ধোঁকা-প্রতারণার ধরণ কেমন?

ইসলাম ডেস্ক
ইসলাম ডেস্ক ইসলাম ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৮:১০ পিএম, ১৬ আগস্ট ২০২২

লেনদেন ও বেচাকেনা ইত্যাদির ক্ষেত্রে কাউকে ধোঁকা দেওয়া কিংবা কারো সঙ্গে প্রতারণা করা ইসলামে নিষিদ্ধ। বেচাকেনার ক্ষেত্রে পণ্যদ্রব্যের অতিরিক্ত পরিচয় কিংবা বর্ণনার ক্ষেত্রে দোষ-ত্রুটি লুকানোও ধোঁকা-প্রতারণার শামিল। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের এক হাদিসে ধোঁকা-প্রতারণার ধরণ সুস্পষ্টভাবে ওঠে এসেছে। সেই হাদিসটি কী?

হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন, একদিন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কোনো এক খাদ্যবস্তুর স্তূপের কাছ দিয়ে যাওয়ার সময় এর ভেতরে হাত ঢুকিয়ে দিয়ে এর অভ্যন্তরে ভেজা পেলেন। তখন তিনি বললেন, হে খাদ্যের মালিক! এটি কি? উত্তরে সে বললো, হে আল্লাহর রাসুল! বৃষ্টির  কারণে এরূপ হয়েছে। এ কথা শুনে তিনি বললেন-

اَفَلَا جَعَلْتُهُ فَوْقَ الطّعَامِ حَتّى يَرَاهُ النَّاسُ مَنْ غَشَّ فَلَيْسَ مِنِّىْ

তুমি ভেজা খাদ্যশস্য উপরে রাখলে না কেন? তাহলে তো ক্রেতাগণ এর অবস্থা দেখতে পেত। অর্থাৎ প্রতারিত হতো না। (জেনে রেখো!) যে ধোঁকা দেয় সে আমার উম্মাতের মধ্যে গণ্য হবে না।’ (মুসলিম, মিশকাত)

নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের  এ হাদিসে ধোঁকা-প্রতারণা ধরণ সুন্দরভাবে ওঠে এসেছে। ভেতরে খারাপ কিংবা ভেজা পণ্য রেখে উপরে দেখানোর জন্য ভালো বা শুকনো পণ্য রাখাই ধোঁকা বা প্রতারণা। এমনটি উম্মতে মুহাম্মাদির চরিত্র হতে পারে না। যারা এ চরিত্রের লোক তারা উম্মতে মুহাম্মাদির অন্তর্ভূক্ত নয়।

মনে রাখতে হবে

ধোঁকা-প্রতারণা হীন মানসিকতার পরিচয় দেয়। এর মাধ্যমে অপরকে ঠকানো হয় এবং মিথ্যপর আশ্রয় নেওয়া হয়। এ কারণেই ইসলামি শরিয়তে ধোঁকা-প্রতারণা হারাম।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে যে কোনো ধোঁকা-প্রতারণার কাজ থেকে হেফাজত করুন। কথা ও কাজে স্বচ্ছ ও গুনাহমুক্ত থাকার তাওফিক দান করুন। হাদিসের ওপর আমল করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

এমএমএস/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।