কমিউনিজমের দেশে শুরু হয়েছে ইসলামের গণজোয়ার

ধর্ম ডেস্ক
ধর্ম ডেস্ক ধর্ম ডেস্ক
প্রকাশিত: ১১:৩৬ এএম, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯

মুসলমানদের বসবাস হাজার ভাগের এক ভাগও নয়, বরং তার চেয়েও কম। প্রকাশ্যে মদ পান ও খোলামেলা পোশাকের অবাধ বিচরণে অন্যতম কমিউনিজমের দেশ কিউবা। যেখানে এখনো শুকর হচ্ছে জাতীয় খাবার। সেখানে শূন্যের কোটা থেকে ১০ হাজার মুসলিমের বসবাস।

পুরোপুরি ইসলাম মেনে চলায় কড়াকড়ি থাকা সত্বেও নারীরা স্বচ্ছন্দে হিজাব কিংবা বোরকা পরতে পারছে। দেশটির রাস্তায় দেখা মেলে হিজাব ও বোরকা পরিহিত নারীর নিরাপদ পথচলা। বর্তমান সময়ে কমিউনিজমের সুঁতিকাগার হিসেবে পরিচিত ফিদেল কাস্ত্রোর দেশ কিউবার রাজধানী হাভানা শহরের মনোরম পরিবেশে ধর্মীয় পোশাক বোরকা ও হিজাব পরে নারীদের হাটতে দেখা যায়।

কিউবার মোট জনসংখ্যা মাত্র ০.১ শতাংশ মানুষ মুসলিম। ইসলামি নিয়ম-নীতি পালনে বাধা না থাকলেও পুরো দেশে মাত্র একটি মসজিদ থাকায় এবং হালাল খাবারের পর্যাপ্ত দোকান না থাকায় ইবাদত-বন্দেগিতে মুসলিম নারী-পুরষদের কিছুটা অসুবিধা ভোগ করতে হয়। এ অসুবিধার মাঝেও অন্যান্য ধর্মাবলম্বী মানুষ ধীরে ধীরে ইসলামের পতাকা তলে আশ্রয় নিচ্ছে।

বিশেষ করে দেশটিতে নারীদের মাঝে ধর্মান্তরিত হওয়ার দৃশ্যই লক্ষণীয়। ইসলামের সুমহান আদর্শই তাদেরকে ইসলাম গ্রহণ উদ্বুদ্ধ করছে। ইসলামকে বুঝতে অন্য ধর্মের নারীরা প্রায় ইসলাম ধর্মে বিশ্বাসী নারীদের সঙ্গে বিভিন্ন ইবাদত-বন্দেগি ও অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করছে। আর এভাবেই দাওয়াতে দ্বীনের প্রচার কাজ ধীরে ধীরে বেড়ে চলছে।

Keuba

সাত বছর আগে ইসলাম গ্রহণকারী নওমুসলিম নারী সাংবাদিক ২৭ বছর বয়সী মারিয়াম ক্যামেজো জানান, ‘সাম্প্রতিক বছরগুলেঅতে ইসলামের প্রতি কম বয়সী নারীদের আগ্রহ বেশি পরিলক্ষিত হচ্ছে।

২০১৫ সালে উদ্বোধন হওয়া কিউবার রাজধানী হাভানায় দেশের একমাত্র মসজিদে আরবি ও কুরআন শিক্ষার ক্লাস নেন মারিয়াম। সে স্থানীয় মুসলিমদের সঙ্গে গভীরভাবে সুসম্পর্ক গড়ে তোলেন।

৩৫ বছরের ইসৌরা আরগুদিনের মতে, কিউবায় ধর্মীয় জ্ঞানে অভিজ্ঞ মুসলিম নারী না থাকায় নারী মুসলিম বিভিন্ন অসুবিধার মুখোমুখি হচ্ছে।

