসে কিবলা পরিবর্তন করে মক্কার পবিত্র কাবামুখি হয়ে নামাজ আদায়ের।

এই নির্দেশ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রাসুল (সা.) নামাজের মধ্যেই কিবলা পরিবর্তন করেন। এ সময় তার পেছনে নামাজ আদায়রত সাহাবিরাও কিবলা পরিবর্তন করেন।

southeast

এ ঘটনার পর থেকেই মসজিদটি পরিচিতি লাভ করে ‘মসজিদ আল কিবলাতাইন’ বা দুই কিবলার মসজিদ হিসেবে।

মসজিদে কিবলাতাইনের নির্মাণ-ইতিহাস : দ্বিতীয় হিজরি মোতাবিক ৬২৩ খ্রিস্টাব্দে রাসুলুল্লাহ (সা.) ও সাহাবাগণ সর্বপ্রথম মদিনা মুনাওয়ারার বনি সালামা অঞ্চলের খালিদ বিন ওয়ালিদ সড়ক সংলগ্ন এ মসজিদ নির্মাণ করেন।

ঐতিহ্যবাহী আরবীয় স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত এ মসজিদে একসঙ্গে প্রায় দুই হাজার মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারেন।

মসজিদটির আয়তন তিন হাজার ৯২০ বর্গমিটার। গম্বুজসংখ্যা দুটি, ব্যাস ৮ মিটার ও ৭ মিটার, উচ্চতা ১৭ মিটার। মিনার রয়েছে দুটি। ইসলামের স্বর্ণালি ইতিহাসে 'মসজিদে কিবলাতাইনের' আবেদন চিরভাস্বর।

এমইউ/এমএমজেড/এমএস

আপনার মতামত লিখুন :