বিশ্বনবির সহজ সরল জীবন

মাহমুদ আহমদ
মাহমুদ আহমদ মাহমুদ আহমদ , ইসলামি গবেষক ও কলামিস্ট
প্রকাশিত: ১১:৪৪ এএম, ১৪ অক্টোবর ২০২০

মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন তার বান্দার কাছে এটাই প্রত্যাশা করেন, তারা যেন সহজ সরল জীবন যাপন করে। ইসলামের ইতিহাস পাঠে জানা যায়, এ পৃথিবীতে যত নবি-রাসুলগণ এসেছেন তারা সবাই সহজ সরল জীবন যাপন করেছেন। নবি-রাসুলদের জীবন কত সহজ-সরল ছিল তা আমরা সর্ব শ্রেষ্ঠনবি হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কর্মময় জীবন থেকে খুব সহজেই উপলব্ধি করতে পারি।

বাসগৃহের ব্যাপারে বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অত্যন্ত সাদাসিধে থাকা পছন্দ করতেন। সাধারণত তার ঘর ছিল এক কামরার এবং তার সামনে ছিল ছোট আঙিনা। সেই কামরার মাঝখান দিয়ে টানানো থাকতো একটা রশি। সেই রশির ওপর কাপড় ঝুলিয়ে দিয়ে বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আলাদা এক পাশে সাক্ষাৎ প্রার্থীদের সঙ্গে কথাবার্তা বলতেন। তিনি চৌকি বা খাট ব্যবহার করতেন না। বরং, মাটির ওপরই বিছানা পেতে শুতেন।

বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জীবন-যাপনের ক্ষেত্রে কত বেশি সাদাসিধে ছিলেন, তা হাদিসের বর্ণনায় সুস্পষ্টভাবে ওঠে এসেছে-

হজরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওফাতের পর বলেছিলেন, ‘রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জীবিতকালে আমাদের কয়েকবার শুধু পানি আর খেজুর খেয়েই দিন কাটাতে হয়েছিল। এমনকি, যেদিন তার মৃত্যু হয় সেদিনও আমাদের ঘরে পানি ও খেজুর ছাড়া আর কিছুই ছিল না।’ (বুখারি)

বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বিছানা-পত্রও ছিল নিতান্ত অনাড়ম্বর। সাধারণত একটি চামড়া কিংবা উটের পশম দিয়ে তৈরি একটি কাপড়। হাদিসে এসেছে-

- হজরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেছেন, ‘আমাদের বিছানা এত ছোট ছিল যে, বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন রাতে ইবাদত করার জন্য উঠতেন তখন আমি এক পাশে সরে গিয়ে জড়ো হয়ে থাকতাম। কারণ, বিছানা ছিল ছোট। যখন ইবাদতের সময় তিনি দাঁড়াতেন তখন আমি হাটু সোজা করতে পারতাম, আর যখন তিনি সেজদা করতেন তখন আমি হাটু জড়ো করে নিতাম।’ (বুখারি)

- খাবার গ্রহণের ব্যাপারেও বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অত্যন্ত সরল ছিলেন। খাবারের মধ্যে লবন বেশি-কম কিংবা রান্নায় সমস্যা হলে এসব নিয়ে তিনি কখনও কিছু বলতেন না। এমনকি অসন্তোষ প্রকাশ করতেন না। এ ধরনের খাবার খেয়ে নিয়ে যথা সম্ভব তিনি রাধুঁনির মনোকষ্ট দূর করার চেষ্টা করতেন। কিন্তু তা যদি একেবারেই খাওয়ার অযোগ্য হতো তবে তিনি হাত সরিয়ে রাখতেন এবং কখনোই বলতেন না যে, এই খাবার খেতে আমার অসুবিধা হচ্ছে।’ (বুখারি)

- হজরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বর্ণনা করেন, ‘রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কখনও একাধারে তিন দিন পেট ভরে খাবার খাননি এবং এই অবস্থা বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওফাত পর্যন্ত চলেছিল।’ (বুখারি)

আমাদের প্রতিটি পরিবারে তখনই জান্নাতি পরিবেশ বিরাজ করবে, যখন আমরা বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আদর্শ অনুসরণ করব। যেই আদর্শ অনুসরণ ও অনুকরণে সমাজ ও দেশ থেকে দূর হবে সব অশান্তি। এ কারণেই মহান প্রভু কুরআনুল কারিমে ঘোষণা করেন-

‘অবশ্যই তোমাদের জন্য রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জীবনে রয়েছে সর্বোত্তম আদর্শ। যারা আল্লাহ ও শেষ দিবসের আশা রাখে এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণ করে।'

সুতরাং সবার করণীয় হলো-
- বিলাসি জীবন পরিহার করে শ্রেষ্ঠ রাসুলের জীবনাদর্শ অনুসরণ ও অনুকরণ করার মাধ্যমে মহান আল্লাহ পাকের সন্তুষ্টি অর্জন করা।
- অসহায়দের সেবায় এগিয়ে যাওয়া।
- প্রতিবেশির খোঁজ নেয়া।
- অনাহারীর মুখে খাবার তুলে দেয়া।
- বস্ত্রহীনদের গায়ে বস্ত্র পড়িয়ে দেয়া।

আমরা যদি শুধু ব্যক্তিগত স্বার্থকে না দেখে সবার কথা ভাবি তাহলে হয়তো দুমুঠো খাবারের জন্য কাউকে হাত পাততে দেখা যাবে না। অভাবের তাড়নায় কাউকে আত্মহত্যার পথও বেছে নিতে হবে না। আমাদের সামান্য সহযোগিতায় আমরা অনেকের মুখে হাসি ফুটাতে পারি এবং সমাজকে অপরাধমুক্ত করতে পারি।

তাই আসুন-
আমার প্রতিবেশি সে যে ধর্মের অনুসারীই হোক না কেন তার প্রতি বিদ্বেষ না রেখে তার বিপদ-আপদে এগিয়ে যাই। সবাই সবার কল্যাণের কথা ভাবি। সাহায্য-সহযোগিতার মনোভাব নিয়ে এগিয়ে যাই এবং হাত বাড়িয়ে দেই।

মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আমাদের সবাইকে বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জীবনাদর্শ অনুসরণ ও অনুকরণ করে চলার তাওফিক দান করুন। আমিন।

এমএমএস/পিআর

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]