আজ কুমারী পূজা


প্রকাশিত: ০২:৫২ এএম, ২১ অক্টোবর ২০১৫
ফাইল ছবি

বাঙালি হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার মহাষ্টমী আজ বুধবার। অন্যান্য বছরের মতো এবারো মহাষ্টমীতে রামকৃষ্ণ মিশনে অনুষ্ঠিত হবে কুমারী পূজা। ঢাকার রামকৃষ্ণ মিশন ছাড়াও বিভাগীয় শহরগুলোতে কুমারী পূজা অনুষ্ঠিত হবে।

রামকৃষ্ণ মিশনে অষ্টমী পূজা শুরু হবে সকালে। এ ছাড়া অন্যান্য মন্দিরে মহাষ্টমীর পূজা বিহিত অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে সকাল ৮টা ৪০ মিনিটের মধ্যে বিহিত পূজা ও সন্ধ্যিপূজা হবে ৯টা ২৮ মিনিটের মধ্যে। দুপুরে মণ্ডপের পাশাপাশি কারাগার ও অনাথ আশ্রমে প্রসাদ বিতরণ করা হবে। সেই সঙ্গে দুস্থদের মাঝে বস্ত্র বিতরণ করা হবে বলে জানিয়েছেন পূজা উদযাপন পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির গণসংযোগ সম্পাদক অ্যাডভোকেট স্বপন রায়।

দুর্গাপূজার অন্যতম বৈশিষ্ট্য কুমারী পূজা। দেবী পুরাণে কুমারী পূজার সুস্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে। শাস্ত্র অনুসারে সাধারণত এক বছর থেকে ১৬ বছরের অজাতপুষ্প সুলণা কুমারীকে পূজার উল্লেখ রয়েছে। ব্রাহ্মণ অবিবাহিত কন্যা অথবা অন্য গোত্রের অবিবাহিত কন্যাকেও পূজা করার বিধান রয়েছে। বয়স ভেদে কুমারীর নাম হয় ভিন্ন। এ দিন নির্বাচিত কুমারীকে স্নান করিয়ে নতুন কাপড় পরানো হয়। হাতে দেয়া হয় ফুল, কপালে সিঁদুর এবং পায়ে আলতা। ঠিক সময়ে সুসজ্জিত আসনে বসিয়ে ষোড়শোপচারে পূজা করা হয়।

১৯০১ সালে ভারতীয় দার্শনিক ও ধর্মপ্রচারক স্বামী বিবেকানন্দ সর্বপ্রথম কলকাতার বেলুড় মঠে ৯ কুমারী পূজার মাধ্যমে এর পুনঃপ্রচলন করেন। তখন থেকে প্রতি বছর দুর্গাপূজার অষ্টমী তিথিতে এ পূজা চলে আসছে।

আগামীকাল ২২ অক্টোবর এ দিনে মহানবমী ও বিজয়া দশমী অনুষ্ঠিত হবে। ২৩ অক্টোবর প্রতিমা বিসর্জন। এ দিন বিকেলে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির মেলাঙ্গন থেকে বিজয়ার শোভাযাত্রা বের করা হবে। এই শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে শেষ হবে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পরম কাক্সিত শারোৎসব।

শারদীয় দুর্গোৎসবের দ্বিতীয় দিনে মঙ্গলবার সারা দেশে উৎসাহ-উদ্দীপনা ও ধর্মীয় মর্যাদায় উদযাপিত হয়েছে মহাসপ্তমী। নবপত্রিকা স্থাপনের মধ্য দিয়ে আনন্দময়ীর পূজা শুরু হয়। মহাসপ্তমীতে ষোড়শ উপাচারে অর্থাৎ ১৬টি উপাদানে দেবীর পূজা হয়। সেই সঙ্গে দেবীকে আসন, বস্ত্র, নৈবেদ্য, স্নানীয়, পুষ্পমাল্য, চন্দন, ধূপ ও দীপ দিয়ে দেবীর পূজা করেন ভক্তরা।

জেডএইচ/পিআর