ত্যাগের অনন্য ইবাদত পবিত্র ঈদুল আজহা আজ

ধর্ম ডেস্ক
ধর্ম ডেস্ক ধর্ম ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৮:১১ এএম, ০১ আগস্ট ২০২০

ঈদ মোবারক। ১০ জিলহজ পবিত্র ঈদুল আজহা। ত্যাগের অনন্য ইবাদতের দিন। ঈদুল ফিতরের চেয়ে মর্যাদায় অনন্য এ ঈদ। কেননা ঈদের নামাজের পরপরই মুমিন মুসলমান মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে তার নির্দেশ মেনে ত্যাগের অনন্য ইবাদত কুরবানি করে থাকে। কুরবানির মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা বান্দাকে নেয়ামত ও অনুগ্রহ দ্বারা বারবার ধন্য করে থাকেন। বারবার ইহসান করেন।

কুরবানি পালনকারী মুমিন-মুসলমানদের জন্য আজ ‘ঈদ’। সবার ঘরে ঘরে আনন্দ। এ আনন্দে কুরবানি দাতা, পরিবারের লোক ও গরিব অসহায় কুরবানি করা পশু গোশত আনন্দ চিত্তে আহার। এ নির্দেশনাও মহান আল্লাহর। আল্লাহ তাআলা বলেন-
- যাতে তারা তাদের কল্যাণের স্থান পর্যন্ত পৌঁছে আর নির্দিষ্ট দিনগুলোতে আল্লাহর নাম স্মরণ করে তাঁর দেয়া চতুস্পদ জন্তু যবেহ করার সময়। অতঃপর তোমরা তা থেকে আহার কর এবং দুস্থ-অভাবগ্রস্তকে আহার করাও।‘ (সুরা হজ : ২৮)

- অতঃপর যখন তারা কাঁত হয়ে পড়ে যায় তখন তা থেকে তোমরা আহার কর এবং আহার করাও যে কিছু চায় তাকে আর যে চায় না তাকেও।’ (সুরা হজ : আয়াত ৩৬)

ঈদুল আজহার দিন কুরবানি অপেক্ষা উত্তম কোনো ইবাদত নেই। হাদিসের বর্ণনাই এর অন্যতম প্রমাণ। হাদিসে এসেছে-
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ঈদুল আজহার দিনে আল্লাহর কাছে কুরবানি অপেক্ষা অধিক পছন্দের কোনো আমল নেই।'

কুরবানির পশুর প্রতিটি পশমের পরিবর্তে ১টি করে নেকি কুরবানি দাতার আমলনামায় লেখা হয়। তাই কুরবানি করতে মহান আল্লাহর জন্য। কেননা আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেন-
'এগুলোর গোশত ও রক্ত আল্লাহর কাছে পৌঁছে না, কিন্তু পৌঁছে তাঁর কাছে তোমাদের মনের তাকওয়া। এমনিভাবে তিনি এগুলোকে তোমাদের বশ করে দিয়েছেন, যাতে তোমরা আল্লাহর মহত্ত্ব ঘোষণা কর এ কারণে যে, তিনি তোমাদের পথ প্রদর্শন করেছেন। সুতরাং সৎকর্মশীলদের সুসংবাদ শুনিয়ে দিন।' (সুরা হজ : আয়াত ৩৭)

এ দিন কুরবানি দাতা নিজের কুরবানির পশু মহান আল্লাহর জন্য উৎসর্গ করেন। অতপর এ পশুর গোশত নিজে আহার করেন, পাড়া-প্রতিবেশির মাঝে বিলিয়ে দেন, আত্মীয়-স্বজনে আহার করান, সমাজের সব গরিব অসহায়দের মাঝে বিতরণ করেন। আর এতে সবার মাঝে নেমে আসে সীমাহীন অনাবিল সুখ ও শান্তি। এ জন্যই ত্যাগের এ ইবাদতও মুমিন মুসলমানের জন্য হয়েছে ঈদুল আজহা বা কুরবানির ঈদ।

