কাগতিয়া গাউছুল আজম দরবারে শরীয়ত-তরিক্বতের বন্ধন

মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন
মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন , আমিরাত প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ০৪:৪০ পিএম, ৩০ অক্টোবর ২০১৮

লাখো নবীপ্রেমীদের উপস্থিতিতে চট্টগ্রাম মহানগরীর বায়েজিদস্থ গাউছুল আজম সিটিতে অনুষ্ঠিত ঐতিহাসিক তরিক্বত কনফারেন্সে প্রধান অতিথি বলেন, শরীয়তকে সুদৃঢ় করাই তরিক্বতের নিবেদন। শরীয়তের পূর্ণাঙ্গ অনুশীলনের মাধ্যমে তরিক্বতের চর্চা তথা অভ্যন্তরীণ পরিশুদ্ধির মাধ্যমে আলোকিত মানুষ তৈরি করাই গাউছুল আজমের কালজয়ী দর্শন।

বিশ্বব্যাপী অরাজনৈতিক তরিক্বতভিত্তিক আধ্যাত্মিক সংগঠন মুনিরীয়া যুব তবলীগ কমিটি বাংলাদেশের বাস্তবায়নে অনুষ্ঠিত কনফারেন্সে প্রধান অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম কাগতিয়া আলীয়া গাউছুল আজম দরবার শরীফের মহান মোর্শেদ আওলাদে রাসূল হযরতুলহাজ আল্লামা অধ্যক্ষ শায়খ ছৈয়্যদ মোর্শেদে আজম মাদ্দাজিল্লুহুল আলী এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, পথহারা বিশ্বমানবতাকে কাঙ্খিত গন্তব্যে পৌঁছে দেয়ার জন্য যে বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ তা হচ্ছে শরীয়তের পথ ধরে তরিক্বতের চর্চার মাধ্যমে হৃদয়ে নবীপ্রেম জাগ্রত করার মাধ্যমে আল্লাহ ও রাসূলের সন্তুষ্টি হাসিল করা। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নের মাধ্যমে বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় কাজ করছে কাগতিয়া দরবার ও মুনিরীয়া যুব তবলীগ কমিটি বাংলাদেশ।

সোমবার (২৯ অক্টোবর) চট্টগ্রাম বায়েজিদস্থ গাউছুল আজম সিটিতে অবস্থিত কাগতিয়া আলীয়া গাউছুল আজম দরবার শরীফ কমপ্লেক্স ময়দানে অনুষ্ঠিত কনফারেন্সে দেশবরেণ্য ওলামায়ে কেরাম, বুদ্ধিজীবী, শিক্ষাবিদ, সাংবাদিকসহ সর্বস্তরের লাখো নবীপ্রেমীক মুসলমান সমবেত হন।

ছাত্র ও যুব সমাজের উদ্দেশ্যে প্রধান অতিথি বলেন, ছাত্র ও যুবকদের জন্য হযরত গাউছুল আজমের তরিক্বত ও দর্শনে রয়েছে আত্মশুদ্ধি অর্জনের মাধ্যমে পরিশীলিত জীবনযাপনে উন্নত নৈতিকতা সম্পন্ন আল্লাহ ও নবীপ্রেমীক হওয়ার দিকনির্দেশনা, দেশপ্রেমে নিবেদিত হওয়ার প্রেরণা। এর মাধ্যমে বদলানো যাবে নিজেকে, বদলে যাবে পুরো সমাজ, প্রতিষ্ঠা পাবে সামাজিক নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা।

কনফারেন্সে সভাপতিত্ব করেন- চট্টগ্রাম সিটি মেয়র আলহাজ আ. জ. ম. নাছির উদ্দিন। মুনিরীয়া যুব তবলীগ কমিটি বাংলাদেশ এর উদ্যোগে আয়োজিত কনফারেন্সে বিশেষ অতিথি ছিলেন, ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আহসান উল্লাহ, বাংলাদেশ জমিয়াতুল মোদার্রেছীন এর মহাসচিব ও ইসলামী আরবী বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট সদস্য হযরতুলহাজ অধ্যক্ষ আল্লামা শাব্বীর আহমদ মোমতাজী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সিনেট সদস্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আবুল মনছুর, চবি গণিত বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. জালাল আহমদ, প্যানেল মেয়র হাসান মাহমুদ হাসনী, মদিনা গ্রুপ অব ইন্ডাষ্ট্রিজের চেয়ারম্যান আলহাজ আবু মোহাম্মদ, কাউন্সিলর আলহাজ্ব মোহাম্মদ সাহেদ ইকবাল বাবু, এলবিয়ন গ্রুপ এর প্রধান উপদেষ্টা আলহাজ¦ মোহাম্মদ নেজাম উদ্দিন প্রমুখ।

