শিক্ষকের মর্যাদায় যে ঘোষণা দিয়েছেন বিশ্বনবি

ধর্ম ডেস্ক
ধর্ম ডেস্ক ধর্ম ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৩:৫৫ পিএম, ০৫ অক্টোবর ২০১৯

বিশ্বব্যাপী আজ পারিত হচ্ছে ‘বিশ্ব শিক্ষক দিবস’। বিশ্ব শিক্ষক দিবসে মানুষ গড়ার কারিগর সারা পৃথিবীর সব শিক্ষককে জানাই আন্তরিক শ্রদ্ধা, সম্মান ও অভিনন্দন। হাদিসের পরিভাষায়ও রয়েছে এ নির্দেশনা-

হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, ‘তোমরা জ্ঞান অর্জন কর এবং জ্ঞান অর্জনের জন্য আদব-শিষ্টাচার শেখ। যার কাছে তোমরা জ্ঞান অর্জন কর, তাঁকে সম্মান কর।’

কেননা যার কাছে কোনো কিছু শেখা হয়, তিনিই মানুষের শিক্ষক। ইসলামে রয়েছে শিক্ষকের অনন্য মর্যাদা ও সম্মান। শিক্ষকের প্রতি সম্মান দেখাতেই প্রতি বছর ৫ অক্টোবর পালিত হয় বিশ্ব শিক্ষক দিবস।

ফিরে দেখা
ইউনেস্কো ৫ অক্টোবর ১৯৬৬ সালে প্যারিসে অনুষ্ঠিত এক সম্মেলনে ১৪৫টি সুপারিশের মাধ্যমে শিক্ষকদের জন্য বিশ্ব শিক্ষক দিবসের দাবি তোলে। সে দাবির পরিপ্রেক্ষিতে দীর্ঘদিন পর ১৯৯৫ সাল থেকে ৫ অক্টোবর বিশ্বব্যাপী বিশ্ব শিক্ষক দিবস পালিত হয়ে আসছে।

বিশ্বের ১০০টি দেশে ‘এডুকেশন ইন্টারন্যাশনাল’ (Education International - EI) ও তার সহযোগী ৪০১টি সদস্য সংগঠন মূল ভূমিকা রেখে দিবসটি পালন করে। শিক্ষকদের প্রতি জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও শিক্ষকতা পেশার মহান অবদানকেও স্মরণ করা হয়।

ইসলাম শিক্ষকদের দিয়েছে অনন্য মর্যাদা। সাহাবায়ে কেরামের মাঝেও ছিল শিক্ষকদের কদর ও সম্মান। এ কারণেই যুগে যুগে মুসলমানরা শিক্ষকদের মর্যাদার প্রতি বিশেষ অবদান রেখে আসছে।

একবার হজরত জায়েদ ইবনে সাবিত রাদিয়াল্লাহু আনহু তার সওয়ারিতে ওঠার জন্য রেকাবে পা রাখলেন। তখন হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু রেকাবটি শক্ত করে ধরেন।

তখন হজরত জায়েদ ইবনে সাবিত বললেন, হে আল্লাহর রাসুলের চাচাতো ভাই! আপনি (সাওয়ারির রেকাব থেকে) হাত সরান।

উত্তরে হজরত ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, ‘না’। আলেম (শিক্ষক) ও বড়দের সঙ্গে এমন সম্মানসূচক আচরণই করতে হয়।

শিক্ষকই মানুষকে সঠিক পথের দিক নির্দেশনা দিতে পারেন। যে কথা বলেছেন প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। তিনি মুসলিম উম্মাহর উদ্দেশ্যে বলেছেন, ‘আমাকে (তোমাদের) শিক্ষক হিসেবে প্রেরণ করা হয়েছে।’

বিশ্বনবির এ কথার মূল উদ্দেশ্য হলো- ‘জ্ঞানই মানুষের যথার্থ শক্তি ও মুক্তির পথ-নির্দেশ দিতে পারে।’ প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম শিক্ষা, শিক্ষা উপকরণ, শিক্ষক ও শিক্ষার ব্যাপকীকরণে সদা সচেষ্ট ছিলেন।

বদরের যুদ্ধের পর শিক্ষা-সংক্রান্ত মর্যাদার প্রমাণ পাওয়া যায়। বদরের যুদ্ধে যারা বন্দি হয়েছিলে, তাদের মুক্তির ব্যাপারে এরকম একটি সিদ্ধান্ত হয় যে, যারা যে বিষয়ে পারদর্শী, তারা সে বিষয়টি মদিনার শিশুদের শিক্ষা দেয়ার বিনিময়ে মুক্তি পাবে, যা বিশ্বের ইতিহাসে আজও বিরল ঘটনা।

হজরত আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, একদিন এক বয়স্ক ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দরবারে এলে উপস্থিত সাহাবায়েকেরাম নিজ স্থান থেকে সরে তাকে জায়গা করে দেন। তখন তিনি ইরশাদ করেন, 'যারা ছোটদের স্নেহ ও বড়দের সম্মান করে না, তারা আমাদের দলভুক্ত নয়।' (তিরমিজি)

দুঃখজনক হলেও সত্য যে, বর্তমান সময়ে সামাজিক দায়িত্ব ও মর্যাদার দিক থেকে শিক্ষকতার পেশাকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্যের দৃষ্টিতে দেখা হয়। অথচ শিক্ষকতার পেশা অত্যন্ত মহান ও গুরুত্বপূর্ণ পেশা। ইসলামের দৃষ্টিতেও শিক্ষকতা অতি সম্মানিত ও মহান পেশা।

শিক্ষকদের প্রতি সম্মান দেখানোর মাধ্যমেই তৈরি হয় আদর্শ সমাজ। শিক্ষকদের প্রতি মানসিক কিংবা শারীরিক নিপীড়ন বা অপমান নয়। শিক্ষকদের প্রতি সম্মান দেখানোই মহৎ কাজ।

বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ছোট্ট একটি হাদিসের আলোকে শিক্ষকদের প্রতি সম্মান ও মর্যাদা হোক বিশ্বমানবতার কাজ। তিনি বলেছেন, ‘শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা ছাড়া কেউই আমার আপন নয়।’

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে শিক্ষকের প্রতি মর্যাদা দেয়ার এবং যারা শিক্ষা গ্রহণ করে তাদের মর্যাদা দেয়ার তাওফিক দান করুন। সুন্দর সমাজ বিনির্মাণে শিক্ষকদের সহযোগিতা করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

এমএমএস/এমকেএইচ