বছরজুড়ে আলোচনায় মডেল রাউধার মৃত্যু রহস্য

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক রাজশাহী
প্রকাশিত: ০২:১৭ পিএম, ৩১ ডিসেম্বর ২০১৭

বছরজুড়েই ঘুরে ফিরে আলোচনায় ছিল মালদ্বীপের মডেল কন্যা রাউধা আথিফে মৃত্যু রহস্য। আলোচিত এ মডেলের মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধানে এরই মধ্যে মাঠে নেমেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

এ বছরেরই ২৯ মার্চ ইসলামী ব্যাংক মেডিকেল কলেজ ছাত্রীনিবাস থেকে রাউধার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। গত নয় মাসেও মৃত্যু রহস্য নিয়ে ধোঁয়াশা কাটেনি।

তবে রহস্য ভেদে নামে আদালতের নির্দেশে মামলার তদন্ত শুরু করেছে পিবিআই। এর আগে মামলাটি তদন্ত করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। গত ১৭ অক্টোবর আদালতে মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদনও দেয় সিআইডি।

ওই প্রতিবেদনে রাউধা আত্মহত্যা করেছেন বলে উল্লেখ করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। তবে এ প্রতিবেদনে সন্তুষ্ট হতে পারেনি আদালত। এরই প্রেক্ষিতে মামলার তদন্ত ভার দেয়া হয় পিবিআইকে। এর আগে মামলাটি তদন্ত করে নগর গোয়েন্দা পুলিশ।

রাজশাহী পিবিআইয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তৌহিদুল আরিফ সাংবাদিকদের জানান, আদালত থেকে মামলার কাগজপত্র পাবার পর তদন্ত শুরু করেছে পিবিআই। এরই মধ্যে ছাত্রী নিবাসের যে কক্ষে রাওধার মরদেহ পাওয়া গেছে সেই কক্ষ পরিদর্শন করেছেন পিবিআই কর্মকর্তারা।

জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালের কয়েকজন শিক্ষক, কর্মকর্তা, শিক্ষার্থী ও কর্মচারীকে। পিবিআই পরিদর্শক আলমগীর হোসেন মামলাটি তদন্তর করছেন। এর আগের দিনও সংশ্লিষ্ট কয়েকটি স্থান পরিদর্শন করেন তিনি।

এ বছরেরই ২৯ মার্চ ইসলামী ব্যাংক মেডিকেল কলেজ ছাত্রীনিবাসের দ্বিতীয় তলার ২০৯ নম্বর কক্ষ থেকে রাউধা আথিফের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

২০১৬ সালের ১৪ জানুয়ারি ওই কক্ষে ওঠেন রাউধা। রাউধার বাড়ি মালদ্বীপের মালেতে। তার বাবা মোহাম্মদ আতিফ পেশায় চিকিৎসক। রাউধা প্রতিষ্ঠানটির এমবিবিএস দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। এ নিয়ে ওই দিনই হাসপাতালের সচিব আব্দুল আজিজ রিয়াজ থানায় অপমৃত্যু মামলা করেন।

১০ এপ্রিল রাউধার বাবা ডা. মোহাম্মদ আতিফ রাজশাহীর আদালতে একটি হত্যা মামলা করেন। পরদিন সেটি রেকর্ড করে শাহমখদুম থানা পুলিশ। মামলার এজাহারে বলা হয়, রাউধাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। মামলায় ভারতের কাশ্মিরের বাসিন্দা ও রাউধার সহপাঠী সিরাত পারভীন মাহমুদকে (২১) একমাত্র আসামি করা হয়।

গত ১৩ এপ্রিল এ নিয়ে দায়ের করা অপমৃত্যু ও হত্যা মামলার তদন্তভার দেয়া হয় সিআইডিকে। এরপর ১৫ এপ্রিল থেকে সিআইডি আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করে। সব মিলিয়ে দু’দফা ময়নাতদন্ত হয় মরদেহের।

এদিকে, মেয়ের মৃত্যুর কারণ খুঁজতে এসে গত ৯ জুন বিয়ের পিঁড়িতে বসেন রাউধার বাবা ডা. মোহাম্মদ আতিফ। রাজশাহী আদালতে নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে তিনি বিয়ে কনকলতা (৩০) নামের নারীকে। কনকলতা রাজশাহীর পবা উপজেলার নওহাটা পিল্লাপাড়া এলাকার বদিউজ্জামানের মেয়ে। রাউধা মারা যাওয়ার খবর পেয়ে পরেরদিন রাজশাহীতে আসেন তার বাবা ডা. আতিফ। এর থেকেই ডা. আতিফ রাজশাহীতেই থেকে যান।

বিখ্যাত সাময়িকী ‘ভোগ ইন্ডিয়া’ ২০১৬ সালের অক্টোবরে তাদের নবম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী সংখ্যা প্রকাশ করে। তাতে প্রচ্ছদ প্রতিবেদন হয় এশিয়ার বিভিন্ন দেশের মডেলদের নিয়ে। ‘বৈচিত্র্যের সৌন্দর্য উদযাপন’ (সেলিব্রেটিং বিউটি ইন ডাইভার্সিটি) শিরোনামের ওই প্রতিবেদনে স্থান পেয়েছিলেন মালদ্বীপের এ মডেল।

ভোগ ইন্ডিয়ার ওই প্রতিবেদনের জন্য দেয়া সাক্ষাৎকারে রাউধা বলেছিলেন, মডেলিং আমার কাছে পেশা নয়; শখই বেশি। পড়াশোনা শেষ করে চিকিৎসক হয়ে মানুষকে সাহায্য করা আমার কাছে সব সময়ের জন্য স্বপ্ন।

ফেরদৌস সিদ্দিকী/এএম/জেআইএম