যে সতর্ক বার্তার ঘোষণায় শেষ হবে আজকের তারাবিহ

ধর্ম ডেস্ক
ধর্ম ডেস্ক ধর্ম ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৫:০৬ পিএম, ১৩ মে ২০১৯

রহমতের মাস রমজান। আজ আষ্টম তারাবিহ আদায় করা হবে। আজকের তারাবিহতে কুরআনের যে অংশটুকু তেলাওয়াত করা হবে, তাতে ওঠে এসেছে ইসলামের প্রকাশ্য বিজয়ের সেই সন্ধি। যে সন্ধিকে প্রকাশ্য বিজয় বলে উল্লেখ করেছেন স্বয়ং আল্লাহ তাআলা।

প্রকাশ্য বিজয়ের ঘোষণা সেই ঐতিহাসিক ‘হুদায়বিয়ার সন্ধি’র কথা আল্লাহ তাআলা কুরআনে পাকে উল্লেখ করেছেন। এ সন্ধির পরই সংঘটিত হয়েছিল ঐতিহাসিক মক্কা বিজয়।

এ ছাড়াও ইসলামের অন্যতম স্তম্ভ জাকাতের বিষয়টিও ওঠে এসেছে আজকের তেলাওয়াতে। জাকাতের মাল বণ্টন সম্পর্কিত বিষয়ের সঙ্গে তাওবা কবুলের বিষয়গুলো থাকবে। আবার মুশরেকদের সঙ্গে অন্তরঙ্গ সম্পর্ক না রাখার বিষয়েও বলা হয়েছে।

আজ পড়া হবে কুরআনুল কারিমের ১১তম পারা। এ পারায় রয়েছে-
- সুরা তাওবার শেষ অংশ
- পুরো সুরা ইউনুছ এবং
- সুরা হুদের প্রথম ৫ আয়াত।

আরও পড়ুন > রোজার নিয়ত ও সাহরি-ইফতারের দোয়া

এসব সুরার আয়াতগুলোতে যেসব বিষয় ওঠে এসেছে, তাহলো-

সুরা তাওবা
কয়েকজন মুসলমানের তাওবা কবুল হওয়ার কথা উল্লেখ হওয়া সুরা তাওবা মদিনায় নাজিল হয়েছে। হুদাইবিয়ার সন্ধির সঙ্গে এ সুরার যোগসূত্র রয়েছে। আর হুদাইবিয়ার সন্ধির ফলেই আল্লাহ তাআলা মদিনাকে একটি ইসলামি রাষ্ট্রে পরিণত করেছেন।

সুরা তাওবার আজকের তেলাওয়াতে সাহাবায়ে কেরামের তাওবা কবুল ও আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন এবং তাঁদের জন্য জান্নাত লাভের ঘোষণা আলোচিত হয়েছে।

আরও পড়ুন > তারাবিহ নামাজ কত রাকাআত পড়বেন?

আবার জাকাত কোনো সরকারি কর বা অনুদান নয় বরং তা আল্লাহ তাআলা কর্তৃক সম্পদশালীর ওপর ফরজ ইবাদাত। আর ইসলামি রাষ্ট্রের দায়িত্ব হলো জাকাতের অর্থ আদায় এবং তা যথাযথ খাতে ব্যয় করা। জাকাত বণ্টনে দায়িত্বশীলের কাজসহ যাবতীয় বিষয়ের তেলাওয়াত হবে আজকের তারাবিতে।

মক্কায় অবস্থানকালে প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওপর জেহাদের প্রথম আয়াত নাজিল হয়েছিল। আর মদিনা মুনাওয়ারায় হিজরতের পর জেহাদের বাস্তবায়ন হয়েছিল। সুরা তাওবার আয়াতে কারিমায় এ বিষয়টিও পড়া হবে আজকের তারাবিতে।

সর্বোপরি সুরা তাওবার শেষাংশে দ্বীনি ইলম অর্জনের গুরুত্ব ও ইসলামের ধারক ও বাহকের দায়িত্ব সম্পর্কেও আলোচিত হয়েছে।

সুরা ইউনুস
এ সুরার ৯৮নং আয়াতে প্রসঙ্গক্রমে হজরত ইউনুছ আলাইহিস সালামের কথা আসলেও এ সুরার আলোচ্য বিষয় হজরত ইউনুছ আলাইহিস সালামের ঘটনা নয়। মক্কায় নাজিল হওয়া এ সুরাটি ১১ রুকু এবং ১০৯টি আয়াত রয়েছে।

