পরকালের ভয় ও মৃত্যুর তিক্ততা

ধর্ম ডেস্ক
ধর্ম ডেস্ক ধর্ম ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৭:৩০ এএম, ১৭ এপ্রিল ২০১৬

পৃথিবীতে একদিন কিয়ামাত অনুষ্ঠিত হবে। যে দিন আল্লাহ তাআলার হুকুমে সমগ্র পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাবে। শুধুমাত্র আল্লাহ তাআলা ব্যতিত আর কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না। সে দিনের ভয়াবহতা কত প্রকট হবে এবং মৃত্যুর স্বাদ কত তিক্ত হবে, তার সংক্ষিপ্ত নমুনা উঠে এসেছে হজরত ইসা আলাইহিস সালাম ও হজরত সাম বিন নুহ আলাইহিস সালামের কথপোকথনে। যা আবু লাইছ সমরকান্দি রাহমাতুল্লাহি আলাইহি ‘তাম্বিহুল গাফেলিন’ গ্রন্থে তুলে ধরেছেন-

আল্লাহ তাআলা হজরত ইসা আলাইহিস সালামকে অনেক মুজিযা প্রদান করেছিলেন, তন্মধ্যে মৃত ব্যক্তিকে জীবিত করার অলৌকিক মুযিজাও প্রদান করেছিলেন। সে মতে, তাঁর সময়কার লোকদের দাবির, আপনি তো সদ্য মৃত ব্যক্তিকে জীবিত করতে পারেন। যদি একজন পুরাতন মৃত ব্যক্তিকে জীবিত করে দেখাতেন। তাদের চাহিদা পূরনার্থে হজরত ইসা আলাইহিস সালাম হজরত সাম বিন নুহ আলাইহিস সালামকে আল্লাহর হুকুমে জীবিত করেন।

হজরত সাম বিন নুহ আলাইহিস সালাম কবর হতে উঠার সময় তাঁর চুল এবং দাঁড়ি শুভ্র ছিল। হজরত ইসা আলাইহিস সালাম তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন, আপনার চুল ও দাঁড়ি শুভ্র হলো কিভাবে? আপনার যুগেতো বার্ধক্যই ছিল না।

তিনি উত্তরে বললেন, ‘আমি যখন প্লাবনের শব্দ শুনিয়াছি, তখন আমার ধারণা হয়েছিল যে, কিয়ামাত সংঘটিত হচ্ছে। আর ইহার ভয়ে আমার চুল ও দাঁড়ি সাদা হয়ে যায়।

হজরত ইসা আলাইহিস সালাম আবারো জিজ্ঞাসা করলেন, আপনার মৃত্যু কত কাল পূর্বে হয়েছে? তিনি উত্তর দিলেন, চার হাজার বছর পূর্বে। কিন্তু এখনো মৃত্যুর তিক্ততা শেষ হয় নাই।

কিয়ামাতের ভয়াবহতা এবং মৃত্যুর স্বাদের ব্যাপারে হজরত সাম বিন নুহ আলাইহিস সালামের অনুভূতি যদি এমন হয়, তবে আমাদের অবস্থা কি রকম হতে পারে?

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে তাঁর বিধি-বিধান যথাযথ পালনের মাধ্যমে পরকাল ভয়াবহতা এবং মৃত্যুর তিক্ততা থেকে হিফাজত করুন। হিদায়াত লাভের তাওফিক দান করুন। আমিন।

এমএমএস/এমএস