ছিনতাইকারীর কাছে খোলা চিঠি!

জাগো নিউজ ডেস্ক
জাগো নিউজ ডেস্ক জাগো নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৯:৩১ এএম, ১৬ জানুয়ারি ২০২২

আবদুল্লাহ আল ইমরান

প্রিয় ছিনতাইকারী ভাই, আমি চাই, চিঠিটি আপনার নজরে পড়ুক। আজ (শনিবার দিবাগত রাত) রাত ১০টা ২৫ মিনিটের কাছাকাছি সময়ে আপনি ধানমন্ডি ৭ নম্বর সড়কের বেক্সিমকো অফিস এবং ঢাকা ব্যাংকের মোড় এলাকা থেকে আমার স্যামসাং এস২১ ফোনটি সুকৌশলে টান দিয়ে নিয়ে গেছেন। আমি তখন একটি জরুরি ফোন কলে ছিলাম এবং আপনি ছিলেন বাইকে।

আমি দৌঁড়ে অনেকটা গিয়ে চিৎকার করে শুধু বলতে পেরেছিলাম, ভাই, সাংবাদিকের ফোন, লাভ নাই...। কি মনে করে আপনি বাইকটা একবার স্লো করলেন। মনে হলো, আপনি বুঝি ফোনটা ফেলে যাবেন। কিন্তু আপনি তা করলেন না। একবার শুধু পেছনে তাকিয়ে আমাকে দেখলেন, তারপর বাইকের গতি বাড়িয়ে কলাবাগান বাসস্ট্যান্ডের দিকে টান দিলেন।

যেহেতু টেলিভিশনে প্রায়শই আমাকে দেখা যায় এবং আপনি তেজগাঁও এলাকায় আড্ডা দেন, আমি ভেবেছিলাম, চ্যানেল টোয়েন্টিফোরের এই অধম রিপোর্টারের চেহারা আপনি চিনতে পারবেন। তাছাড়া গত কয়েক বছরে আমার আলোচিত রিপোর্টগুলোও নিশ্চয়ই আপনি দেখেছেন বা আমার বই পড়েছেন, হয়তো আমাকে নিয়ে গর্ব করে স্ট্যাটাসও দিয়েছেন!

আপনি হয়তো ফোনটি বিক্রি করে কিছু টাকা পাবেন, আর আমি সারা বছর যাদের সঙ্গে কাজ করি, অর্থাৎ পুলিশের ভাই-বন্ধুরা অল্প দিনেই ফোনটি খুঁজে বের করে ফেলবেন। কিন্তু আপনি যদি ডাটাগুলো ধ্বংস করেন, আমার ক্ষতি হবে ভাই। ফোন পেলেও তাই লাভ নেই যদি না ডাটাগুলো অক্ষত থাকে!

ফোনটি প্লিজ ফেরত দিয়ে যান। ফোনটি ফেরত দেওয়ার উপায়ও খুব সহজ। ফোনটি ছিনতাই করে আপনি তেজগাঁও ট্রাক স্ট্যান্ডের যে দিকটায় গেছেন এবং সর্বশেষ আপনার রেডিও লোকেশন যেখানে পেলাম, সেখান থেকে আমার অফিস চ্যানেল টোয়েন্টিফোরের দূরত্ব মাত্র ২০০-২৫০ গজ।

আপনি এই চিঠিটা পড়ামাত্র আমার অফিসের রিসিপশনে আমার নাম, অর্থাৎ আবদুল্লাহ আল ইমরান, বলে একটা প্যাকেটে ফোনটা রেখে আসতে পারেন, কেননা আমার কাছে এমন অনেক ফাইলই আসে।

বিনিময়ে আপনি যে পুরস্কার চান এবং সেটি নেওয়ার উপায়ও বলে দিতে পারেন, আমি দিতে রাজি আছি। একটা দৃষ্ঠান্ত স্থাপন করেন যে, সমাজ বা পরিস্থিতি হয়তো আপনাকে ছিনতাইকারী বানিয়েছে, কিন্তু দিনশেষে আপনিও মানুষ।

দেশ ও দশের জন্য আমার বিগত কাজগুলোর কথা ভেবে হলেও অক্ষত ডাটাসহ আমার ফোনটি দয়া করে ফিরিয়ে দিন, কে জানে সামনের দিনে আমি হয়তো আপনার কোনো উপকারেও লাগতে পারি!

আর যদি আপনি এই পোস্ট না দেখেন, ফোনটা আমি না পাই, তবে আমি এই ফোনের পেছনে এবং আপনার পেছনে ঠিকই লেগে থাকব, কেননা আপনাকে খুঁজে পেতে আমার হয়তো কিছুদিন সময় লাগবে, বিশ্বাস করেন ব্যর্থ হবো না।

কে জানে, পরিকল্পিত অনুসরণ করেছেন কি না!

বিনীত অনুরোধে-
আবদুল্লাহ আল ইমরান
অনুসন্ধানী সাংবাদিক

এমকেআর/এএসএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]