আরও পড়ুন > পুরো রমজান যে বিশেষ দোয়াগুলো বেশি পড়বেন

এ সুরাটি মক্কায় সুরা তাওবারও আগে নাজিল হয়। এ কারণেই সুরাটিতে আল্লাহর একত্ববাদ তথা তাওহিদ, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নবুয়ত প্রাপ্তি তথা রেসালাত এবং পরকালীন জীবনের বিবরণসমূহ চিত্রিত হয়েছে। যার মূল উদ্দেশ্যই ছিল- মানুষকে মহান আল্লাহর পথে আহ্বান করা।

আল্লাহ তাআলা এ সুরার মাধ্যমে হজরত ইউনুছ আলাইহিস সালামের ঘটনা বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরে মক্কায় বিশ্বনবির রেসালাতের দায়িত্ব পালনের কঠিন মুহূর্তে ধৈর্য ধারণে তাঁকে সান্ত্বনা দিয়েছিলেন।

আবার প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের রেসালাত ও কুরআনের আয়াত সম্পর্কে যেসব আপত্তি ও সন্দেহ পোষণ করা হতো এ সুরায় তার যথাযথ জবাবও দেয়া হয়েছে। হজরত নুহ আলাইহিস সালামের সময়ে মহা প্লাবনের বিবরণও আলোচিত হয়েছে এ সুরায়।

আরও পড়ুন > তারাবিহ নামাজ পড়ার নিয়ম

সুরা হুদ
মক্কায় অবর্তীণ সুরা হুদে ১০ রুকু এবং ১২৩টি আয়াত রয়েছে। আজ এ সুরার প্রথম ৫ট আয়াত তেলাওয়াত করা হবে। এ সুরার আলোচ্য বিষয়ের সঙ্গে সুরা ইউনুছের আলোচনার মিল রয়েছে। তবে এ সুরায় আল্লাহ তাআলা মানুষকে কড়াকড়িভাবে সতর্ক করেছেন।

আরও পড়ুন > তারাবিহ নামাজের নিয়ত দোয়া ও মুনাজাত

আয়াত ০১-৫
সরাটির প্রথম পাঁচ আয়াতে শুধু আল্লাহর ইবাদাতের দিক নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। যারা আল্লাহর ইবাদাত-বন্দেগি করবে; শিরক ও কুফরমুক্ত জীবন-যাপন করবে; কোনো অন্যায় করলে তাওবার মাধ্যমে আবার তাঁরই দিকে ফিরে আসবে; তাদের দুনিয়ার জীবন হবে উপভোগ্য আবার পরকালে মহাঅনুগ্রহ দান করা হবে। আর যারা এ সবের পর আল্লাহর অবাধ্যতায় লিপ্ত হবে তাদের জন্য থাকবে পরকালের কঠিন শাস্তি।

সুরা হুদের ৪নং আয়াতে আল্লাহ তাআলা মানুষকে এ কথাই স্মরণ করিয়ে দেন যে-
‘দুনিয়ায় মানুষ যেভাবেই জীবন-যাপন করুক না কেন? মৃত্যুর পর সবাইকেই আল্লাহর সম্মুখে তাঁর সান্নিধ্যে যেতে হবে। কারণ তাঁর কাছে যাওয়া ব্যতিত কেউ রক্ষা পাবে না। তিনি পুনরায় সবাইকে তাঁর কাছে উপস্থিত করতে সক্ষম।’

আজকের তারাবিহর শেষ আয়াতে আল্লাহ বলেন-
‘জেনে রেখ! তারা নিজ নিজ বুক কুঞ্চিত করে রাখে, যাতে তাঁর (আল্লাহর) দৃষ্টি থেকে লুকিয়ে থাকতে পারে। (আরও) জেনে রেখ! তারা যখন নিজেদের (শরীরে) কাপড় জড়ায়, তখনও তিনি সব জানেন, যা কিছু তারা গোপন করে এবং যা কিছু প্রকাশ করে। তিনি তো মনের ভেতরের কথাও জানেন।’

সুতরাং তারাবিহ নামাজের তেলাওয়াতকৃত অংশ পড়ার পাশাপাশি এ আয়াতগুলো আলোচ্য বিষয় সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করে বাস্তব জীবনে তার প্রতিফলন ঘটানো ঈমানের একান্ত দাবি। যে দাবি নিয়েই পবিত্র কুরআনুল কারিম নাজিল হয়েছে জীবন ব্যবস্থা হিসেবে।

আল্লাহ তআলা মুসলিম উম্মাহকে কুরআন বুঝে পড়ার এবং তাঁর ওপর আমল করার পাশাপাশি নিজেদের আকিদা-বিশ্বাসকে শিরকমুক্ত রাখার তাওফিক দান করুন। কুরআনকে জীবন ব্যবস্থা হিসেবে গ্রহণ করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

এমএমএস/এমএস

আপনার মতামত লিখুন :