যেসব মাধ্যমে মানুষের ভেতরে প্রবেশ করে শয়তান

ইসলাম ডেস্ক
ইসলাম ডেস্ক ইসলাম ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৭:৫০ পিএম, ০৩ অক্টোবর ২০২২

আল্লাহ তাআলার ঘোষণা, নিশ্চয়ই শতয়তান মানুষের প্রকাশ্য দুশমান। মানুষকে ধোঁকা দিতে কিংবা বিপদে ফেলতে নিরলস প্রচেষ্টায় ব্যস্ত থাকে শয়তান। মানুষের নেক আমলকে ধ্বংস করতে তিনটি পথ ধরে মানুষের মধ্যে প্রবেশ করে শয়তান। ইমাম ইবনুল কায়্যিম রাহমাতুল্লাহি আলাইহি এ তিনটি পথের বর্ণনা তুলে ধরেছেন। তাহলো-

১. অপচয় ও অতিরঞ্জন। যে কোনো কাজে অতিরঞ্জন ও অপচয়ের মাধ্যমে শয়তান মানুষের ভেতরে প্রবেশ করে। মানুষের যতটুকু প্রয়োজন তার অতিরিক্তটুকুই অতিরঞ্জন ও অপচয়। ঐ অতিরিক্তটুকুই শয়তানের অংশ এবং অন্তরে তার প্রবেশদ্বার। এ থেকে মুক্তির উপায় হলো, খাদ্য, ঘুম, ভোগ-বিলাস, বিশ্রামসহ নফসের সব চাওয়া-পাওয়ার অতিরঞ্জন ও অপচয় বন্ধ করা। তবেই শয়তান মানুষের ভেতরে প্রবেশ করার একটি পথ বন্ধ পাবে।

২. অলসতা ও অসচেতনতা। শয়তান মানুষের অলসতা ও অসচেতনতাকে কাজে লাগায়। জিকিরকারী বান্দা সবসময় জিকিরে মশগুল থাকে। যখনই সে জিকির থেকে অসচেতন হয়ে পড়ে, তখনই তার জিকিরের দুর্গের দরজা উন্মুক্ত হয়ে যায়। ফলে শয়তান সেই দুর্গে (কলবে) ঢুকে পড়ে। ফলে তাকে সেই দুর্গ থেকে বের করা বা তাড়ানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।

৩. অনর্থক ও অনুপকারী কাজে সময় ব্যয় করা। বেহুদা কথা বলা কিংবা বেহুদা কাজে সময় ব্যয় করা। যে কথা ও কাজের নিজের কিংবা অন্যের কেনো উপকার হবে না। এমন কাজে সময় ব্যয় করলে শয়তান এসব অনর্থক কথা ও কাজের মাধ্যমে মানুষের ভেতরে প্রবেশ করে। মানুষের ইলম ও আমলকে ধ্বংস করে দেয়।

সুতরাং মানুষের উচিত, সব সময় অপচয়, অলসতা ও অনর্থক কথা ও কাজ থেকে বিরত থাকা। শয়তানের আক্রমণ থেকে হেফাজত থাকা। হাদিসের পাকে এমনই তিনটি কাজ থেকে বিরত থাকতে বলেছেন নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। তাহলো-

হজরত জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যাদেরকে আমি সবচেয়ে বেশি ঘৃণা করি এবং যারা কেয়ামতের দিন আমার থেকে সবচেয়ে দূরে অবস্থান করবে, তারা হলো সেই সব লোক-

১. যারা অনর্থক বেশি কথা বলে।

২. যারা অন্যকে হেয় বা তুচ্ছ জ্ঞান করে।

৩. যারা অহংকার প্রদশন করে।’ (তিরমিজি)

শয়তান থেকে আশ্রয়

নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নামাজে সুরা বা কেরাত শুরুর আগেও ইস্তেআজাহ তথা আউজুবিল্লাহ পড়তেন। শয়তানের প্ররোচনা ও ধোঁকা থেকে আশ্রয় চাইতেন। তিনি বলতেন-

أَعُوْذُ بِاللهِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيْمِ، مِنْ هَمْزِهِ وَنَفْخِهِ وَنَفْثِهِ

উচ্চারণ : ‘আউজুবিল্লাহি মিনাশ শাইত্বানির রাঝিম; মিনহামযিহি ওয়া নাফখিহি ওয়া নাফছিহি।’

অর্থ : ‘আমি আল্লাহর কাছে বিতাড়িত শয়তান থেকে তার প্ররোচনা ও ফুৎকার থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।’

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে উল্লেখিত কাজগুলো থেকে সতর্ক থাকার তাওফিক দান করুন। শয়তানের আক্রমণ থেকে বেঁচে থাকতে আউজুবিল্লাহর নিয়মিত আমল করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

এমএমএস/এএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।