রমজানে নাইজেরিয়ানদের ভিন্ন আবহ

ইসলাম ডেস্ক
ইসলাম ডেস্ক ইসলাম ডেস্ক
প্রকাশিত: ০১:৩৯ পিএম, ১৩ এপ্রিল ২০২২

মুসলিম বিশ্বের মহিমান্বিত মাস রমজান। এ মাস ঘিরে নানা অনুষ্ঠান আর রীতি-রেওয়াজ আছে। রোজা রাখা, ইফতারের পর তারাবির নামাজ পড়া ইত্যাদি ছাড়াও আনন্দ-উৎসবের মাধ্যমেও সবার মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়া হয় খুশির আমেজ। ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের চেয়েও এসব রীতি সাংস্কৃতিক উদযাপন হিসেবে বেশ জনপ্রিয়। আফ্রিকার দেশ নাইজেরিয়ার মুসলমানদের মধ্যে প্রবল ইসলামি মূল্যবোধ লক্ষ্য করা যায়। তাই তাদের জীবনযাত্রায় রমজান মাসে তেমন বিশেষ কোনো পরিবর্তন দেখা যায়। রমজান এলে সেখানকার মুসলিমরা কীভাবে রমজান পালন করেন, তা নিয়ে লিখেছেন মুনশি মুহাম্মদ উবাইদুল্লাহ

রমজানের প্রস্তুতি
রজব মাসের চাঁদ দেখার পর থেকে রমজানের প্রস্তুতি শুরু হয় নাইজেরিয়ায়। রমজানের নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি কিনে রাখে। সঙ্গে সঙ্গে প্রস্তুত হয় আমলের জন্যও। রমজানের আগেই তারা দিনে রোজা ও রাতে তাহাজ্জুদের আমল শুরু করে। সর্বত্র অপার্থিব প্রশান্তি বিরাজ করে। রমজান নাইজেরিয়ানদের কাছে পুণ্য ও আত্মীয়তার বন্ধন সুদৃঢ় করার মাস। রমজানে প্রত্যেকে আত্মীয়-স্বজন ও আপনজনের সঙ্গে দেখা করে এবং তাদের উৎসাহিত করে রমজানের ধর্মীয় পবিত্রতা, গাম্ভীর্য ও শিক্ষা মান্য করে চলতে।

কোরআন শিক্ষার মজলিস
একজন সম্মানিত অতিথির মতোই উষ্ণ আন্তরিকতায় রমজানকে বরণ করা হয় নাইজেরিয়ায়। রমজানের চাঁদ ওঠার পর আনন্দ মাহফিল হয় সেখানে এবং পুণ্য ও বরকতের মাস রমজানকে স্বাগত জানিয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়কে বের হয় আনন্দ মিছিল। মাহফিল ও মিছিলে বিশেষ ধর্মীয় সংগীত পরিবেশিত হয়। নাইজেরিয়ান মুসলিম সমাজ রমজানের জন্য মানসিক ও বস্তুগত উভয়ভাবে রমজানের জন্য প্রস্তুত হয়ে থাকে।

এক গ্লাস পানি দিয়ে সেহরি
আমরা অনেকে ভাবি, দেশটির মানুষগুলো বর্বর প্রকৃতির। কিন্তু শুধু রমজান মাস নয়, বছরের পুরো সময়ই দেশটিতে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়। ওজনে কম দেওয়া, খাদ্যে ভেজাল মেশানো নাইজেরিয়ার মানুষরা কখনোই করেন না! এ ছাড়া নাইজেরিয়ার মুসলমানরা পারতপক্ষে নামাজ-রোজা ছাড়েন না। বছরের অন্য সময়ের মতোই তারা নির্বিঘ্ন ইবাদতে রমজান কাটিয়ে দেন। সেহরি ও ইফতারে কোনো বিশেষ আয়োজন থাকে না তাদের। একটি সিদ্ধ ভুট্টা ও এক গ্লাস পানি দিয়েই সেহরি পর্ব সারেন অধিকাংশ নাইজেরিয়ান। নাইজেরিয়ার তরুণরা কঠিন অসুখ নিয়েও রোজা ছাড়তে রাজি নন।

ইফতারে হুম ও কোকো
নাইজেরিয়ায় অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তারাবি আদায় করা হয়। বেশির ভাগ মসজিদে আসরের পর নসিহত, কোরআন তেলাওয়াত ও কোরআনের তাফসির হয়। কোথাও কোথাও এসব মজলিস হয় এশার নামাজের পর।
ইফতারের সামান্য আগে নাইজেরিয়ান পরিবারগুলো পরস্পরের মধ্যে ইফতার বিনিময় করে। ইফতার আয়োজনে তারা ‘হুম’ ও ‘কোকো’ নামক পানীয় পছন্দ করে, যা গম ও চিনি দিয়ে তৈরি করা হয়। সামান্য ইফতার গ্রহণ করে তারা মাগরিবের নামাজ আদায় করতে যায়।

কয়েক ঘরের লোক একত্রে ইফতার
নামাজ শেষে রাতের খাবার গ্রহণ করে। এ সময়ের আয়োজনে থাকে গোশত, ভাত ও আলু। খাবার শেষে তারা চা পান করে। নাইজেরিয়ান মুসলিমদের আরেকটি ইফতার সংস্কৃতি হলো, প্রতিবেশী কয়েক ঘরের লোক কোনো বাড়ির আঙিনায় একত্র হয়ে ইফতার করা। এ ছাড়া তারা রমজানে ‘আসিদাহ’, ‘দাউয়্যাহ’, ‘উনজুঝি’ ও ‘লুবিয়া’ নামক খাবারগুলো বেশ জনপ্রিয়।

রোজার দিনে খাওয়া বারণ
রোজার দিনে খাওয়ার অভিযোগে ৮০ জনকে আটক করে নাইজেরিয়ার শরিয়া পুলিশ। আটককৃতরা সবাই মুসলিম ছিলেন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। উত্তর নাইজেরিয়ার কানো রাজ্যে রোজার দিনে জনসম্মুখে খাওয়ার অভিযোগে ৮০ জনকে সীমিত সময়ের জন্য আটক করেছে দেশটির ইসলামি শরিয়া পুলিশ। বিবিসি জানিয়েছে, উত্তর নাইজেরিয়ার যেসব রাজ্যে ২০০০ সালের পর থেকে শরিয়া আইন কার্যকর করা হয়, কানো তার মধ্যে একটি। নাইজেরিয়ায় ধর্মনিরপেক্ষ আইনের পাশাপাশি শরিয়া আইনও আংশিকভাবে বাস্তবায়ন করা হয়।

নাইজেরিয়ান সমাজের সৌন্দর্য
তারাবি আদায় করতে পুরুষরা মসজিদে যায়। শিশুরা ঘরে আলাদা জামাত করে। তারাবি শেষ করে তারা আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে দেখা করতে যায়। এটি নাইজেরিয়ান সমাজের সৌন্দর্য। নারীরা রমজানে হরেক রকম খাবার তৈরি করে। আর যারা ধর্মীয় জ্ঞান রাখেন, তারা মেয়েদের ইসলামি আচার-আচরণ ও শিষ্টাচার শিক্ষা দেন। আবার কোনো কোনো পুরুষ তাদের সঙ্গে স্ত্রীকে মসজিদে নিয়ে যান। রমজানের শেষাংশে জাকাত ও ফিতরা আদায় করেন।

মুনশি/এসইউ/এএসএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]