তারাবিহ নামাজ : যেভাবে পড়বেন


প্রকাশিত: ১০:৫২ এএম, ০৬ জুন ২০১৬

রমজান মাস মুসলিম উম্মাহর জন্য এক মহা অনুগ্রহের মাস। এ মাসের মর্যাদা অন্য মাসের তুলনায় অধিক। এ মাসের গুরুত্বপূর্ণ ইবাদাত হলো তারাবিহ নামাজ। রমজান মাসে বিভিন্ন মসজিদে মহল্লায় তারাবিহ নামাজ অনুষ্ঠিত হয়।

পরিলক্ষিত হয় যে, যে মসজিদে তারাবিহ নামাজ তাড়াতাড়ি হয়, অনেক মুসল্লি সে মসজিদ খুঁজে বের করে সেখানে গিয়েই নামাজ আদায় করে। অথচ তারাবিহ নামাজ ধীর স্থিরভাবে আদায় করাই নিয়ম। প্রতিযোগিতা করে তারাবিহ নামাজ আদায় করা সুন্নাতি নিয়মের পরিপন্থী। তাই আসুন, তারাবিহ নামাজ তাড়াতাড়ি না ধীরস্থির হবে তা জেনে নিই-

তারাবিহ
তারাবিহ শব্দের অর্থ বিশ্রাম করা। প্রতি চার রাকাআত নামাজ শেষ করে যাতে একটু বিশ্রাম গ্রহণ করা যায় তাই একে তারাবিহ বলা হয়।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের তারাবিহ ছিল অতি দীর্ঘ। এমনকি কিয়াম, রুকু, সিজদা সবাই ছিল খুব লম্বা ও ধীরস্থির। হাদিসে এসেছে-

হজরত সাঈর ইবনে ইয়াযিদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, ইমাম সাহেব তথা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তারাবিহতে শত শত আয়াত পড়তেন। ফলে সুদীর্ঘ সময় দাঁড়ানোর কারণে আমরা লাঠির ওপর ভর দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতাম। (মুয়াত্তা মুহাম্মদ)

তারাবিহ নামাজে ইমাম হোক আর মুসল্লি হোক প্রতিযোগিতা করে তারাবিহ পড়ার প্রবনতা পরিহার করা উচিত। কারণ যত তাড়াতাড়িই নামাজ পড়ার চেষ্টাই করা হোক না কেন, তাতে সময়ের ব্যবধানে বেশি হেরফের হয় না।

সুতরাং সামান্য সময়ের জন্য তারাবিহ নামাজের সৌন্দর্য বিনষ্ট করতে তাড়াতাড়ি তারাবিহ পড়ার প্রবনতা থেকে বেরিয়ে এসে অধিক ছওয়াব অর্জনের প্রত্যাশায় ধীর ও স্থিরভাবে তারাবিহ পড়াই উত্তম।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে খতম তারাবিহ হোক আর সুরা তারাবিহ হোক, সকল তারাবিহ নামাজ ধীরস্থিরভাবে পড়ার তাওফিক দান করুন। তারাবিহর ফজিলত লাভে নিয়মিত রাত জাগরণ করে তারাবিহ আদায় করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

এমএমএস/এবিএস