অষ্টমীতে উৎসবমুখর রাজধানীর পূজামণ্ডপগুলো

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৪:২৮ এএম, ১৪ অক্টোবর ২০২১

শারদীয় দুর্গাপূজার মহা অষ্টমীতে কুমিল্লায় অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলেও তার কোনো প্রভাব পড়েনি রাজধানীর মণ্ডপগুলোর পূজা উৎসবে। মন্দিরগুলোতে ছিল উপচেপড়া ভিড়। ধর্মীয় আরাধনায় ব্যস্ত ছিলেন সনাতন ধর্মালম্বীরা। তবে ছিল অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

বুধবার (১৩ অক্টোবর) রাজধানীর বেশ কয়েকটি মন্দির ও পূজামণ্ডপ ঘুরে এমন দৃশ্য দেখা যায়।

রাজধানীতে শারদীয় উৎসবের অন্যতম বড় আয়োজন করা হয় রমনার শ্রী শ্রী রমনা কালীমন্দির ও শ্রী মা আনন্দময়ী আশ্রমে। সন্ধ্যার পর মন্দিরটিতে গিয়ে দেখা যায় মানুষের উপচেপড়া ভিড়। ছোট থেকে বড় সব বয়সীরা এসেছেন পূজা উৎসবে। কেউ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করছেন। আবার কেউ ব্যস্ত সেলফি তোলায়। প্রধান ফটক থেকে শুরু করে মন্দির পর্যন্ত মানুষের ভিড়। মন্দিরে প্রবেশের আগ মুহূর্তেই বসানো হয়েছে মেটাল ডিটেক্টর। এছাড়াও প্রবেশপথে চলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিশেষ তল্লাশি।

শ্রী শ্রী রমনা কালীমন্দির ও শ্রী মা আনন্দময়ী আশ্রমের পূজা উদযাপন পরিশদের আহ্বায়ক চৈতী রানী বিশ্বাস জাগো নিউজকে বলেন, ভোর থেকেই আমাদের পূজার আয়োজন শুরু হয়েছে। সকালে পূজা, এরপর অঞ্জলি, প্রসাদ বিতরণসহ দিনব্যাপী বিভিন্ন কার্যক্রমের মধ্যদিয়ে আমাদের উৎসব চলছে। সকাল থেকেই সবকিছু স্বাভাবিকভাবে হচ্ছে। কুমিল্লাতে যে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে তার কোনো প্রভাব আমাদের এখানে পড়েনি। প্রশাসন থেকে আমাদের জানানো হয়েছে, এখানে যারা স্বেচ্ছাসেবক আছেন তারা যেন আরেকটু সাবধানতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন এবং আরেকটু সচেতন হন।

তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও তাদের যতটুকু দায়িত্ব ছিল, সে তুলনায় নিরাপত্তা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। সবাইকেই প্রবেশের আগে তল্লাশি করা হচ্ছে। আমাদের স্বেচ্ছাসেবকের দায়িত্বে যারা আছন, তারাও যথেষ্ট সচেতন রয়েছেন। আমাদের এখানে প্রভাবটা আমরা বুঝতে দেইনি ভক্তদের। যারা এসেছেন তাদের মধ্যে কোনো প্রকার আতঙ্ক বা ভয়ভীতিও কাজ করছে না। সবকিছু স্বাভাবিক আছে।

তিনি আরও বলেন, পূজা মানেই বিশেষ প্রার্থনা। দুর্গাপূজা মানেই মায়ের আরাধনা। রমনা কালীমন্দিরই বাংলাদেশে কোনো প্রথম মন্দির, যারা নারীকে সদস্য সচিব করার মতো সাহসিকতা দেখিয়েছে। মহা অষ্টমীতে কুমারি পূজা করা হয়। কিন্তু সেটা এখন থামিয়ে রাখা হয়েছে। তাছাড়া সবকিছুই আমাদের ঠিকঠাক চলছে। মহা অষ্টমীর দিনে আমাদের প্রার্থনা থাকবে সমাজের সকল পঙ্কিলতা, মানুষের মনের যেসব দুষ্কৃতি চিন্তাভাবনা এবং সমাজের জন্য যা কিছু ক্ষতিকর, তা যেন মুছে যায়।

jagonews24

গুলশান-বনানী এলাকায় সবচেয়ে বড় পূজার আয়োজন করে ‘গুলশান-বনানী সার্বজনীন পূজা ফাউন্ডেশন’। সন্ধ্যায় মণ্ডপটিতে ঘুরে দেখা যায়, ছোট থেকে বড় সকল বয়সীরা এসেছেন উৎসবে। কেউ মন্দিরে আরাধনা করছেন, কেউ নানা ধরনের পিঠাপুলি কিনছেন। আবার কেউ ব্যস্ত সেলফি তোলায়। উৎসব মাঠে প্রবেশের শুরুতেই বসানো হয়েছে মেটাল ডিরেক্টর। সেখানে নিয়োজিত আনসার সদস্যরা প্রবেশের আগে সবাইকে তল্লাশি করছেন।

গুলশান-বনানী সার্বজনীন পূজা ফাউন্ডেশনের প্রচার সম্পাদক সন্তোষ শর্মা জাগো নিউজকে বলেন, সকালে হাজার হাজার ভক্ত আমাদের মণ্ডপে অঞ্জলি দিয়েছেন। সবাই প্রসাদ পেয়েছেন। সন্ধ্যায় পূজা হয়েছে। রাতেও পূজার প্রস্তুতি চলছে। সার্বিকভাবে আমরা খুবই ভালো অবস্থায় আছি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দায়িত্বে আছে। আমাদের নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবকরাও আছেন। র‌্যাব, পুলিশ আনসার সবাই সহযোগিতা করছেন। বনানী সোসাইটিও আমাদেরকে সহযোগিতা করছে। এবারের পূজায় আমরা প্রার্থনায় অগ্রাধিকার দিচ্ছি করোনা অতিমারি থেকে মুক্তির। অষ্টমীর দিনে বৃটিশ হাইকমিশনার মণ্ডপটি পরিদর্শন করে বলেও জানান তিনি।

রাজধানীর মণ্ডপগুলোতে যেন কোনো প্রকার প্রভাব না পড়ে, তাই নির্বিঘ্নে পূজা সম্পন্ন করতে নিরাপত্তা জোরদার করতে সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

jagonews24

রমনার শ্রী শ্রী রমনা কালীমন্দির ও শ্রী মা আনন্দময়ী আশ্রমে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা শাহবাগ থানার অতিরিক্ত উপ-পরিদর্শক ফরিদ আহমেদ জাগো নিউজকে বলেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে। কুমিল্লার ঘটনার পর আমরা নিরাপত্তা আর জোরদার করেছি। এমনিতেও স্বাভাবিক যে নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকতো, তার চাইতে তিনস্তরের বাড়তি নিরাপত্তার ব্যবস্থা আমরা করেছি।

মহা অষ্টমীর দিনে কুমিল্লার একটি মন্দিরে কোরআন অবমাননা করা হয়েছে এমন খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। এক পর্যায়ে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ পরিস্থিতি শান্ত করতে গেলে তারাও তোপের মুখে পড়ে। সেখানে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। অভিযোগের পর উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ায় জেলা শহরে বিজিবি মোতায়েন করা হয়। এছাড়া সেখানে আসলে কী ঘটেছে, তা খতিয়ে দেখার নির্দেশ দিয়েছে ধর্ম মন্ত্রণালয়।

এমআইএস/ইএ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]