জুমার দিন কেন ইবাদতের জন্য নির্ধারিত?

ইসলাম ডেস্ক
ইসলাম ডেস্ক ইসলাম ডেস্ক
প্রকাশিত: ০১:১১ পিএম, ১২ আগস্ট ২০২২

আজ শক্রবার। ইয়াওমুল জুমা। এ দিন সম্পর্কে বলা হয়ে থাকে, ‘জুমা মুসলমানদের জন্য সাপ্তাহিক ঈদের দিন। এ দিন সমাজের সর্বস্তরের মানুষ হিংসা-বিদ্বেষ ভুলে গিয়ে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে মসজিদে নামাজ আদায়ে এক কাতারে শামিল হয়। যার ফলশ্রুতিতে সবার মধ্যে প্রেম-প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ববোধ গড়ে উঠে। কিন্তু জুমার দিন মুসলিম উম্মাহর ইবাদতের জন্য নির্ধারিত কেন?

যুগে যুগে আল্লাহ তাআলা প্রত্যেক জাতিকেই সাপ্তাহিক একটা বিশেষ দিন উপহার দিয়েছেন। এরই ধারাবাহিকতায় জুমার এ দিনটিকে সাপ্তাহিক ইবাদত-বন্দেগির দিন হিসেবে অনেক জাতিকেই দিতে চেয়ে ছিলেন। কিন্তু তাদের কেউই এ দিনের গুরুত্ব উপলব্দি না করে নিজেদের ইচ্ছামতো দিন নির্বাচন করেছে। আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে এ দিনটি উপহার দিয়েছেন।

শুধুমাত্র সর্বশ্রেষ্ঠ ও সর্বশেষ নবি হজরত মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামই এ দিনকে আল্লাহ তাআলার দেওয়া সেরা উপহার সাপ্তাহিক ইবাদত-বন্দেগির জন্য ঈদে দিন হিসেবে গ্রহণ করেছেন। যার সুস্পষ্ট বর্ণনা এবং তাকওয়া অর্জনের নসিহতমূলক বক্তব্য হাদিসে এসেছে-
হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, আমরা পৃথিবীতে সর্বশেষ আগমণকারীরাই কেয়ামতের দিন অগ্রগামী থাকব। পার্থক্য হলো এই যে, তাদেরকে (পূর্ববর্তীদেরকে) আমাদের আগে (আল্লাহর) কিতাব দান করা হয়েছে; আর আমাদেরকে (কিতাব) দান করা হয়েছে তাদের পরে। এরপর তাদের ওপর এ দিনটি অর্থাৎ জুমার দিনটি (ইবাদাতের জন্য) ফরজ করা হয়েছিল অর্থাৎ নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু তারা (আহলে কিতাবের অনুসারীরা) এ দিনটির ব্যাপারে মতভেদ করল। আর আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে সঠিক পথ প্রদর্শন করলেন, ফলে এ ব্যাপারে অন্যান্য লোকেরা আমাদের পিছনে থাকলো। ইহুদিগণ পরের দিন (শনিবার)কে এবং নাসারাগণ তার পরের দিন (রোববার)কে গ্রহণ করল। (বুখারি ও মুসলিম)

হাদিসের অন্য এক বর্ণনায় নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, দুনিয়াবাসীদের মধ্যে আমরাই সর্বশেষ আগমনকারী এবং কেয়ামতের দিন আমরাই প্রথম। যাদের জন্য (হিসাব-কিতাব ও জান্নাতে প্রবেশের) আদেশ সমস্ত সৃষ্টির আগে দেওয়া হবে। (মুসলিম)

মুসলিম উম্মাহর জন্য নসিহত হলো- জুমার দিন সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা উম্মতে মুহাম্মাদিকে সঠিক পথ দেখিয়েছেন। যার ফলশ্রুতিতে মুসলমানগণ যথাযথ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মাধ্যমে এ দিনটিকে ইবাদত-বন্দেগির দিন হিসেবে পালন করে থাকে।

তাছাড়া আল্লাহ তাআলা মানুষ ও জিন জাতিকে শুধু তার ইবাদত-বন্দেগির জন্যই সৃষ্টি করেছেন। সুতরাং এ মহত্বের প্রতি দৃষ্টি রেখেই আল্লাহ তাআলার ইবাদত-বন্দেগির সাপ্তাহিক অনুশীলনের জন্যই জুমার দিনটিকে নির্ধারণ করে দিয়েছেন।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে এ দিনের হক আদায়ে আজানের সঙ্গে সঙ্গে দ্রুত সময়ে নামাজ আদায়ে মসজিদ পানে ছুটে যাওয়ার তাওফিক দান করুন। ইবাদত-বন্দেগির মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

এমএমএস/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।