সভাপতির বক্তব্যে আ.জ.ম নাছির উদ্দীন বলেন, বর্তমান সরকার জঙ্গিবাদ দমনে কাজ করছে। মাদক, সন্ত্রাস, উগ্রতা ও জঙ্গিবাদমুক্ত যুব সমাজ গঠনে তরিক্বতের মাধ্যমে তরুণ ও যুবকদের উজ্জীবিত করছে কাগতিয়া দরবার ও মুনিরীয়া যুব তবলীগ কমিটি বাংলাদেশ। আলোকিত সমাজ গঠনে এ দরবার ও সংগঠনের ভূমিকা সকলের নজর কেড়েছে এবং বেশ সমাদৃত হয়েছে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রফেসর ড. আবুল মনছুর বলেন, হতাশাগ্রস্ত ও পথভ্রষ্ট যুবকদের আলোর পথ প্রদর্শনে আধ্যাত্মিক অগ্রদূতের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন কাগতিয়া দরবারের মোর্শেদে আজম মাদ্দাজিল্লুহুল আলী। দেশ ছাড়িয়ে বহির্বিশ্বেও হাজারো যুবক তার আলোতে আলোকিত হচ্ছে।

প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আহসান উল্লাহ বলেন, সুশৃঙ্খল আধ্যাত্মিক সংগঠন হিসেবে মুনিরীয়া যুব তবলীগ কমিটির সুনাম আজ শুধু বাংলাদেশ নয়, বহির্বিশ্বেও এর সুখ্যাতি ও কর্মকাণ্ড ছড়িয়ে পড়েছে।

প্যানের মেয়র হাসান মাহমুদ হাসনী বলেন, হযরত গাউছুল আজমের মতো তার যোগ্য উত্তরসূরী আল্লামা অধ্যক্ষ ছৈয়্যদ মুনির উল্লাহ আহমদীও ইসলাম, দেশ ও জাতির কল্যাণে নিজেকে উৎসর্গ করেছেন।

কাউন্সিলর আলহাজ মোহাম্মদ সাহেদ ইকবাল বাবু বলেন, হযরত গাউছুল আজমের পথ অনুসরণ করে ইসলামের খেদমতে সুন্নাতে মোস্তফার প্রচার-প্রসারে অসামান্য অবদান রেখে চলেছেন কাগতিয়া দরবারের মোর্শেদে আজম মাদ্দাজিল্লুহুল আলী।

বক্তব্য রাখেন আল্লামা মুফতি মুহাম্মদ ইব্রাহীম হানফি, আল্লামা মুফতি আনোয়ারুল আলম ছিদ্দিকি, আল্লামা মোহাম্মদ আশেকুর রহমান, আল্লামা এমদাদুল হক মুনিরী, আল্লামা মুহাম্মদ সেকান্দর আলী ও আল্লামা মুহাম্মদ ফোরকান।

কনফারেন্সে যোগদানের উদ্দেশ্যে সকাল থেকেই চট্টগ্রামের আশপাশের বিভিন্ন উপজেলা রাউজান, রাঙ্গুনিয়া, হাটহাজারী, ফটিকছড়ি, সীতাকুণ্ড, বোয়ালখালী, আনোয়ারা পটিয়া ছাড়াও রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি, কক্সবাজার, মহেশখালী থেকে গাড়িযোগে কাগতিয়া দরবারের অসংখ্য অনুসারী, ভক্ত ও সাধারণ মুসলমানেরা কনফারেন্সস্থলে আসতে থাকে।

চট্টগ্রাম ছাড়াও ফেনী, কুমিল্লা, বি.বাড়িয়া, চাঁদপুর ও ঢাকা থেকেও কাগতিয়া দরবারের অনুসারী ও মুসলমানেরা উপস্থিত হন। কনফারেন্সে যোগদানের জন্য শুধু দেশের নয়, বহির্বিশ্বের বিভিন্ন দেশ সৌদি আরবসহ ওমান, কাতার, কানাডা ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই, আবুধাবি, শারজাহ থেকেও কাগতিয়া দরবারের অনুসারী সপ্তাহখানেক পূর্ব থেকে বাংলাদেশে আসেন।

শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক আলোকসজ্জিত করা হয় এবং চট্টগ্রামের প্রায় সকল প্রবেশমুখে ও বিভিন্ন উপজেলায় উত্তোলন করা হয় তোরণ।

মাগরিবের আগেই কনফারেন্সস্থল গাউছুল আজম কমপ্লেক্সের বিশাল ময়দান কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে জনসমুদ্রে রূপ নেয়।

মিলাদ ও কিয়াম শেষে প্রধান অতিথি দেশ, জাতি ও বিশ্ব মুসলিম উম্মাহ ঐক্য, সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি, অসহায় নির্যাতিত মুসলমানদের হেফাজত এবং দরবারের প্রতিষ্ঠাতা গাউছুল আজম রাদ্বিয়াল্লাহু আন্হুর ফুয়ুজাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করেন।

এমআরএম/পিআর

আপনার মতামত লিখুন :