নামাজ ও জামাআতে গুরুত্ব


প্রকাশিত: ১১:০৫ এএম, ২৫ অক্টোবর ২০১৫

সামষ্টিক কাজের ফায়েদা হাসিল হয় তাড়াতাড়ি। দুনিয়ার সমাজগুলো সবাই মিলে যে কাজ করা হয় তার সুফল পাওয়া দ্রুত। আল মুমিন বান্দাগণ যদি জামাআতে নামাজ আদায় করেন তবে সে নামাজ কবুল হওয়া সময়ের ব্যাপার মাত্র। কারণ, আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জামাআতে নামাজ পড়ার জোর নির্দেশ দিয়েছেন। তাই জামাআতে নামাজ আদায়ের গুরুত্ব ও অত্যধিক।

নামাজ শব্দের আরবি প্রতি শব্দ হচ্ছে সালাত। যার আভিধানিক অর্থ হচ্ছে দোয়া। আলাহ্ তাআলা বলেন, ‘আর তুমি তাদের জন্য দো’আ করো। নিশ্চয়ই তোমার দোআ তাদের জন্য শান্তি স্বরূপ।’ (সুরা তাওবা : আয়াত ১০৩)

হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, إِذَا دُعِيَ أَحَدُكُمْ فَلْیُجِبْ، فَإِنْ كَانَ صَائِماً فَلْیُصَلِّ অর্থাৎ ‘তোমাদের কাউকে খাবারের দাওয়াত দেয়া হলে সে যেন উক্ত দাওয়াতে উপস্থিত হয়। অতঃপর সে যদি রোজাদার হয়ে থাকে তা হলে সে যেন মেজবানের জন্য বরকত, কল্যাণ ও মাগফিরাতের ‘দোআ’ করে।’ (মুসলিম)

শরীয়তের পরিভাষায় সালাত বলতে এমন এক ইবাদাতকে বুঝানো হয় যা হবে একমাত্র আলাহ্ তাআলার সন্তুষ্টি ও তাঁর সাওয়াবের আশায় এবং যাতে রয়েছে বিশেষ কিছু কথা ও কাজ যার শুরু তাকবির দিয়ে এবং শেষ হবে সালাম দিয়ে। যা আমাদের নিকট নামায নামেই অধিক পরিচিত।

উক্ত নামাজকে সালাত এ জন্যই বলা হয় কারণ, তাতে উভয় প্রকারেরই দোয়া রয়েছে। তার একটি হচ্ছে আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে কোনো ফায়েদা হাসিল কিংবা কোন ক্ষতি তথা বিপদ থেকে রক্ষা পাওয়া অথবা যে কোনো প্রয়োজন পূরণের দোয়া। যাকে সরাসরি প্রার্থনা তথা চাওয়া-পাওয়ার দোয়াই বলা হয়। আর দ্বিতীয়টি হচ্ছে ইবাদাতের দোয়া তথা ক্বিয়াম, কিরাত, রুকু’ ও সিজদার মাধ্যমে আল্লাহ তাআলার নিকট সাওয়াবের আশা করা। যার মূল লক্ষ্যও আল্লাহ্ তাআলার মাগফিরাতই হয়ে থাকে।

জামাআতে নামাজ
‘জামাআত’ শব্দের আভিধানিক অর্থ হচ্ছে কোন জিনিসের আধিক্য। তেমনিভাবে কিছু সংখ্যক মানুষ কোনো উদ্দেশ্য নিয়ে কোথাও একত্রিত হওয়াকেও ‘জামাআত’ বলে আখ্যায়িত করা হয়। অর্থাৎ জামাআতে নামাজ হচ্ছে আল্লাহর নিকট বান্দার সম্মিলিত দোয়া কবুলের আবেদন।

শরীয়তের পরিভাষায় ‘জামাআত’ বলতে নামাজ আদায়ের উদ্দেশ্যে দুই বা ততোধিক (ইমাম ও মুক্তাদি) ব্যক্তির মসজিদ অথবা সেরূপ কোনো জায়গায় একই সময়ে একত্রিত হওয়াকে বুঝানো হয়। এবং সবার সম্মিলিত নামাজ তথা দোয়া আল্লাহর দরবারে কবুল হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি।

জামাআতে নামাজ আদায়ের গুরুত্ব সম্পর্কে একটি হাদিস হচ্ছে এই যে, জনৈক অন্ধ সাহাবি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বললেন, আমাকে মসজিদে নিয়ে আসার মতো কোনো লোক নেই। তাই আমাকে ঘরে নামায পড়তে অনুমতি দিবেন কি? তিনি তাকে বললেন, তুমি কি আযান শুনতে পাও? সে বললো: জি হাঁ! তিনি বললেন, তাহলে তোমাকে মুয়াজ্জিনের ডাকে সাড়া দিয়ে মসজিদে এসে নামাজ পড়তে হবে।’ (মুসলিম)

মুয়াজ্জিনের ডাকে সাড়া দেয়া মানে যদি শুধু নামায পড়াই হতো, চাই তা যেখানেই পড়া হোক না কেন তা হলে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উক্ত সাহাবিকে তার ঘরে নামায পড়ার অনুমতি চাওয়ার পর আর তাকে আজান শুনার প্রশ্ন ও মুয়াজ্জিনের ডাকে সাড়া দেয়ার আদেশই করতেন না। কারণ, সে তো ঘরে নামায পড়ার অনুমতিই চাচ্ছিলো। সুতরাং আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে জামাআতে সহিত নামাজ আদায় করে তাঁর সন্তুষ্টি ও নৈকট্য অর্জনের তাওফিক দান করুন। আমিন।

জাগো ইসলামে লেখা পাঠাতে ই-মেইল : jagoislam247@gmail.com

জাগোনিউজ২৪.কমের সঙ্গে থাকুন। কুরআন-হাদিস মোতাবেক আমলি জিন্দেগি যাপন করে আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করুন। আমিন, ছুম্মা আমিন।

এমএমএস/এমএস

আপনার মতামত লিখুন :