‘শিক্ষকদের লিফট সচল থাকলেও কয়েক দফায় আট তলায় হেঁটে ওঠানামা করলাম’

জাগো নিউজ ডেস্ক
জাগো নিউজ ডেস্ক জাগো নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: ১১:৩৯ এএম, ১৫ জানুয়ারি ২০২২
প্রতীকী ছবি

আলতাফ পারভেজ

ভর্তি সংক্রান্ত কাজে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটা অনুষদে যেতে হয়েছে দুদিন।

যে বিভাগে বারবার যেতে হচ্ছিলো সেটা আট তলায়। পুরো ভবন আরও উঁচু। তাতে সবমিলে ১৩টা বিভাগ। শিক্ষক-শিক্ষার্থী-কর্মচারী সংখ্যা মিলে ভবনে বিপুল মানুষের আসা-যাওয়া। উপরন্তু ভর্তি মওসুম চলছে। অনেক বৃদ্ধ অভিভাবকও আসছিলেন সন্তানদের নিয়ে এখানে।

১৩টি বিভাগের সুউচ্চ এই ভবনে দেখলাম মাত্র দুটি লিফট। ভবিষ্যতে আরও হবে। তার আয়োজনও আছে। কিন্তু এখন যে দুটি লিফট রয়েছে তার একটির সামনে সকাল হলেই শিক্ষার্থী-কর্মচারী-অভিভাবকদের ব্যাপক ভিড় লেগে যায়। প্রতি দফায় ১৮ জন করে গাদাগাদি করে ওঠা যায়। ১০-২০ মিনিট আগে লিফটে ওঠারই সুযোগ মেলে না। অথচ দুই হাত দূরত্বে পাশেই ‘শিক্ষকদের জন্য সংরক্ষিত’ লিফটটি সচল হলেও খালি পড়ে থাকে। প্রহরী দিয়ে রাখা হয়েছে—কোনো শিক্ষার্থী বা অভিভাবককে উঠতে দেওয়া হয় না। জরুরি হলেও নয়।

ওই লিফটি খালি থাকার পরও আমি কয়েক দফায় আট তলায় পায়ে হেঁটে ওঠানামা করলাম। উঠতে উঠতে ভাবছিলাম—কী করুণ, নির্মম, জঘন্য ভিআইপি প্রথা কায়েম করেছি আমরা দেশজুড়ে প্রায় সকল স্তরে! কবে এসব বর্ণপ্রথা থেকে সমাজ জীবন মুক্তি পাবে? শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা একসঙ্গে লিফটে চড়লে জাত চলে যাচ্ছে কারও?

কাঠামোগত এসব উপনিবেশিক মনস্তত্ত্ব থেকে শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানগুলোকে মুক্তি দেওয়া গেল না আজও!

(লেখক ও গবেষক আলতাফ পারভেজের ফেসবুক পোস্ট)

এইচএ/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]