মুসা আলাইহিস সালামের যেসব বিষয় পড়া হবে আজ

ধর্ম ডেস্ক
ধর্ম ডেস্ক ধর্ম ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৪:৫৪ পিএম, ১৮ মে ২০১৯

কুরআন নাজিলের মাস রমজান। আজ এ মাসের ১৩তম দিন শুরু হবে। তারাবিহ নামাজে ১৬তম পারা তেলাওয়াত করবে হাফেজে কুরআনগণ। কুরআনের এ পারায় মুসল্লিরা শুনবে বিভিন্ন বিধান, ঘটনা ও ইসলামের সোনালী ইতিহাস।

ঐতিহাসিক সুরা কাহাফের ঘটনার বর্ণনা শেষ হবে আজ। সুরা মারইয়াম এবং সুরা ত্বহার তেলাওয়াতও সম্পন্ন হবে।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নবুয়তের সত্যতার প্রমাণে আগের নবি-রাসুলসহ ইতিহাসের বিভিন্ন সত্য ঘটনার বিবরণ মুমিন হৃদয়কে ঈমানের আলোয় আলোকিত করবে।

ন্যায় পরায়ন শাসক বাদশাহ জুলকারনাইনের আলোচনার পাশাপাশি কেয়ামতের আগে ইয়াজুজ-মাজুজ বাহিনীর আবির্ভাবের বর্ণনাও তেলাওয়াতে ওঠে আসবে।

কেয়ামতের আগে ইয়াজুজ-মাজুজ দলবল নিয়ে মানুষের ঈমান বিধ্বংসী মিশনে নেমে পড়বে। এ জন্য আল্লাহর কাছে তাদের আক্রমন ও ফেতনা থেকে বেঁচে থাকতে বেশি বেশি দোয়া করা জরুরি।

আজকের তারাবিহর তেলাওয়াতে যেসব বিষয় ওঠে আসবে। তাহলো-

সুরা কাহফ : (৭৫-১১০)

>> হজরত মুসা আলাইহিস সালাম ও হজরত খিজির আলাইহিস সালামের কথপোকথন;
>> ন্যায়পরায়ন বাদশাহ জুলকারনাইনের পরিচয় বর্ণনা;
>> ইয়াযুয-মাযুযের পরিচয় বর্ণনা;
>> বাদশাহ জুলকারনাইন কর্তৃক নির্মিত প্রাচীরের বর্ণনা;

সুরা মারইয়াম
বিস্ময়কর ঘটনা ও বিষয়বস্তুর বর্ণনায় সুরা মারইয়াম মক্কায় নাজিল হয়। সুরাটিতে ৬ রুকু ও ৯৮ আয়াত রয়েছে। সুরাটি মুমিনের হৃদয়ে তাওহিদের প্রতি বিশ্বাসের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। রেসালাতের জোরালো প্রমাণ তুলে ধরে।

আয়াত : ১-৯৮

>> সন্তান লাভের দোয়া। যে দোয়া করেছিলেন হজরত জাকারিয়া আলাইহিস সালাম।
>> গায়েবানা জানাযা প্রসঙ্গ। যা বাদশাহ নাজ্জাসির ইন্তেকালের পর পড়া হয়েছিল;
>> মানব সৃষ্টির অবস্থার বর্ণনা;
>> হজরত ইসা আলাইহিস সালামের জন্ম রহস্যের বর্ণনা ও তাঁর বৈশিষ্ট্যের বর্ণনাসমূহ;
>> বড়দের নসিহত করার পন্থা ও আদব;
>> ওয়াদা পূরণ করার গুরুত্ব ও তাৎপর্য;
>> কুরআন তিলাওয়াতের সময় কান্না ও ফজিলত;
>> সময়মতো নামাজ ও জামাআতের গুরুত্বের আলোচনা;

সুরা ত্বহা
হজরত মুসা আলাইহিস সালামের সঙ্গে আল্লাহর কথপোকথন ও তাঁর নবুয়তের বিস্তারিত বর্ণনা ওঠে এসেছে সুরা ত্বহায়। সুরাটি মক্কায় নাজিল হয়। এতে রয়েছে ৮ রুকু এবং ১৩৫ আয়াত।
সুরাটি দুনিয়া ও আকাশ সৃষ্টির ২ হাজার বছর আগে আল্লাহ তাআলা ফেরেশতাদেরকে পাঠ করে শোনান। এ সুরার তেলাওয়াত শুনে হজরত ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু ইসলামের সুশীতল ছায়া তলে আশ্রয় গ্রহণ করেছিলেন।

আয়াত : ১-১৩৫

>> হজরত মুসা আলাইহিস সালামের সঙ্গে আল্লাহর কথাবার্তা বিবরণ ও ঘটনা ওঠে এসেছে এ সুরায়।
>> কুরআন তেলাওয়াত শোনার আদবও বর্ণিত হয়েছে এখানে।
>> ফেরাউনের সঙ্গে মুসা আলাইহিস সালামের ঘটনার বর্ণনা।
>> জাদু বিদ্যার স্বরূপ, প্রকার, ফেরাউনের জাদুকরের সংখ্যা ও ইসলামে জাদুর বিধান প্রসঙ্গ।
>> জাদুকরদের প্রতি হজরত মুসা আলাইহিস সালামের আহ্বান।
>> মুসা আলাইহিস সালাম ও ফিরাউনের কথার আলোচনা।
>> মানুষের সৃষ্টির হিকমতও বর্ণিত হয়েছে এ সুরায়।

>> কোনো ব্যক্তিকে পদ-মর্যাদা দান করার মাপকাঠি কেমন হবে তার বর্ণনা।
>> ফিরাউন পত্নী হজরত আছিয়ার প্রসঙ্গ।
>> বনি ইসরাইলের মিসর ত্যাগ।
>> গো-বাছুর আবিষ্কারক সামেরির পরিচয়।
>> স্ত্রী ভরণপোষণের দায়িত্ব এবং জীবন ধারনের প্রয়োজনীয়তা।
>> শত্রুর আক্রমণ থেকে হিফাজত থাকার প্রসঙ্গ।
>> দুনিয়ার ক্ষণস্থায়ী জীবনে ধন-সম্পদের প্রয়োজনীয়তা প্রসঙ্গ।
>> নামাজের জন্য নিকটতমদের প্রতি আদেশ প্রদান প্রসঙ্গ।

তারাবিহ আদায়কারীদের জন্য আজকের কুরআন তেলাওয়াতের অংশটুকু নানা ঘটনা ও ইতিহাসে সাজিয়েছেন স্বয়ং আল্লাহ তাআলা। যা মুমিন হৃদয়কে আলোড়িত করবে। ঈমান বহুগুণে বৃদ্ধি করবে।

সুতরাং আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে কুরআনের এ গুরুত্বপূর্ণ সুরাগুলো বুঝে পড়ার এবং তাঁর ওপর আমল করার পাশাপাশি নিজেদের আকিদা-বিশ্বাসকে শিরকমুক্ত রাখার তাওফিক দান করুন। আমিন।

এমএমএস/এমকেএইচ

আপনার মতামত লিখুন :