৭০/৮০’র দশকে মধ্যপ্রাচ্য থেকে পড়তে আসার ছাত্রদের মাধ্যমে কিউবায় ইসলামের প্রচার শুরু হয়। ইসলামের সৌন্দর্যের প্রতি আকৃষ্ট হয়েই স্থানীয়রা ইসলাম গ্রহণ করতে শুরু করে।

Keuba

বর্তমানে দেশটিতে ১ হাজার ২০০ মুসলিম নারীসহ মাত্র ১০ হাজার মুসলমান রয়েছে। খ্রিস্টান অধ্যুষিত কমিউনিজমের দেশ কিউবায় গত ৫০ বছরে শূন্যের কোটা থেকে মুসলিম সংখ্যা ১০ হাজারে পরিণত হয়েছে। যা মোট জনসংখ্যার ১ হাজার ভাগের ১ ভাগ।

কিউবায় দু’টি অরাজনৈতিক মুসলিম সংগঠন ইসলাম প্রচারে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। জামাআতের সঙ্গে নামাজ আদায় মসজিদ না থাকায় মুসলিমরা নিজ নিজ বাড়িতেই ইবাদত-বন্দেগি করে যাচ্ছে।

কিউবা সরকারের অনুমতিক্রমে দেশটিরে রাজধানী হাভানায় ‘আরব হাউজ’নামে একটি ইমিগ্রান্ট ভবনে শুধু জুমআর নামাজ পড়ার অনুমতি রয়েছে। শুক্রবার মাত্র তিন ঘন্টার জন্য খুলে দেয়া হয় ভবনটি।

তবে এ মসজিদে কিউবার নাগরিক নয়, এমন মুসলিমরাই জুমআর নামাজে অংশগ্রহণ করতে পারে। কিন্তু কিউবান মুসলিমরা মসজিদে জুমআর নামাজ আদায়ে ক্ষেত্রে সরকারি অনুমতি পায়নি এখনও। ‘আরব হাউজ’টি শুক্রবারের নামাজ ছাড়া বর্তমানে এটি জাদুঘর ও রেস্টুরেন্ট হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

Keuba

কিউবায় এখনো কোনো হালাল গোশতের দোকান হয়নি। শূন্যের কোটা থেকে উঠে আসা ১০ হাজার মুসলিমের জীবনাচার এ জন্য একটু কষ্টকর। তবে স্থানীয়দের ব্যাপক সহায়তায় তারা অনেকটাই স্বাভাবিকভাবে চলতে পারছে।

স্থানীয় কিউবান নওমুসলিমদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিত্বরা হলেন, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী আলি নিকোলাস কোসিও, সাবেক বিখ্যাত বক্সার জুয়ান কার্লোস গোমেজ। আলি নিকোলাস কোসিও ‘ভয়েস অব ইসলাম’ নামে একটি রেডিও স্টেশনে সাংবাদিকতা করছেন।

কিউবার রাজধানী হাভানায় মুসলমানদের নামাজ পড়ার একটি স্থান রয়েছে। আর সেটা হলো কিউবার ইসলামিক লীগের প্রেসিডেন্ট ইমাম ইয়াইয়া পেড্রো টোরেজের বাড়ির আঙ্গিনা।

সম্প্রতি তুরস্কের রাষ্ট্রদূত রিসেপ তাইপে এরদোয়ান কিউবা সফরে গিয়ে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা রাউল ক্যাস্ত্রোর সঙ্গে বৈঠকে মুসলিমদের জন্য মসজিদ তৈরির প্রস্তাব দেন। তবে এরদোয়ানের প্রস্তাবের আগেই সৌদি আরব দেশটিতে মসজিদ নির্মাণ শুরু করেছে।

কিউবার রাজধানী হাভানার শিল্পঞ্চলের কাছে সৌদি অর্থায়নে তৈরি হতে যাচ্ছে কিউবার প্রথম মসজিদ। আশা করা যায় ১ কোটি ১৩ লাখ মানুষের দেশ কিউবায় ১০ হাজার মুসলিম শীঘ্রই মসজিদে নামাজ আদায় স্বাদ লাভ করবে।

এমএমএস/জেআইএম