নাদাল-ফেদেরারের রাজত্ব ফিরে পাওয়ার বছর

ক্রীড়া প্রতিবেদক ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৪:০৮ পিএম, ৩১ ডিসেম্বর ২০১৭

বয়স হয়ে গেছে ৩৭। টেনিসে তো এই বয়সে রীতিমত বুড়োই বলা যায়। এর সঙ্গে চোটে জর্জরিত। এমন অবস্থা থেকে ফেদেরারের কোর্টে ফিরে আসা সম্ভব নয়। সময় এখন বিদায় জানানোর। একই অবস্থা ৩১ বছর বয়সী রাফায়েল নাদালেরও। চোটের সঙ্গেই তো পেরে উঠছেন না, কোর্টে নামবেন কি করে! এমন কথা বছর শুরুর আগে প্রতিনিয়ত শুনতে হয়েছে ফেদেরার এবং নাদালকে।

অথচ এই দুইজন বছর শেষে যা করলেন তা রীতিমত বিস্ময়ের। বছরটা র্যাংকিংয়ের একে থেকে শেষ করেছেন নাদাল। আর দুইয়ে অবস্থান ফেদেরারের। শুধু তাই নয়, বছরের চারটি গ্র্যান্ডস্লাম সমান ভাগে ভাগ করে নিয়েছেন তারা দু’জন। অস্ট্রেলিয়ান ওপেন আর উইম্বলডন জিতেছেন দুইয়ে থাকা ফেদেরার। দীর্ঘদিন পর শীর্ষে ফেরা নাদাল জিতেছেন ফ্রেঞ্চ ওপেন আর ইউএস ওপেন। নিজের গ্র্যান্ডস্লাম সংখ্যা ফেদেরার নিয়ে গেছেন ১৯-এ, আর নাদাল নিলেন ১৬’য়।

বছরের শুরুটা করেন ফেদেরার। ২০১৬ সালের শেষ ছয় মাস ইনজুরির কারণে কোর্টের বাইরে থাকা ফেদেরার মৌসুমের প্রথম গ্র্যান্ড স্ল্যাম অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের শিরোপা জেতেন পঞ্চমবারের মত। শুধু তাই নয়, এ শিরোপার স্বাদ পেতে ফেদেরার হারান দীর্ঘদিনের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী নাদালকে। এ ছাড়া মারিন সিলিচকে পরাজিত করে নিজের অন্যতম ফেবারিট গ্র্যান্ডস্ল্যাম উইম্বলডনের শিরোপার স্বাদ পান রেকর্ড অষ্টমবারের মতো। সব মিলিয়ে গ্র্যান্ডস্লাম জয়ের সংখ্যা ১৯-এ নিয়ে অপেক্ষায় রয়েছেন, সাফল্যের মুকুটে আরও পালক যোগ করার। ২০১২ সালের উইম্বলডনের পর আর কোনো গ্র্যান্ডস্লামই জিততে পারছিলেন না সুইস কিংবদন্তি। অবশ্য চার বছরে তিনবার ফাইনাল খেলেছেন তিনি।

দুটি গ্র্যান্ড স্ল্যাম ছাড়াও বছরজুড়ে ফেদেরার অংশ নেন আরও ১১টি আসরে। ইন্ডিয়ান ওয়েলস, মিয়ামি ও সাংহাইয়ে তিনটি মাস্টার্সসহ জিতেছেন সর্বমোট সাতটি শিরোপা। সবমিলে ১২টি টুর্নামেন্ট খেলে ৭টিতে চ্যাম্পিয়ন, যার দুটো আবার গ্র্যান্ডস্লামে। জয়-পরাজয়ের পরিসংখ্যানটাও দুর্দান্ত। ৫২ জয়ের বিপরীতে হার মাত্র পাঁচটি। ২০১৭ সালে যেন সোনালি সময়ের ফেদেরারই ফিরে এসেছিলেন টেনিস কোর্টে।

