ইসলামে মালিক ও শ্রমিকের সম্পর্ক


প্রকাশিত: ০৬:৩৫ এএম, ০১ মে ২০১৬

ইসলামে রয়েছে মানুষের পূর্ণাঙ্গ জীবন বিধান। মানুষের সকল কর্মে শ্রমিক ও মালিকের মধ্যে সম্পর্ক কেমন হওয়া উচিত তার সুস্পষ্ট বর্ণনা রয়েছে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাদিসে। শ্রমিক ও মালিক সম্পর্কিত একটি হাদিস ও তার শিক্ষা তুলে ধরা হলো-

Woner-Labou-Inner

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘তারা (অধীনস্থ ব্যক্তিবর্গ) তোমাদের ভাই। আল্লাহ তাআলা তাদেরকে তোমাদের অধীনস্থ করেছেন। আল্লাহ তাআলা (দ্বীনী) ভাইকে তার অধীনস্থ করে দিলে সে যা খাবে তাকে তা থেকে খাওয়াবে এবং সে যা পরিধান করবে তাকে তা পরিধান করতে দিবে। আর যে কাজ তার জন্য কষ্টকর ও সাধ্যাতীত তা করার জন্যে তাকে বাধ্য করবে না। আর সেই কাজ যদি তারদ্বারাই সম্পন্ন করতে হয়, তবে সে তাকে অবশ্যই সাহায্য করবে। (বুখারি)

হাদিসের শিক্ষা-
১. মুসলমান পরস্পর ভাই ভাই। শ্রমিক হলে সে ক্ষেত্রেও এ বিধান প্রযোজ্য। সুতরাং সহদোর ভাইয়ের সঙ্গে যেরূপ সম্পর্ক থাকে, মালিক ও শ্রমিকের মাঝেও অনুরূপ সম্পর্ক থাকা জরুরি।

২. খাওয়া-পরা প্রভৃতি মৌলিক প্রয়োজন পূরণের মান মালিক ও শ্রমিক উভয়ের সমান হতে হবে। মালিক যা খাবে ও পরিধান করবে, শ্রমিককেও তা থেকে খেতে ও পরতে দিবে। অথবা শ্রমিককে অনুরূপ মানের পরিমাণ মজুরি প্রদান করা।

৩. সময় ও কাজ উভয় দিক দিয়েই যা সাধ্যাতীত এমন দায়িত্ব শ্রমিকের ওপর চাপানো যাবে না।

৪. দীর্ঘ সময় ধরে একাধারে কাজ করতে বাধ্য করা যাবে না। যা করতে শ্রমিক অক্ষম।

৫. শ্রমিকের পক্ষে কষ্টকর এমন কাজ শ্রমিকের দ্বারা সম্ভব করতে হলে প্রয়োজন অনুপাতে তাকে সাহায্য করতে হবে। অধিক সময়ের প্রয়োজন হলে সেজন্য তাকে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এমনকি অধিক মজুরির প্রয়োজন হলে তাও তাকে প্রদান করতে হবে।

পরিশেষে
বর্তমান পৃথিবীতে শ্রম ও মজুরির বিষয়ে শ্রমিক ও মালিকের মধ্যে যে দ্বন্দ্ব এবং মতপার্থক্যের কারণে অশান্তি বিরাজ করছে, এর সঠিক ও সুন্দর সমাধান এবং ইনসাফপূর্ণ সমন্বয় শুধুমাত্র ইসলামেই সম্ভব। যখন শ্রমিক ও মালিকের সম্পর্ক হবে ভাইয়ের মতো। তখন মালিক কর্তৃক অর্পিত দায়িত্ব শ্রমিক ভাই হিসেবে আঞ্জাম দিবে। ফলে মালিকও থাকবে তার প্রতি সহানুভূতিশীল, দরদি এবং দয়াবান।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে ইসলামি বিধান মোতাবেক শ্রমিক ও মালিক উভয়কে তাদের যথাযথ দায়িত্ব পালনের তাওফিক দান করুন। আমিন।

এমএমএস/এমএস