জ্বলেছে ফ্লাডলাইট নিভেছে হকির আলো

রফিকুল ইসলাম
রফিকুল ইসলাম রফিকুল ইসলাম , বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০১:৫৮ পিএম, ৩০ ডিসেম্বর ২০১৭

কালের গর্ভে হারিয়ে যাচ্ছে আরেকটি বছর। দুই দিন পর দেয়ালের পুরোনো ক্যালেন্ডারটি সরিয়ে সেখানে জায়গা করে নেবে নতুন আরেকটি। ২০১৮ সালকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুতি নিচ্ছে গোটা বিশ্ব। স্মৃতির খেরোখাতা থেকে ইতিমধ্যেই মানুষ মেলাতে শুরু করছে প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তির হিসাব। সমাজের অন্যান্য ক্ষেত্রের মতো ক্রীড়াঙ্গনে চলছে সফলতা ও ব্যর্থতার চুলচেরা বিশ্লেষণ। বিদায়ী বছরে দেশে ও দেশের বাইরে ক্রীড়াঙ্গনের উল্লেখযোগ্য দিকগুলো নিয়ে ধারাবাহিক পর্যালোচনার তৃতীয় পর্বে থাকছে হকি।

বছরের শুরুটা ভালোই ছিল দেশের হকির। মার্চে ঢাকায় বসেছিল হকি ওয়ার্ল্ড লিগের দ্বিতীয় পর্ব। ৮ জাতির ওই প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ ৫ নম্বর হলেও আয়োজনকে ঘিরে হকিতে তৈরি হয়েছিল প্রাণচাঞ্চল্যতা। হকি প্রেমীরা ধরেই নিয়েছিল, শুরুর মতোই শেষ হবে বছরটা; কিন্তু তাদের চাওয়া পূরণ হয়নি। আন্তর্জাতিক আসর হকিকে জাগিয়ে রাখলেও ঘরোয়া প্রতিযোগিতাগুলো নিয়ে বছরব্যাপী ঘুমিয়েছিল ফেডারেশন। দেশের হকিকে অন্ধকারে রেখেই বিদায় নিচ্ছে ২০১৭ সাল।

অথচ দীর্ঘ ৩২ বছর পর দ্বিতীয়বারের মতো এশিয়া কাপের আয়োজন ঘিরে আলোড়ন তৈরি হয়েছিল দেশের হকিতে। এশিয়ার সবচেয়ে বড় এ টুর্নামেন্ট উপলক্ষ্যে নতুন করে সেজেছিল মওলানা ভাসানী হকি স্টেডিয়াম। সবচেয়ে বড় পাওয়া ছিল, দেশের হকির প্রধান এ ভেন্যুতে ফ্লাডলাইট স্থাপন। এশিয়া কাপে ফ্লাডলাইট জ্বলেছে। আবার কবে জ্বলবে তা কেউ জানে না। ফ্লাডলাইটের মতো হকির আলোও জ্বলেই নিভে গেছে।

২০১৭ সালে অংশ নেয়া দুটি আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে বাংলাদেশ আহামরি কোনো ফলফল না করলেও সেগুলো হকিতে একটা উৎসবের আমেজ ফিরিয়ে আনতে পেরেছিল। সবার প্রত্যাশা ছিল অন্তত, এশিয়া কাপের পর হকির নৌকাটা চলমান থাকবে। বাস্তবে হয়েছে উল্টো। দল হিসেবে জিমিরা ষষ্ঠ হয়েছে। লক্ষ্যও ছিল তাই। তবে লক্ষ্য অর্জিত হলেও স্বাগতিকদের পারফরম্যান্স আশানুরূপ ছিল না। বাংলাদেশ মাত্র একটি ম্যাচ জিততে পেরেছিল চীনের বিপক্ষে পেনাল্টি শ্যুটআউটে।

jagonews24

দীর্ঘদিন পর এশিয়া কাপের আয়োজন করেই ঘুমিয়ে পড়ে দেশের হকির অভিভাবক সংস্থা বাংলাদেশ হকি ফেডারেশন। বছরের বাকি তিন মাস কোনো প্রকার কার্যক্রম ছাড়াই পার করে দিয়েছে মেয়াদ শেষ হওয়া ফেডারেশনের নির্বাচিত কমিটি। বাংলাদেশ হকি ফেডারেশনের নির্বাচিত কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে গত ৩০ জুলাই। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ ফেডারেশনের নির্বাচনও দিচ্ছে না, অ্যাডহক কমিটিও গঠন করছে না। কার্যত দেশের অন্যতম বড় এ ফেডারেশনে এখন কোনো কমিটিই নেই।

এশিয়া কাপের আগেই ফেডারেশনের নির্বাচন দেয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছিল জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ; কিন্তু মনোনয়নপত্র বিতরণের পর স্থগিত করা হয় সে নির্বাচন। ১৬ আগস্ট স্থগিত করা হয়েছে বাংলাদেশ হকি ফেডাশেনের নির্বাচন। নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল ২৭ আগস্ট। দেশের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি এবং এশিয়া কাপকে কারণ দেখিয়ে নির্বাচন স্থগিত করে দেশের খেলাধুলার অভিভাবক সংস্থাটি।

জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ বলেছিল, এশিয়া কাপের পর নির্বাচন হবে। বছর পার হয়ে গেলেও নির্বাচন আয়োজনের কোনো খবর নেই। নির্বাচন নেই, অ্যাডহক কমিটিও গঠন করছে না ক্রীড়া পরিষদ। যে কারণে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে দেশের অন্যতম জনপ্রিয় এ খেলায়। এমনকি বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে একটি টুর্নামেন্ট আয়োজনের ঘোষণা দিয়েও করতে পারেনি ফেডারেশন। আসলে ফেডারেশনের কোনো কমিটিই যে নেই!

জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ ভুগছে সিদ্ধান্তহীনতায়। হকিতে তারা নির্বাচন দেবে, নাকি অ্যাডহক কমিটি গঠন করবে- সে সিদ্ধান্ত নিতে পারছে না সংস্থাটি। আসলে ফেডারেশনগুলোর নির্বাচনের ক্ষেত্রে তারা ঠুঁটো জগন্নাথ। এখানে কলকাঠি নাড়েন অন্য এক পক্ষ। তাই ঝুলে আছে হকি নিয়ে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের সিদ্ধান্ত। আর অন্ধকারে ডুবে আছে দেশের হকি।

আরআই/আইএইচএস/আরআইপি