অন্যদিকে আগামী বছর ৩২ বছর পা রাখতে যাওয়া নাদাল জয় করেন ক্যারিয়ারের ১০ম ফ্রেঞ্চ ওপেন। নাদালের ১৬টি গ্র্যান্ডস্লামের ১০টিই আবার ফ্রেঞ্চ ওপেন থেকে পাওয়া। নির্দিষ্ট একটা গ্র্যান্ডস্লামে কোনো খেলোয়াড়ের এমন দাপট, নাদালের সৌজন্যেই দেখেছে টেনিসবিশ্ব। ক্লে-কোর্টের অবিসংবাদিত রাজা তিনি। অথচ চোটের কারণে আগের দুই বছর রোলাঁ গাঁরোর লাল দুর্গে তিনি ছিলেন নিজের ছায়া হয়ে। এরপরও তাকে ফেবারিটের তালিকায় না রাখার দুঃসাহস দেখাননি কেউ। রাখবেন কী করে! মৌসুমের প্রথম গ্র্যান্ডস্লাম অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে ফাইনাল খেলেই তো তিনি বুঝিয়ে দিয়েছিলেন রাজত্বে ফেরার জন্য প্রস্তুতই রয়েছেন।

nadal-federer-1

মাঝে উইম্বলডনে নিজেকে মেলে ধরতে না পারলেও বছরের শেষ গ্র্যান্ডস্লাম ইউএস ওপেনেও হাসি স্প্যানিশ কিংবদন্তির মুখে। একই সঙ্গে ঝড়ঝাপটা কাটিয়ে অনেকটা পথ পাড়ি দিয়ে নাদাল ফিরে পান র্যাংকিংয়ের শীর্ষস্থান। গ্র্যান্ড স্লাম জয় ছাড়াও চলতি বছরটা দুর্দান্ত যায় নাদালের। পুরো বছরে ৬৭ জয়ের বিপরীতে তার হার ১১টি। সঙ্গে শিরোপা জেতেন আরও ৪টি।

নতুন মৌসুমেও ক্যারিয়ারের জন্য হুমকি সেই হাঁটুর ইনজুরি এখনো নাদালের পিছু ছাড়েনি। বছরের শেষ টুর্নামেন্ট ওয়ার্ল্ড ট্যুর ফাইনালে প্রথম রাউন্ডের পরেই এই ইনজুরির কারণে নাম প্রত্যাহার করে নেন এই স্পানিশ তারকা। আবার ২৮-৩০ ডিসেম্বর সংযুক্ত আরব আমিরাতে অনুষ্ঠিতব্য প্রীতি টুর্নামেন্টও খেলা হচ্ছে না। শুধু তাই নয় আগামী সপ্তাহে ব্রিসবেন টুর্নামেন্টের মাধ্যমে নতুন বছর শুরু করাই এখন নাদালের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ।

এদিকে চলতি মৌসুমটা ছিল নোভাক জকোভিচ ও অ্যান্ডি মারের জন্য অনেকটা হতাশার। ইনজুরির সঙ্গে লড়াই করে শেষ পর্যন্ত হাতে ওঠেনি কোন শিরোপাই। জকোভিচ ইনজুরি কাটিয়ে কোর্টে ফিরলেও সাবেক শীর্ষ তারকা অ্যান্ডি মারে কোমরের ইনজুরিতে অস্ট্রেলিয়া সফরে তাই মারের যাওয়া এখনো অনিশ্চিত।

ছেলেদের টেনিসে বছরটা নাদাল আর ফেদেরার নিজেদের করে নিতে পারলেও মেয়েদের টেনিসে তেমনটা কেউ পারেননি। বছরের চারটি গ্র্যান্ডস্লাম জিতেছেন ভিন্ন চারজন। অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের শিরোপা জেতেন সেরেনা উইলিয়ামস। এতে জার্মান কিংবদন্তি স্টেফি গ্রাফের সর্বোচ্চ ২২টি গ্র্যান্ড স্লাম জয়ের রেকর্ড বছরের শুরুতে ভেঙে দেন। ২৩টি গ্র্যান্ডস্ল্যামের মালকিন মাতৃত্বজনিত কারণে অস্ট্রেলিয়ান ওপেন জয়ের পর আর কোনো টুর্নামেন্টে খেলেননি। ওই শিরোপাটাও তিনি জিতেছিলেন অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায়।

মাতৃত্বকালীন ছুটির কারণে নারীদের টেনিসে অস্ট্রেলিয়ান ওপেন জয়ের পর কোর্টে নামতে পারেননি সেরেনা উইলিয়ামস। ফলে ফরাসি ওপেন, উইম্বলডন ও ইউএস ওপেন পেয়েছে তিন নতুন চ্যাম্পিয়নকে- ইয়েলেনা ওস্তাপেঙ্কো, গারবিন মুগুরুজা ও স্লোন স্টিভেন্স। তবে শীর্ষে থেকে বছর শেষ করেছেন কোনো গ্র্যান্ডস্লাম না জেতা রোমানিয়ার সিমোনা হালেপ।

এমআর/আইএইচএস/জেআইএম

আপনার মতামত লিখুন :