নাজাতের দশকে আমাদের করণীয়

মাহমুদ আহমদ
মাহমুদ আহমদ মাহমুদ আহমদ , ইসলামি গবেষক ও কলামিস্ট
প্রকাশিত: ০৭:০৭ পিএম, ১৭ মে ২০২০

আল্লাহ তাআলার দরবারে শুকরিয়া জ্ঞাপন করছি, তিনি আমাদের সুস্থতার সঙ্গে রমজানের রোজাগুলো রাখার সৌভাগ্য দান করছেন, আলহামদুলিল্লাহ। দ্রুতই রমজানের দিনগুলো চলে যাচ্ছে। আমরা এখন নাজাতের দশকের রোজা রাখছি। আশা করি এ দশকের ইবাদতের মাধ্যমে মুমিনের হৃদয় হয়ে উঠবে সতেজ। তাই আত্মাকে সতেজ করার জন্য এ দশকের ইবাদত-বন্দেগির গুরুত্ব অপরিসীম।

আমাদের উচিত হবে নাজাতের এ দশকে পুণ্যকর্মের কোনো দিক যেন আমরা বাদ না দেই। সব ধরনের পুণ্যকর্মে নিজেকে নিয়োজিত রাখি। সুনিয়ন্ত্রিত সুখাদ্য যেমন দেহকে সুস্থ, সবল ও আনন্দময় করে, তেমনি রমজানের রোজা পালন সুনিয়ন্ত্রিতভাবে আমাদের আত্মাকে সুস্থ, সতেজ ও আল্লাহ প্রেমিক বান্দায় পরিণত করে দেয়।

মাহে রমজানের প্রতিটি দিন, প্রতিটি মুহূর্ত বড়ই কল্যাণ ও বরকতমণ্ডিত। সে ব্যক্তি নিতান্তই দুর্ভাগা; যে এসব বরকত ও কল্যাণ থেকে নিজেকে বঞ্চিত রাখে আর অন্যান্য দিনের মতোই রোজার দিনগুলো অতিবাহিত করে।

নাজাতের এ দশকে ফরজ ইবাদতের পাশাপাশি আমরা যদি বেশি বেশি নফল ইবাদতে রত হই আর গভীর মনোনিবেশ সহকারে পবিত্র কুরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে আল্লাহ তাআলার নৈকট্য কামনা করি তাহলে তিনি আমাদের শেষ দশকে লাইলাতুল কদরের স্বাদ গ্রহণের সৌভাগ্য দান করবেন।

পবিত্র রমজান মাসেই প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল্লাহ পাকের পক্ষ থেকে প্রথম বাণী লাভ করেছিলেন। এ রমজান মাসেই হজরত জিবরিল আলাইহিস সালাম (আগে-পরে) নাজিল হওয়া কুরআনের সব বাণী রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে তেলাওয়াত করে শোনাতেন। এ ব্যবস্থা তাঁর জীবনের শেষ পর্যন্ত অব্যাহত ছিল।

এছাড়া প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জীবনের শেষ বছরের রমজান মাসে হজরত জিবরিল আলাইহিস সালাম পূর্ণ কুরআনকে দু’বার পাঠ করে শুনিয়েছেন।' (বুখারি)

এ থেকে বোঝা যায়, রমজানের সাথে কুরআনের সম্পর্ক সুগভীর। এ পবিত্র মাসে রোজার কল্যাণ, আজ্ঞানুবর্তিতা এবং কুরআন পাঠ এসব ইবাদত একত্রে মানবচিত্তে এক আশ্চর্য আধ্যাত্মিক অবস্থা সৃষ্টি করে।

নাজাতের এ দশকে আমরা যা করতে পারি-
- যারা এখনও ৩০ পারা পবিত্র কুরআন পাঠ করে শেষ করেননি, তাদের উচিত রমজানে কমপক্ষে একবার হলেও পবিত্র কুরআন খতম দেয়া, অনুবাদ পড়া ও এর অর্থ বোঝার চেষ্টা করা।
- প্রতি রাতে সময় নিয়ে তাহাজ্জুদ নামাজ আদায় করে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া এবং লাইলাতুল কদর লাভের দোয়া করা।
- ইবাদতের পাশাপাশি অধিকহারে দান খয়রাত করার প্রতি দৃষ্টি দেয়া।
- ফিদিয়া ও ফিতরা ঈদ আসার আগেই আদায় করা।
- গরিব অসহায়দের ঈদের আনন্দে শরিক করার লক্ষ্যে সামর্থ্য অনুযায়ী দান করা।
- দরিদ্র প্রতিবেশীর প্রতি খোঁজ নিয়ে তাদের ঘরে ঈদের উপহার পাঠানো।
- জাকাতের নিসাবপূর্ণ হলে হিসাব করে জাকাত আদায় করা।
- করোনা পরিস্থিতিতে খেটে খাওয়া ও দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়ানো।

আমরা আমাদের সাধ্য অনুযায়ী ইবাদত-বন্দেগি আর দান-খয়রাত করে যাব, আল্লাহ তাআলা তা গ্রহণ করবেন কি না তা একান্তই তার বিষয়। তবে আমাদের প্রাণপণ চেষ্টা করতে হবে দয়াময় প্রভু যেন আমাদের নাজাত ও মুক্তি দান করেন।

কেননা তিনি আমাদের নিরাশ হতে নিষেধ করেছেন। তিনি বলেছেন-
‘তুমি বল, নিজেদের ওপর জুলুমকারী হে আমার বান্দাগণ! তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চিত তিনি সব পাপ মোচন করে দেবেন। তিনিই একমাত্র মহান ক্ষমাশীল, মহাদয়াবান।’ (সুরা যুমার : আয়াত ৫৩)

তাই আমাদের নিরাশ না হয়ে তার কাছে নিজেদের পাপের জন্য ক্ষমা চাইতে হবে। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে নাজাতের এ দশক থেকে কল্যাণমণ্ডিত হওয়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।

এমএমএস/এমএস