আদালতে খালেদা জিয়ার ২৩ দিন

জাহাঙ্গীর আলম
জাহাঙ্গীর আলম জাহাঙ্গীর আলম , নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১১:৩৬ এএম, ২৮ ডিসেম্বর ২০১৭

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে জিয়া অরফানেজ ও চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার বিচারিক কার্যক্রম প্রায় শেষ পর্যায়ে। এই দুই মামলায় চলতি বছরের ৩৬২ দিনের মধ্যে ২৩ দিন আদালতে হাজিরা দিয়েছেন খালেদা জিয়া। এ বছরের শেষ হাজিরা তিনি দিয়েছেন ২৮ ডিসেম্বরে। আর ৫ জানুয়ারি দেন বছরের প্রথম হাজিরা।

এ বছর ডিসেম্বর মাসে তিনি সবচাইতে বেশি আদালতে হাজিরা দিয়েছেন। মার্চ, জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর এই চার মাসে তাকে আদালতে হাজিরা দিয়ে হয়নি।  আর ফেব্রুয়ারি, এপ্রিল ও মে মাসে একদিন করে তিনি হাজিরা দিয়েছেন। আদালত সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। 

আদালত সূত্রে জানা যায়, রাজধানীর বকশিবাজারের আলিয়া মাদরাসা মাঠে স্থাপিত ঢাকার পাঁচ নং বিশেষ জজ ড. আখতারুজ্জামানের আদালতে ওই দুই মামলার যুক্তি উপস্থাপন চলছে। যুক্তি উপস্থাপনের জন্য দুই মামলার পরবর্তী তারিখ ৩ ও ৪ জানুয়ারি ধার্য করা হয়েছে।

মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের নামে অবৈধভাবে তিন কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা লেনদেনের অভিযোগ এনে খালেদা জিয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে ২০১০ সালের ৮ আগস্ট রাজধানীর তেজগাঁও থানায় মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

khaleda

যেসব তারিখে খালেদা জিয়া আদালতে হাজিরা দেন

মাস

কত দিন

তারিখ

জানুয়ারি

তিন দিন              

৫,১২ ও ৩০

ফেব্রুয়ারি

এক দিন

এপ্রিল

এক দিন

১৩

মে           

এক দিন

 ৮

জুন

চার দিন                

৮, ১৫, ২২ ও ২৯

অক্টোবর

দুই দিন

১৯ ও ২৬

নভেম্বর

চার দিন

২,৯,১৬ ও ২৩

ডিসেম্বর

সাত দিন

৫,১৯,২০,২১,২৬,২৭ ও ২৮

২০১২ সালের ১৬ জানুয়ারি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের উপ-পরিচালক হারুন-অর-রশীদ খালেদা জিয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন ঢাকার তৃতীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক বাসুদেব রায়।

এই মামলার অন্য আসামিরা হলেন- খালেদা জিয়ার সাবেক রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী (পলাতক), হারিছের তখনকার সহকারী একান্ত সচিব ও বিআইডব্লিউটিএর সাবেক নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক বিভাগের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক জিয়াউল ইসলাম মুন্না এবং ঢাকার সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার একান্ত সচিব মনিরুল ইসলাম খান।

khaleda

অপরদিকে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের দুই কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৪৩ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে ২০০৮ সালের ৩ জুলাই রাজধানীর রমনা থানায় মামলা করে দুদক। ২০১০ সালের ৫ আগস্ট তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন দুদকের উপ-পরিচালক হারুন-অর-রশীদ। ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন ঢাকার তৃতীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক বাসুদেব রায়।

খালেদা জিয়ার পক্ষে এ মামলায় চলতি বছরের মতো যুক্তি উপস্থাপন শেষ হয়েছে ২৮ ডিসেম্বর (বৃহস্পতিবার)। পরবর্তী যুক্তি উপস্থাপনের জন্য আগামী বছরের ৩ ও ৪ জানুয়ারি দিন ধার্য করেছেন বকশীবাজারের আলিয়া মাদরাসা মাঠে স্থাপিত বিশেষ জজ ড. আখতারুজ্জামান।

এ মামলায় খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান ছাড়াও অপর আসামিরা হলেন- মাগুরার সাবেক এমপি কাজী সালিমুল হক কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান।

জেএ/জেডএ/জেআইএম

৩৬২ দিনের মধ্যে আদালতে খালেদা জিয়ার ২৩ দিন। সবচেয়ে বেশি হাজিরা ডিসেম্বরে। মার্চ ও জুলাইয়ে হাজির হতে হয়নি। বছরের প্রথম হাজিরা ৫ জানুয়ারি, শেষ হাজিরা ২৮ ডিসেম্বর।