ঘরের মাঠে ওয়ানডে আর টি-টোয়েন্টি না খেলার এক বছর

আরিফুর রহমান বাবু
আরিফুর রহমান বাবু আরিফুর রহমান বাবু , বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০৩:০০ পিএম, ৩১ ডিসেম্বর ২০১৭

সময়ের চাকা ঘুরে আর ক্যালেন্ডারের পাতা উল্টে প্রায় শেষের পথে ২০১৭। আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা পরই বিদায়ের করুণ সুর বেজে উঠবে। বিদায় নিবে ২০১৭ সাল। এরপরই শীতের কুয়াশা ঢাকা আকাশে উদিত হবে লাল সূর্য্য। এ সূর্য্য উঠবে নতুনের বার্তা নিয়ে। শুরু হবে ইংরেজি নতুন বছর; ২০১৮।

২০১৭‘র বিদায়ের রাগিনী বাজার আগে সবাই জের টানছেন ফেলে আসা ৩৬৫ দিনের। কেমন কাটলো বছরটা? ক্রীড়ানুরাগি, বিশেষ করে বাংলাদেশের ক্রিকেট ভক্তরা নিজেদের মধ্যে বলাবলি করছেন, ২০১৭ সালটা কেমন গেল?

এই বছরটাতে কেমন খেললো টাইগাররা? প্রাপ্তির ভান্ডারে কি জমা হল? পাওয়া আর না পাওয়ার অনুপাতটাই বা কেমন? সাফল্যের আনন্দের চেয়ে না পাবার বেদনা- হতাশাই কি বেশি প্রবল? এ সব নিয়ে অনেক রকম কথাই হচ্ছে। নতুন বছর শুরুর পরও হয়ত চলবে কিছুদিন।

খালি চোখে, ২০১৭ সালে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের ব্যস্ত সময়ই কেটেছে। এ বছর ১২ মাসের মধ্যে সেই জানুয়ারি থেকে অক্টোবরের প্রায় শেষ দিন পর্যন্ত ব্যপৃত আর বিস্তৃত ছিল জাতীয় দলের কার্যক্রম।

bd

বছর শুরুই হয়েছিল নিউজিল্যান্ডে সফরে থাকার মধ্য দিয়ে। দিনক্ষণের হিসেব কষলে দেখা যাবে টাইগারদের নিউজিল্যান্ড মিশন আসলে শুরু হয়েছিল ২০১৬ সালের ডিসেম্বওে; কিন্তু এ বছর মাশরাফি, তামিম, মুশফিক ও সাকিবরা প্রথম যে ম্যাচটি খেলতে মাঠে নামেন সেটা ছিল জানুয়ারির ৩ তারিখে; নেপিয়ারে।

সে কারণেই বলা হয়েছে, টাইগারদের ২০১৭ শুরু হয়েছিল নিউজিল্যান্ডে। আর শেষ হয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকায় (২৯ অক্টোবর)। চাওয়া-পাওয়া আর না পাওয়ার হিসেব মেলাতে হলে পরিসংখ্যানের দ্বারস্ত হতেই হবে।

পরিসংখ্যান পরিষ্কার জানাচ্ছে, এ বছর টিম বাংলাদেশ ৯টি টেস্ট, ১৪টি ওয়ানডে আর ৭টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছে। দেশ ও দেশের বাইরে মিলে সিরিজ সংখ্যা পাঁচটি। যার চারটি পূর্ণাঙ্গ (টেস্ট, ওয়ানডে আর টি-টোয়েন্টিসহ)। শুধু মার্চে ভারতের সাথে এক ম্যাচের টেস্ট সিরিজ ছিল। আর আগস্টে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঘরের মাঠে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজও খেলেছে টাইগাররা।

এর বাইরে জানুয়ারীতে নিউজিল্যান্ড, মার্চ-এপ্রিলে শ্রীলঙ্কা আর সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে দক্ষিণ আফ্রিকায় পূর্ণাঙ্গ সিরিজে অংশ নিয়েছেন বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা। এটাই শেষ নয়। এ বছর আরও দুটি বিদেশ সফর ছিল। যার একটি আয়ারল্যান্ড এবং অন্যটি ইংল্যান্ডে।

মে মাসে আয়ারল্যান্ডে তিনজাতি টুর্নামেন্ট খেলেছে মাশরাফির দল। আর জুনে যুক্তরাজ্যে বসা চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতেও অংশ নিয়েছে টাইগাররা। জয় পরাজয়ের হিসেব কষলে আগের মত আনুপাতিকহারে একদিনের ক্রিকেটে সাফল্যই বেশি।

একটি ছোট্র পরিসংখ্যানেই তা পরিষ্কার হয়ে যাবে। এ বছর ১৪ ওয়ানডে খেলেছে বাংলাদেশ। যার চারটি বৃষ্টিতে হয়েছে পন্ড। ফল নিষ্পত্তি হওয়া ১০ ম্যাচে টাইগারদের জয় সংখ্যা চার। হার ছয়টিতে।

bd

অন্যদিকে টিম বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছে ৭টি। জয় মাত্র একটিতে; (কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে ৬ এপ্রিল, ৪৫ রানের জয়)। একইভাবে টেস্টেও সাফল্যের তুলনায় ব্যর্থতার পাল্লা বেশি ভারি। ৯ টেস্টের ৭টিতেই হার। জয় মোটে দুটিতে।

২০১৬ সালে বাংলাদেশ ঘরের মাঠেই বেশি খেলেছিল। কতটা বেশি খেলেছে, তার প্রমাণে একটি ছোট্ট দলিল। ওই বছর দেশে ও বাইরে নানা সিরিজসহ মোট ৯টি ওয়ানডে খেলেছে টাইগাররা। তার ৬টিই হয়েছিল দেশের মাটিতে। আর সিরিজ ও টুর্নামেন্ট মিলে মোট ১৬টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচেও অংশ নিয়েছিল বাংলাদেশ। যার ৯টিই ছিল দেশের মাটিতে।

কিন্তু ২০১৭ সালে ঘটেছে বিরল ঘটনা। এ বছর দেশের মাটিতে কোন ওয়ানডে আর টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেনি মাশরাফি, তামিম, সাকিব ও মুশফিকরা। ৩৬৫ দিনে টেস্ট (৯টি), ওয়ানডে (১৪টি) আর টি-টোয়েন্টি (৭টি) মিলে ৩০টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেললেও দুটি টেস্ট ছাড়া বাকি ২৮ ম্যাচই ছিল দেশের বাইরে।

মানে সারা বছর দেশের মাটিতে টাইগাররা খেলেছে শুধুমাত্র দুটি টেস্ট। বলার অপেক্ষা রাখে না দুটি টেস্টই ছিল অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে (আগস্টে)। এ বছর ১৪ ওয়ানডের মধ্যে সর্বাধিক চারটি করে ম্যাচ খেলেছে আয়ারল্যান্ডের ডাবলিন ও ইংল্যান্ডে। এছাড়া শ্রীলঙ্কা ও দক্ষিণ আফ্রিকায় অংশ নিয়েছে তিনটি করে ওয়ানডেতে।

অন্যদিকে নয় টেস্টের দুটি মাত্র দেশে। আর সাতটিই বাইরে (নিউজিল্যান্ড, শ্রীলঙ্কা ও দক্ষিণ আফ্রিকায় সমান দুটি করে এবং ভারতে একটি ম্যাচ খেলেছে বাংলাদেশ)।

এআরবি/আইএইচএস/জেআইএম