বিশ্ব ইজতেমার ময়দান প্রস্তুত : দ্বিতীয় ধাপে আসবে যারা

ধর্ম ডেস্ক
ধর্ম ডেস্ক ধর্ম ডেস্ক
প্রকাশিত: ১২:৪৭ পিএম, ১৮ জানুয়ারি ২০১৮

কহর দরিয়াখ্যাত টঙ্গীর তুরাগ তীরে এবারের বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় ধাপ আগামীকাল ১৯ জানুয়ারি বাদ ফজর আম বয়ানের মধ্য দিয়ে শুরু হবে। ২১ জানুয়ারি আখেরি মোনাজাতের মাধ্যমে এবারের বিশ্ব ইজতেমা শেষ হবে। ইতিমধ্যে বিশ্ব ইজতেমার ময়দান অংশগ্রহণকারীদের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত।

বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় ধাপে ঢাকাসহ ১৩ জেলার মানুষ অংশগ্রহণ করবে। আর বিশ্বের ৯০ দেশের প্রায় ৭ হাজারেরও বেশি ধর্মপ্রাণ মুসলমান অংশগ্রহণ করবে।

দ্বিতীয় পর্বে অংশগ্রহণকারী জেলাগুলো হলো-
ঢাকা, জামালপুর, ফরিদপুর, কুড়িগ্রাম, ঝিনাইদহ, ফেনী, সুনামগঞ্জ, চুয়াডাঙ্গা, কুমিল্লা, রাজশাহী, খুলনা, ঠাকুরগাঁও এবং পিরোজপুর।
ইতিমধ্যে প্রথম পর্ব শেষ হওয়ার পর দ্বিতীয় পর্ব শুরু করার লক্ষ্যে ইজতেমা ময়দানে পরিষ্কার-পরিছন্নতার কাজ শেষ। মুসল্লিরাও ইজতেমার ময়দানে আসতে শুরু করেছেন। প্রথম ধাপের মতো দ্বিতীয় ধাপেও ইজতেমার পুরো ময়দানকে ২৭টি ভাগে ভাগ করা হয়েছে।

দ্বিতীয় ধাপের ইজতেমায় মুসল্লিদের অংশ নেওয়ার জন্য জেলাওয়ারি পুরো প্যান্ডেলকে ২৮টি খিত্তায় ভাগ করা হয়েছে। এতে ১৬টি জেলার মুসল্লিরা অংশ নেবেন। খিত্তা অনুযায়ী এসব জেলাগুলো হচ্ছে, ১নং খিত্তায় ঢাকা-০১, ২ নং খিত্তায় ঢাকা-০২, ০৩ নং খিত্তায় ঢাকা-০৪, ৪ নং খিত্তায় ঢাকা-১৯, ৫ নং খিত্তায় ঢাকা-২০, ৬ নং খিত্তায় ঢাকা-২১, ৭নং খিত্তায় ঢাকা-০৩, ৮নং খিত্তায় ঢাকা-২৩, ৯ নং খিত্তায় ঢাকা-২২, ১০ নং খিত্তায় ঢাকা-০৬, ১১নং খিত্তায় জামালপুর-০১, ১২নং খিত্তায় জামালপুর-০২, ১৩নং খিত্তায় ফরিদপুর, ১৪নং খিত্তায় কুড়িগ্রাম, ১৫নং খিত্তায় ঝিনাইদহ, ১৬নং খিত্তায় ফেনী, ১৭নং খিত্তায় সুনামগঞ্জ, ১৮নং খিত্তায় ঢাকা-০৭, ১৯নং খিত্তায় ঢাকা-০৫, ২০নং খিত্তায় চুয়াডাঙ্গা, ২১ নং খিত্তায় কুমিল্লা-০১, ২২নং খিত্তায় কুমিল্লা-০২, ২৩নং খিত্তায় রাজশাহী-০১, ২৪নং খিত্তায় রাজশাহী-০২, ২৫নং খিত্তায় খুলনা-০১, ২৬নং খিত্তায় ঠাকুরগাঁও, ২৭নং খিত্তায় খুলনা-০২ ও ২৮ নং খিত্তায় পিরোজপুর জেলার মুসল্লিরা অবস্থান নেবেন।

গাজীপুর সিটি করপোরেশন বিশ্ব ইজতেমায় আগতেদের স্বাগত জানাতে ইজতেমা ময়দানের প্রবেশপথগুলোতে ১০টি তোরণ নির্মাণ করেছে। অজু, গোসল, পয়োনিষ্কাশন ও পানীয় সরবরাহের জন্যে ১২টি গভীর নলকূপ স্থাপন করেছে। যা ঘণ্টায় তিন কোটি ৫৫ লাখ গ্যালন পানি সরবরাহে সক্ষম।

তাছাড়া নতুনভাবে পাকা দালানে প্রায় ৪ হাজার এবং ১৫৪টি অস্থায়ী টয়লেট স্থাপনে পাশাপাশি নষ্ট ও ক্ষতিগ্রস্ত অজু-গোসলখানা এবং টয়লেটগুলো ইতিমধ্যে সংস্কার করা হয়েছে।

পরিবেশ রক্ষায় ১০০ ড্রাম ব্লিচিং পাউডার, মশা নিধনে ২৪টি ফগার মেশিন, স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ৪৫টি চিকিৎসাকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। ২৫টি ট্রাকের মাধ্যমে প্রতিদিনের বর্জ্য অপরাসণের ব্যবস্থা রয়েছে।

উল্লেখ্য যে ২০১১ সাল থেকে ভিড় এড়াতে নিরাপদে মানুষের চলাচল নির্বিঘ্ন করতে ২ ধাপে বিশ্ব ইজতেমা আয়োজনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। পর্যায়ক্রমে বিশ্ব ইজতেমার আয়োজনকে আরো সুন্দর করার লক্ষ্যে বর্তমানে সারাদেশের মানুষকে ২ ভাগে ভাগ করে ইজতেমা আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। যার ফলে এক বছর পর পর সারাদেশের মানুষ ইজতেমায় অংশগ্রহণ করতে পারবে।

তবে বিদেশি মেহমানরা থাকবে এ বিভাজনমুক্ত। তাঁরা প্রতি বছরের প্রত্যেক পর্বেই অংশগ্রহণ করতে পারবে।

এমএমএস/আরআইপি

আপনার মতামত লিখুন :