মুমিন মুসলমানের আনন্দের জন্য দুই ঈদের ঘোষণা দেন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। ঈদের প্রচলনের সে ঘটনাও উঠে এসেছে হাদিসের বর্ণনায়-
হজরত আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন মক্কা থেকে মদিনায় হিজরত করলেন, তখন মদিনাবাসীদের মধ্যে (উৎসব উদযাপনে) বিশেষ দুটি দিন (প্রচলিত) ছিল। সেই দুই দিনে তারা খেলাধুলায় মেতে উঠতো।
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জিজ্ঞাসা করলেন, (তাদের আনন্দ-উৎসবের) এ দুইটি দিনের তাৎপর্য কী?
মদিনাবাসীরা জানালেন, (হে আল্লাহর রাসুল! সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমরা জাহেলি (অন্ধকার) যুগ থেকে এ দুই দিন খেলাধুলা (উৎসব) করে আসছি।
তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, আল্লাহ তাআলা এ দুই দিনের পরিবর্তে এর চেয়েও উত্তম দু'টি দিন তোমাদেরকে দান করেছেন। আর সেই দিন দু’টি হলো-
- ঈদুল ফিতর ও
- ঈদুল আজহা।' (আবু দাউদ, নাসাঈ)
তারপর থেকেই প্রতি বছর দুইটি ঈদ উদযাপন করে থাকেন মুমিন মুসলমান। যা ইসলাম ও মুসলমানদের জাতীয় উৎসবে পরিণত হয়েছে। বিশ্বব্যাপী মুসলিম উম্মাহ ঈদ উদযাপন করে আসছে। ১০ জিলহজ ঈদের নামাজ পড়ে আল্লাহর নামে পশু জবেহ করার মাধ্যমে ব্যক্তি পরিবার ও সমাজে আনন্দ ছড়িয়ে জাতীয় সংস্কৃতিতে অবদান রাখেন মুমিন।

এ ঈদ ইসলামি জীবন-দর্শণের সফলতার সম্মিলন। কারণ ঈদ উৎসবের মূলে রয়েছে আত্মার পরিশুদ্ধি এবং চরিত্রিক উন্নতির শুভ সংবাদ। আর এ উৎসবের মাধ্যমেই মানুষে মানুষে ওই শুভ সংবাদ এবং ভালোবাসা পরস্পর ভাগাভাগি করে নেয়। ঈদুল আজহায় কুরআনের নির্দেশনায় মুমিন মুসলমান পরস্পর একে অন্যকে উত্তম খাবার পরিবেশন করেন।

মুমিন মুসলমানের জন্যই ঈদ উৎসবে বিরাজ করে জান্নাতি পরিবেশ। তাই হিংসা-বিদ্বেষ, ভুলে গিয়ে ঈদ আনন্দে ধনী-গরিব আজ এক কাতারে এক শামিয়ানার নিচে শামিল হবে। ঈদের নামাজ পড়ে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভে পশু কুরবানি করবে। আর ঘোষণা করবে-
'নিশ্চয় আমার নামাজ, আমার কুরবানি, আমার জীবন, আমার মৃত্যু; সবই বিশ্বজাহানের প্রভু মহান আল্লাহ তাআলার জন্য।' (সুরা আনআম : আয়াত ১৬২)

এভাবেই ঈদের দিন মহান আল্লাহর ভালোবাসায় তাঁর নির্দেশ পালনে নিজ সন্তানের গলায় ছুরি বসানোর প্রচেষ্টা করেছেন হজরত ইবরাহিম আলাইহিস সালাম। আল্লাহ তাআলা তাঁর কুরবানি গ্রহণ করে ছেলে হজরত ইসমাইল আলাইহস সালামের পরিবর্তে জান্নাতি জন্তু ছুরির নিচে দিয়ে কুরবানি সম্পন্ন করান। যা আজও পালন করে মুমিন মুসলমান। আর এ সবই মহান আল্লাহর জন্য।

ঈদুল আজহা তথা কুরবানির ঈদ যেন হয় মুমিন মসলমানের অনন্য ইবাদত ও অনুপ্রেরণা লাভের উপায়। যে অনুপ্রেরণা পেয়েছিলেন পয়গাম্বর হজরত ইবরাহিম আলাইহিস সালাম।

ঈদের নামাজ ও কুরবানির পরবর্তী সময়ে পরস্পরের সঙ্গেও ভাববিনিময় করি। প্রত্যেকে প্রত্যেকের জন্য দোয়া করি। সমাজের উঁচু-নিচু, ধনী-দরিদ্র সবার সঙ্গে মিলেমিশে একাকার হয়ে যাওয়াই মুমিন মুসলমানের অন্যতম কাজ। ঈদের দিনের সুখ, সমৃদ্ধি, শান্তির কামনাই হোক প্রতিটি মুমিন মুসলমানের কামনা। পৃথিবীতে বিরাজ করুক জান্নাতি পরিবেশ। মানবজীবন হয়ে ওঠুক আনন্দময়। মুমিন মুসলমান একে অপরের সঙ্গে সাক্ষাতে ভালোবাসা বিনিময়ে আত্মনিয়োগ করবে। আর বলবে-
تَقَبَّلَ اللهُ مِنَّا وَ مِنْكُمْ
উচ্চারণ : ‘তাক্বাব্বালাল্লাহু মিন্না ওয়া মিনকুম।
অর্থ : ‘আল্লাহ তাআলা আমাদের ও আপনার নেকা আমল তথা ভাল কাজগুলো কবুল করুন।’
ঈদ মোবারক...

এমএমএস/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]